আর্কাইভসের গুরুত্ব ও ইতিহাসের খোলা সত্য নিয়ে কিছু প্রশ্ন

প্রথম আলো আশফাক হোসেন প্রকাশিত: ০৯ জুন ২০২৪, ০৯:৩৬

আন্তর্জাতিক আর্কাইভস দিবস (৯ জুন) উপলক্ষে আজ এ লেখার অবতারণা করছি। কী বিষয়ে লিখব, এমন ভাবনা যখন আমাকে পেয়ে বসেছে, তখনই এমন দুটি বিরল বিষয়ের কথা মনে পড়ল, যার সঙ্গে ইতিহাসের গভীর তাৎপর্যময় ঘটনাবলি এবং ‘নগ্ন সত্য’ আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে আছে। একই সঙ্গে বর্তমান প্রজন্মের কিছু গবেষকের পরিশ্রমহীনতা ও একাধিক উৎস থেকে তথ্য যাচাই করতে অনীহার বিষয়টি জড়িয়ে আছে। এই লেখায় আজ আমি তুলে ধরব ইতিহাস গবেষণায় একজন গবেষককে কী পরিমাণে সতর্ক হতে হবে; সত্যনিষ্ঠ, পরিশ্রমী হতে হবে এবং যে সময়ের ইতিহাস তিনি লিখছেন, সেই সময়ে প্রকৃতপক্ষে কী ঘটেছিল, তা জানতে প্রয়োজনীয় শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে নিজেকে প্রস্তুত করতে হবে এই প্রসঙ্গে।


প্রথমেই বলে রাখা ভালো যে বিশ শতকের মধ্যভাগ থেকে বিশেষত দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ইতিহাস লেখার পদ্ধতিতে মৌখিক/কথ্য ইতিহাস ‘বিপ্লব’ নিয়ে আসে। যুদ্ধে অংশগ্রহণকারী কর্মকর্তা, সৈনিক, রাজনীতিক সবাই স্মৃতিকথা লিখে যান, গবেষক ও মিডিয়ার কর্মীরা তাঁদের সাক্ষাৎকার নিয়ে হুড়োহুড়ি শুরু করেন। বিশেষ করে বিজয়ী ইউরোপ ও আমেরিকার দেশগুলোয় তাঁদের ‘জাতীয় বীর’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। শুরু হয় বিজয়ী দেশগুলোর ঐতিহাসিক ন্যারেটিভের নতুন ‘উন্মাদনা’, যা সংবাদপত্রের যুগ পেরিয়ে রেডিও ও টেলিভিশনের যুগে প্রবেশ করে এবং যুদ্ধের ইতিহাস নিয়মিত বা প্রাত্যহিক কিংবা সাপ্তাহিক ‘ব্রেক ফাস্ট নিউজ’ অনুষ্ঠানের অংশ হয়ে যায়। তখন এসব মৌখিক ইতিহাস সাড়া ফেলে দেয়।


এ ছাড়া বি-উপনিবেশায়নের যুগে এশিয়া ও আফ্রিকায় জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের নেতা, সংগঠক ও কর্মীদের সাক্ষাৎকার গ্রহণ, তাঁদের লেখা আত্মজীবনী, ব্যক্তিগত ডায়েরি ইত্যাদি ইতিহাস লেখার নিত্য নতুন উপাদান হিসেবে সংযুক্ত হতে থাকে। তবে স্মৃতিভ্রম ও এককালের ঘটনা অন্য কালে বর্ণনার সময় মানবসন্তান, তা যেকোনো দেশের হোক না কেন ‘রংচং’ মাখিয়ে অথবা ইচ্ছা করে অথবা কিছুটা হলে বাড়িয়ে বলেন।


এসব উপাদান আবার বিশ্বের বিভিন্ন দেশের আর্কাইভসেও সংরক্ষণ করার বিষয়টি চালু হয়। ফলে একসময় যেমন গবেষক ও ঐতিহাসিকেরা প্রধানত নির্ভর করতেন সরকারি দলিলপত্র, সভা-সমিতির কার্যবিবরণী ও গাণিতিক বিভিন্ন তথ্য, যেমন প্রতি একরে খাদ্যশস্য উৎপাদন, আদমশুমারি কিংবা নির্বাচনের ভোটার তালিকা, প্রদত্ত ভোট ও নির্বাচনের ফলাফল ইত্যাদি বিষয়ের ওপর।


