খালেদা জিয়ার অভিভাবকত্ব এ মুহূর্তে সবচেয়ে জরুরি ছিল

প্রথম আলো জাহেদ উর রহমান প্রকাশিত: ০১ জানুয়ারি ২০২৬, ১৫:৫৫

বাংলাদেশে নির্বাচন হয়েছে, সে নির্বাচনে নিজ হাতে গড়া দলটি (বিএনপির পত্তন জিয়াউর রহমানের হাতে হলেও এই একটি পূর্ণাঙ্গ রাজনৈতিক দল হিসেবে গড়ে উঠেছে খালেদা জিয়ার হাত ধরেই) দীর্ঘ সময় পর ক্ষমতায় গেছে এবং সেই সরকারের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান উপভোগ করছেন খালেদা জিয়া—এমন একটা দৃশ্য না দেখার আফসোস সম্ভবত থেকে যাবে আমাদের। সত্যি বলতে, এটা দেখে যাওয়ার সবচেয়ে বড় অধিকার ছিল তাঁরই।


শেখ হাসিনাবিরোধী লড়াইয়ে সবচেয়ে বড় নামটি খালেদা জিয়া। প্রথম আলোতে আগে একটি কলামে লিখেছিলাম, শেখ হাসিনা কম্বোডিয়ার প্রধানমন্ত্রী হুন সেনের মতো করে আরও অনেক বেশি সময় ক্ষমতায় টিকে থাকতে পারেননি কারণ, তিনি সর্বোচ্চ চেষ্টা করেও বিএনপিকে ভেঙে ফেলতে পারেননি (যেটা পেরেছিলেন হুন সেন)।


এ ঘটনা ঘটতে পেরেছে একদিকে বিদেশে থেকেও দলকে চমৎকারভাবে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন তারেক রহমান, অপর দিকে দেশে থেকেও কোনো চাপ বা সুবিধাপ্রাপ্তির বিনিময়ে দেশত্যাগ না করা আপসহীন খালেদা জিয়ার লড়াই।


খালেদা জিয়ার রাজনীতি এবং তাঁর ব্যক্তিত্বের নানা দিক নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় আলোচনা হচ্ছে। তাঁর চরিত্রের একটি দিক আমাদের দেশের অনাগত সময়ে খুবই জরুরি।


পরিবার ও নিজের গড়া রাজনৈতিক দলের ওপরে তো বটেই, ব্যক্তিগতভাবেও এমন কোনো নিগ্রহ নেই, যেটার শিকার তিনি শেখ হাসিনার দ্বারা হননি। শেখ হাসিনার পতনের পর খালেদা জিয়া যদি শেখ হাসিনার প্রতি তাঁর যৌক্তিক ক্ষোভ প্রকাশ করতেন, সেটাকে মানুষ খুব ভালোভাবেই গ্রহণ করতেন। কিন্তু ইতিহাসে লেখা থাকবে, ৫ আগস্ট ২০২৪ থেকে মৃত্যুর আগপর্যন্ত একটিবারের জন্যও তিনি এমনকি মৃদু ভাষায়ও ক্ষোভ প্রকাশ করেননি।


শুধু এই সময়েই নয়, তিনি জেলে যাওয়ার আগেও শেখ হাসিনার নিজের মুখে এবং তাঁর দলের লোকজনের তাঁর প্রতি অকথ্য মিথ্যা কুৎসার জবাবে কখনোই কিছু বলেননি। পুরো রাজনৈতিক জীবনে তিনি গড়েছিলেন সভ্যতা, ভদ্রতা, মৃদুভাষণের এক অসাধারণ নজির। বেঁচে থাকলে এবং কর্মক্ষম থাকলে তিনি ভবিষ্যতেও নিশ্চিতভাবেই তাঁর এই প্রকাশের ধরন অব্যাহত রাখতেন।


এ কাজটি খালেদা জিয়া (তাঁর সন্তান তারেক রহমানও) এমন সময়ে করছেন, যখন সারা পৃথিবীতে ডানপন্থী জনতুষ্টিবাদী রাজনীতির জয়জয়কার চলছে। পপুলিস্ট ও ডেমাগগ রাজনৈতিক নেতারা মানুষের রাগ-ক্ষোভ, বিদ্বেষ, বিভেদ ক্রমাগত উসকে দেওয়ার জন্য ক্রুদ্ধ ভাষা ব্যবহার করছেন। বৈশ্বিক এই প্রবণতা এসে হাজির হয়েছে বাংলাদেশেও। তার ওপর দীর্ঘ সময় স্বৈরাচারী শাসনের অধীনে থেকে আমাদের ধৈর্য ও সহিষ্ণুতা একেবারে তলানিতে। এ কারণে আমাদের ঝুঁকি অনেক বেশি।


এ যাত্রা বেগম খালেদা জিয়া যখন মারাত্মক অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন, তখন তাঁর অসুস্থতার যে বিস্তারিত বিবরণ আমাদের সামনে এসেছিল, তাতে তাঁর এবার ফিরে আসা নিয়ে বড় সংশয় ছিল। তখন থেকেই মনে হচ্ছিল, তিনি যদি চলে যান, আমাদের একটা বড় ক্ষতি হয়ে যাবে। জীবনের পরের দিক থেকে জীবনের শেষ পর্যন্ত অত্যন্ত কষ্টসংকুল একটি জীবন কাটিয়েছেন তিনি। কিন্তু বিদায় নেওয়ার আগেই তিনি দেখে গিয়েছিলেন, একটি দলের প্রধান হলেও তিনি হয়ে উঠেছিলেন দলমত–নির্বিশেষে সব মানুষের এক অভিভাবক।

সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ুন

প্রতিদিন ৩৫০০+ সংবাদ পড়ুন প্রিয়-তে

এই সম্পর্কিত

আরও