কুইক লিঙ্ক : মুজিব বর্ষ | করোনা ম্যাপ | করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব

প্রশাসনে করোনায় আক্রান্ত ২৪০ কর্মকর্তারা, মৃত্যু ১১

প্রথম আলো প্রকাশিত: ৩০ জুন ২০২০, ১২:৩৩

করোনা পরিস্থিতি মোকাবিলায় চিকিৎসক, স্বাস্থ্যকর্মী ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি প্রশাসনের কর্মকর্তারাও ঝুঁকি নিয়ে কাজ করছেন। মানুষের কাছাকাছি গিয়ে তাঁদের কাজ করতে হয়। অনেক আক্রান্ত কর্মকর্তা সুস্থ হয়ে ওঠার সঙ্গে সঙ্গে আবার কাজে যোগ দিচ্ছেন। সর্বশেষ গতকাল সোমবার করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা গেলেন প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব আবদুল্লাহ আল মোহসীন চৌধুরী। এ নিয়ে করোনায় প্রশাসনের বর্তমান ও সাবেক মিলে ১১ জন কর্মকর্তার মৃত্যু হলো। এখন পর্যন্ত আক্রান্ত হয়েছেন ২৪০ জন কর্মকর্তা।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, করোনায় আক্রান্ত কর্মকর্তাদের মধ্যে প্রশাসন ও তথ্য ক্যাডারের তিনজন সচিবও রয়েছেন। আক্রান্তদের মধ্যে মাঠ প্রশাসনে কর্মরত ১১৯ জন রয়েছেন।


এমনই একজন কর্মকর্তা সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) এ কে এম নূর হোসেন। গতকাল তাঁর সঙ্গে ফোনে কথা বলার সময় ইঞ্জিনচালিত নৌকার ভটভট শব্দ শোনা যাচ্ছিল। তিনি জানালেন, হাওরের মাঝখানে আছেন। ত্রাণ দিতে যাচ্ছেন লেংগুরা ইউনিয়নে। তিনি ৬ জুন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছিলেন। গত রোববার সুস্থ হয়েই গতকাল বন্যার্তদের কাছে ত্রাণ নিয়ে যান। বললেন, ‘শারীরিকভাবে এখনো দুর্বল। তবু কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়ে কাজে নেমে পড়েছি।’

বাংলাদেশ অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ও স্থানীয় সরকারসচিব হেলালুদ্দীন আহমদ প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমাদের এই সম্মুখযোদ্ধাদের করোনা সংক্রমণের তালিকা দীর্ঘ হচ্ছে, যা উদ্বেগজনক। যদিও মাঠ প্রশাসনের কর্মকর্তাদের স্বাস্থ্যঝুঁকি হ্রাস এবং মনোবল ও আস্থা বাড়ানোর জন্য আমরা প্রতিনিয়ত চেষ্টা করছি। দুটি হাসপাতাল আক্রান্তদের চিকিৎসা দিচ্ছে।’

করোনায় আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন তথ্যসচিব কামরুন নাহার। এর আগে আক্রান্ত হয়েছিলেন স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও পরিবারকল্যাণ বিভাগের সচিব মো. আলী নূর। সুস্থ হয়ে গত রোববার থেকে তিনি অফিস করছেন। আলী নূর গতকাল প্রথম আলোকে বলেন, তাঁর স্ত্রীসহ তাঁদের পরিবারে মোট ছয়জন করোনায় সংক্রমিত হয়েছিলেন।

আক্রান্তদের মধ্যে অতিরিক্ত সচিব থেকে শুরু করে সহকারী সচিব, জেলা প্রশাসক, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার, সরকারি যানবাহন অধিদপ্তরের ব্যবস্থাপক, প্রকল্প পরিচালক, সহকারী পরিচালক রয়েছেন। মাঠপর্যায়ে ইউএনও ও সহকারী কমিশনারদের আক্রান্ত হওয়ার সংখ্যা বেশি। আর সচিবালয়ে আক্রান্ত হয়েছেন মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও সচিবের একান্ত সচিবেরা।

স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিবের পিএস খন্দকার জাকির হোসেন সুস্থ হয়ে গতকাল থেকে মন্ত্রণালয়ে আসা শুরু করেছেন। সচিবালয়ে তাঁর দপ্তরে কাজ করতে করতে প্রথম আলোকে বলেন, ‘একদিকে যেমন মন্ত্রণালয়ে দশর্নার্থী আসেন, অন্যদিকে আমাদের হাসপাতাল পরিদর্শনে যেতে হয়। তাই আক্রান্ত হওয়াটা অস্বাভাবিক কিছু নয়।’

মাঠ প্রশাসনের কর্মকর্তারা বলছেন, তাঁদের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে অতিরিক্ত জনসমাগম। কুমিল্লার জেলা প্রশাসক আবুল ফজল মীর বলেন, যেখানে একটি সমস্যা নিয়ে একজনের আসার কথা, ২০ জন চলে আসেন। ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করতে গেলে শত শত লোক জড়ো হয়ে যায়। চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ ইলিয়াস হোসেন বলেন, ‘সব সময় কঠোর হওয়া যায় না। আবার বোঝালেও কাজ হয় না। এটা অস্বস্তিকর বিষয়। বান্দরবনের জেলা প্রশাসক দাউদুল ইসলাম করোনায় আক্রান্ত হন ১১ জুন। তিনি বলেন, ‘আমাদের সবকিছুতেই জোরালো ভূমিকা রাখতে হয়। যেকোনো বিপদে সামনে থেকে অন্যদের মনোবল বাড়াতে হয়।’

এবারের দুর্যোগে মাঠ প্রশাসনের কর্মকর্তাদের কাজের প্রশংসা করেন সাবেক মন্ত্রিপরিষদ সচিব আলী ইমাম মজুমদার। প্রথম আলোকে তিনি বলেন, কর্মকর্তারা করোনা পরিস্থিতির শুরু থেকেই নিজ নিজ কর্মক্ষেত্রে অবস্থান করছেন, সাধ্যমতো মানুষের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছেন।

জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সর্বাত্মক সহযোগিতা করার চেষ্টা করা হচ্ছে। তাঁরা যেন শুধু অন্যদের সুরক্ষিত না রেখে নিজেদেরও সুরক্ষিত রাখেন। সরকার তাঁদের পাশে আছে, থাকবে।

সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ুন

প্রতিদিন ৩৫০০+ সংবাদ পড়ুন প্রিয়-তে

এই সম্পর্কিত

আরও