এখন এসবের পাশাপাশি নতুনভাবে এসে যুক্ত হয় মৌখিক ইতিহাস। আর্কাইভসে সংরক্ষিত দলিলপত্রের ওপর প্রধান নির্ভরতা বর্তমান সময়ে যে হ্রাস পেয়েছে, তা নয়। বরং গবেষকের খাটুনি, সতর্ক পর্যবেক্ষণ যেমন অপরিহার্য, ঠিক তেমনি যেকোনো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণের সময় আর্কাইভস বা মহাফেজখানায় প্রদত্ত তথ্যের সঙ্গে একাধিক সূত্র থেকে প্রাপ্ত তথ্যগুলো যাচাই-বাছাই করার মতো কঠোর পরিশ্রমের বিষয়টি নতুনভাবে সংযুক্ত হয়েছে।


ঔপনিবেশিক আমলে দেশে বা বিদেশের বিভিন্ন মহাফেজখানায় সংরক্ষিত দলিলপত্রের গুরুত্ব সম্পর্কে নতুন করে বলার কিছু নেই। তবে এসব মহাফেজখানা বা আর্কাইভসে একজন গবেষক নিয়মিত এবং গভীর অভিনিবেশসহকারে যদি মনোনিবেশ করেন, তবে ১৯৪০-এর দশকে গোটা দক্ষিণ এশিয়ায় যে যুগান্তকারী এবং ‘জীবন বদলে দেওয়া’ ঐতিহাসিক ঘটনাবলি সংঘটিত হয়েছে, যেমন নব্য স্বাধীনতাপ্রাপ্ত জাতির ইতিহাস, রাষ্ট্রগুলোর সীমানা নির্মাণ কিংবা প্রতি-নির্মাণ, জাতি, ধর্ম, ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠী ও বিশ্ববীক্ষা নিয়ে জাতীয়তাবাদী নেতৃত্বের মধ্যকার বিতর্ক, দ্বিধা অথবা ‘স্বপ্ন রাষ্ট্রের সন্ধানে’ দক্ষিণ এশিয়ার পূর্ব ও পশ্চিমাংশে ইতিহাসের বৃহত্তম আঞ্চলিক অভিবাসন সম্পর্কে অনেক পিলে চমকানো তথ্য পাওয়া যাবে।


কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে দেখা যায় অনেক গবেষক মূল আকর দলিল, যা আর্কাইভসে সংরক্ষিত রয়েছে, তা ভালোভাবে খুঁজে না দেখে অভিসন্দর্ভ লিখে ফেলেন। গবেষণার প্রচলিত যে পদ্ধতি অর্থাৎ একাধিক উৎস অনুসন্ধানের ক্ষেত্রেও অবহেলা দেখান, দ্বৈতীয়িক উৎস কোনো প্রশ্ন ছাড়াই গ্রহণ করেন।


১৯৪৭ সালে সংঘটিত সিলেট গণভোট নিয়ে পরবর্তীতে কীভাবে বিভিন্ন বই গবেষণায় তথ্য বিকৃতি ঘটেছে তার দৃষ্টান্ত আমি এখানে তুলে ধরতে চাই। ১৯৪৭ সালের ৩ জুন মাউন্টব্যাটেন ঘোষণা দেন, ব্রিটিশ ভারত দুই ভাগে বিভক্ত হবে এবং ভারত ও পাকিস্তান নামে দুটি রাষ্ট্র সৃষ্টি করা হবে। একই ঘোষণায় বলা হলো, ১৮৭৪ সালে বাংলায় যেসব জেলা ও অঞ্চল নতুন প্রদেশ আসামে যুক্ত করা হয়েছিল [যেমন রংপুর বিভাগের গোয়ালপাড়া, কাছাড় জেলা, সিলেট ইত্যাদি] তার মধ্যে কেবল সিলেট জেলা ভারত না পাকিস্তানে যুক্ত হবে, তা ওই জেলায় অনুষ্ঠিতব্য গণভোটের ফলাফলের ভিত্তিতে নির্ধারণ করা হবে।

সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ুন

প্রতিদিন ৩৫০০+ সংবাদ পড়ুন প্রিয়-তে

আরও