শোকাতুর রাজনীতি জনআকাঙ্ক্ষা এবং অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের প্রতীক্ষা

জাগো নিউজ ২৪ ড. হারুন রশীদ প্রকাশিত: ০৩ জানুয়ারি ২০২৬, ১২:২৫

নতুন বছরের সূর্যোদয় সবসময়ই নতুন আশার বার্তা নিয়ে আসে। তবে ২০২৬ সালের এই নতুন ভোরটি বাংলাদেশের রাজনীতির জন্য কেবল একটি ক্যালেন্ডারের পাতা পরিবর্তন নয়, বরং এটি এক গভীর আত্মোপলব্ধি এবং পুনর্গঠনের বছর। গত কয়েক বছরের রাজনৈতিক অস্থিরতা, সংস্কারের লড়াই এবং জনমতের পরিবর্তনের পর দেশ এখন এমন এক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে, যেখানে সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা আকাশচুম্বী।


বিশেষ করে ২০২৬ সালের শুরুতে বাংলাদেশের রাজনীতিতে বেগম খালেদা জিয়ার প্রয়াণ-পরবর্তী বাস্তবতায় এক নতুন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রীর চলে যাওয়া কেবল একটি রাজনৈতিক দলের শূন্যতা নয়, বরং কয়েক দশকের দ্বিমেরুকেন্দ্রিক রাজনীতির একটি অধ্যায়ের পরিসমাপ্তি। এই নতুন বাস্তবতায়ই আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। এরই মধ্যে মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ সীমা পার হয়েছে গত ২৯ ডিসেম্বর। দেশ এখন পুরোপুরি নির্বাচনি আবহে।


বলতে গেলে ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি ভাগ্যনির্ধারক দিন হতে যাচ্ছে। একটি দীর্ঘ রাজনৈতিক পরিক্রমা ও সংস্কার প্রক্রিয়ার পর এই জাতীয় নির্বাচন কেবল জনমত প্রতিফলনের মাধ্যম নয়, বরং এটি রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক ভিত্তি পুনর্গঠনের এক মহাপরীক্ষা। সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা—এবারের ভোট হবে প্রকৃত অর্থেই অংশগ্রহণমূলক এবং কারচুপিমুক্ত।


একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের প্রথম শর্ত হলো ভোটারদের নির্ভয়ে কেন্দ্রে যাওয়ার পরিবেশ তৈরি করা। ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে ভোটাররা যেন কোনো চাপ বা ভয়ভীতি ছাড়া তাদের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে পারেন, তা নিশ্চিত করা নির্বাচন কমিশনের প্রধান দায়িত্ব। প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার এবং কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থার মাধ্যমে প্রতিটি ভোটকেন্দ্রকে নিরাপদ রাখা জরুরি।


গণতন্ত্র তখনই সার্থক হয় যখন সব রাজনৈতিক দল নির্বাচনি প্রক্রিয়ায় স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেয়। ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক করতে হলে সব দলের জন্য ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ বা সমান সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে। কোনো বিশেষ দলকে সুবিধা না দিয়ে নিরপেক্ষতা বজায় রাখা সরকারের পাশাপাশি নির্বাচন সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর নৈতিক বাধ্যবাধকতা।


১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন অবাধ করার ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা হবে ইতিহাসের পাতায় দালিলিক প্রমাণের মতো। কমিশনকে প্রমাণ করতে হবে তারা কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর অনুগত নয়, বরং সংবিধানের রক্ষক। প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে শতভাগ নিরপেক্ষভাবে পরিচালনা করার চ্যালেঞ্জ কমিশনকে দৃঢ়তার সাথে গ্রহণ করতে হবে।


সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য কেবল প্রশাসন নয়, নাগরিকদেরও দায়িত্বশীল হতে হবে। প্রার্থীরা যেন জনকল্যাণমুখী ইশতেহার নিয়ে জনগণের সামনে হাজির হন এবং ভোট যেন পেশিশক্তি বা অর্থের বিনিময়ে না হয়, সেদিকে সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে। নাগরিক সমাজ ও গণমাধ্যমের কার্যকর পর্যবেক্ষণ নির্বাচনি স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।

সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ুন

প্রতিদিন ৩৫০০+ সংবাদ পড়ুন প্রিয়-তে

আরও