গণমানুষের নেতা আব্দুল্লাহ আল নোমান

ঢাকা পোষ্ট সায়ন্থ সাখাওয়াৎ প্রকাশিত: ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, ১৭:২৬

বাংলাদেশে দিনদিন ‘রাজনীতিবিদ’-এর সংখ্যা কমে যাচ্ছে। এই যেমন ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ চলে গেলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা, বিএনপির কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান, সাবেক মন্ত্রী আব্দুল্লাহ আল নোমান। একইদিনে তার রাজনীতির শহর চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপির সমাবেশে প্রধান বক্তা হিসেবে থাকার কথা ছিল।


আবদুল্লাহ আল নোমান ছিলেন এমন একজন নেতা যার কথা, আচরণ ও কাজ দেখলে যে কারও মনে হতো তিনি একজন প্রকৃত রাজনৈতিক নেতা। এখন তো সংখ্যার বিচারে নেতা অনেক। কিন্তু তাদের মধ্যে ‘রাজনীতিবিদ’ কতজন? একজন রাজনীতিবিদের যে বিশেষ অবয়ব আমাদের কল্পনায় ভাসে, মানে জনহিতৈষী, পরোপকারী, দেশপ্রেমিক, চলনে-বলনে সাধারণ কিন্তু ব্যক্তিত্বে ও কাজে অসাধারণ, তার সবই ছিল আব্দুল্লাহ আল নোমানের মধ্যে। 


তাকে চিনি এবং জানি বহু বছর ধরে। তাকে না চেনার কোনো সুযোগই ছিল না। ওই যে বললাম, তাকে দেখলেই রাজনীতিবিদ মনে হতো! অ্যা ট্রু পলিটিশিয়ান। তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির মনোনয়নে জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন তিনবার। বিভিন্ন সময়ে তিনি চারটি মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তার যোগ্যতা ও সততা নিয়ে কখনো প্রশ্ন ওঠেনি।


২০১৬ সালে তাকে খুব কাছ থেকে দেখার সুযোগ হয়েছিল। সে বছর ১৯ মার্চ অনুষ্ঠিত হয় বিএনপির ষষ্ঠ জাতীয় কাউন্সিল। কাউন্সিলে প্রকাশনা বিষয়ক উপ-কমিটির প্রধান ছিলেন তিনি। আমি ছিলাম সেই কমিটির একজন সদস্য। প্রকাশনার কাজ করতে গিয়ে দেখেছি তিনি কতটা দরদ দিয়ে নিখুঁত কাজ করার চেষ্টা করেন।



তাকে আমি দুইটা আইডিয়া দিয়েছিলাম। বলেছিলাম, প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও বিএনপির অর্জন অনেক। কিন্তু সেই অর্জনের প্রচার কম। দলীয় নেতাকর্মীদের অনেকেই জানেন না সেইসব অর্জনের কথা। যেমন ধরুন একুশে পদক, স্বাধীনতা পুরস্কার যে জিয়াউর রহমানের সময়ে প্রবর্তিত হয়েছে এবং নিরপেক্ষ যাচাইবাছাইয়ের মাধ্যমে সত্যিকারের গুণীজনদেরই সে পুরস্কার দেওয়া হয়েছে সেটা বিএনপিরই ক’জনে জানেন?


যদি ছোট পরিসরে একটা বই বের করা যায় যেখানে মেদমুক্তভাবে সংক্ষেপে অর্জনগুলো তুলে ধরা যায়, তাহলে নেতাকর্মীরা তাতে একটু আধটু চোখ বুলাতে পারে। তিনি কিছুক্ষণ আমার কথা শুনে বললেন, খুবই ভালো আইডিয়া। কিন্তু এত অল্প সময়ের মধ্যে এ বই লিখবে কে? তুমি যদি লেখার দায়িত্ব নাও তাহলে অবশ্যই আমরা কাউন্সিল উপলক্ষে এটা প্রকাশ করে কাউন্সিলরদের হাতে পৌঁছে দেবো। তিনি এমনভাবে বললেন যে, আমি আর না করতে পারলাম না। আমার লেখা ‘উন্নয়নে অর্জনে বিএনপি’ শিরোনামে বইটা প্রকাশ করলেন তিনি।


তাকে আরেকটি আইডিয়া দিয়েছিলাম। সেটাও গ্রহণ করেছিলেন সানন্দে এবং তার সম্পাদনার দায়িত্বও দিয়েছিলেন আমাকেই। বাংলাদেশে পলিটিক্যাল কার্টুনিস্ট হিসেবে আসিফুল হুদা অনন্য। হুদার কার্টুন মানেই রাজনীতির অনেক বার্তা। তাই বললাম, তার কার্টুনগুলো যদি বিষয়ভিত্তিকভাবে ভাগ করে একেকটা অধ্যায় করা যায়, যার শুরুতে সামান্য ভূমিকা থাকবে এবং তার পরে প্রাসঙ্গিক কার্টুনগুলো থাকবে। গুম-খুন, দাদাগিরি, অত্যাচার, দুর্নীতি, নির্বাচন, শেখ হাসিনা—এমন বেশ কয়েকটি অধ্যায় মিলে বহু বিষয়ক কার্টুন ছিল বইটিতে।


আসিফুল হুদাকে অনুরোধ করে কিছু নতুন কার্টুন আঁকিয়ে অনেক সময়, শ্রম দিয়ে তৈরি করার পরেও শেষ পর্যন্ত কার্টুনের বইটি প্রকাশ করতে না পারার আক্ষেপ তিনি প্রকাশ করেছিলেন বেশ কয়েকবার। বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার উপস্থিতিতে একজন সিনিয়র নেতা আশঙ্কা করেছিলেন যে, এই কার্টুনের বইটি প্রকাশ করলে শেখ হাসিনা ক্ষুব্ধ হতে পারেন এবং এর কারণে সরকার কাউন্সিলে বাধা দিতে পারে। সে কারণে নাকি বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছিল কার্টুনের বইটির প্রকাশনা।

সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ুন

প্রতিদিন ৩৫০০+ সংবাদ পড়ুন প্রিয়-তে

এই সম্পর্কিত

আরও