ছবি সংগৃহীত

পাথরকুচি থেকে বিদ্যুৎ

প্রিয় ডেস্ক
ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশিত: ২০ জানুয়ারি ২০১৭, ২১:৪৮
আপডেট: ২০ জানুয়ারি ২০১৭, ২১:৪৮

পাথরকুচি পাতা। সংগৃহীত ছবি

(প্রিয়.কম) দেশের বিদ্যুৎ সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যে ভিন্নধর্মী উদ্ভাবন ঘটিয়েছেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ও সৌর শক্তি গবেষণা কেন্দ্রের পরিচালক ড. কামরুল আলম খান। বিদ্যুতের চাহিদা মেটাতে তার পরিশ্রমের ফলে পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের গবেষণাগারে ২০০৮ সালের পর একবারের জন্যও কোনো লোডশেডিং দেখা যায়নি। গবেষণাগারের ফ্যান, বাতি ও অন্যান্য ইলেক্ট্রনিক সামগ্রী চালানোর বিদ্যুতের চাহিদা মেটানো হয় শুধু পাথরকুচির পাতা থেকে উদ্ভাবিত বিদ্যুৎ থেকে।  

স্বল্প খরচে, নবায়নযোগ্য পদ্ধতিতে ও নতুন কোনো উৎস থেকে কীভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা যায় তা নিয়ে এক সময় ভাবতে শুরু করেন ড. কামরুল আলম খান। প্রাথমিক গবেষণায় তিনি তেঁতুল, লেবু, আলু, আম, কাঁঠাল, টমেটো, বটের পাতা দিয়েও পরীক্ষা চালান। পরিশেষে বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য কাঙ্ক্ষিত উপাদান পেয়ে যান পাথরকুচি পাতা থেকে।

ড. কামরুল আলম দেশের বিদ্যুতের ঘাটতি মেটানোর জন্য ১৯৮৯ সাল থেকে গবেষণা শুরু করেন। ২০০৮ সালে এক ছাত্রকে দিয়ে মুন্সীগঞ্জ থেকে এক কেজি পাথরকুচি পাতা নিয়ে আসেন তিনি। এরপর শুরু হয় গবেষণা। কয়েক মাসের মধ্যেই আশানুরূপ ফল পেলেন। প্রথমে ১২ ভোল্টের ক্ষুদ্র আকৃতির বাতি জ্বালিয়ে তিনি আশার আলো দেখতে পান। ২০০৮ সালের ডিসেম্বরে শিল্প মন্ত্রণালয়ে এই উদ্ভাবনের মেধাস্বত্ব নিবন্ধন (প্যাটেন্ট) করেন তিনি। এরপর দীর্ঘ গবেষণার পর বর্তমানে বৈদ্যুতিক বাতি, পাখা, টেলিভিশনসহ বিভিন্ন ধরনের বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি চালাতে সক্ষম হচ্ছেন তিনি। 

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ও সৌরশক্তি গবেষণা কেন্দ্রের পরিচালক ড. কামরুল আলম খান। ছবি: সংগৃহীত

কামরুল আলম খান এ উদ্ভাবন সম্পর্কে বলেন, ‘পদার্থের মধ্যে এসিডিক (অম্লীয়) হাইড্রোজেন আয়ন ও ক্ষারীয় হাইড্রোক্সিল আয়ন থাকে। এসিডিক (অম্লীয়) হাইড্রোজেন আয়ন বেশি পরিমাণে থাকলে সেই পদার্থ দিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব। পাথরকুচি পাতায় হাইড্রোজেন আয়নের পরিমাণ প্রায় ৭৮ শতাংশ, যা বিদ্যুৎ উৎপাদনে খুবই সহায়ক। পাথরকুচি পাতা থেকে তৈরি দ্রবণই বিদ্যুৎ তৈরির মূল উপাদান। পাথরকুচি পাতার মধ্যে এসিডিক (অম্লীয়) হাইড্রোজেন আয়ন থাকে। যে পদার্থে এসিডিক (অম্লীয়) হাইড্রোজেন আয়ন বেশি থাকে সেই পদার্থ দিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব। পাথরকুচি পাতায় সাইট্রিক এসিড, আইয়োনো সাইট্রিক এসিড, মেলিক এসিড ও অন্য আরও কিছু অজানা জৈব এসিড রয়েছে। এ সবই দুর্বল জৈব এসিড। এই এসিড থেকে হাইড্রোজেন আয়নের নির্গমন খুবই ধীরগতিতে হয়। ফলে পাথরকুচি পাতার বিদ্যুতের স্থায়িত্বকাল বেশি, যা বিদ্যুৎ উৎপাদনে খুবই সহায়ক। পাথরকুচি পাতা দিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন পদ্ধতিও খুব সহজ।

জানা গেছে, পাথরকুচির পাতা সংগ্রহ করে ব্লেন্ডার মেশিনে দিয়ে দ্রবণ তৈরি করে নিতে হবে। অন্য একটি পাত্রে তামা ও দস্তার পাত বসানো আছে যেখানে দ্রবণ ঢেলে দিলে পাত দুটির সঙ্গে তারের সংযোগ দিলে বিদ্যুৎ সঞ্চালন ঘটে। যাকে ডিসি বিদ্যুৎ বলা হয়। এর সঙ্গে ইনভার্টার সংযোগ দিয়ে এসি বিদ্যুতে পরিণত করে সহজেই সব কাজে এই বিদ্যুৎ ব্যবহার করা যাবে এবং তা জাতীয় গ্রিডেও যোগ করা যাবে বলে জানান উদ্ভাবক ড. কামরুল আলম। 

কামরুল আলম বলেন, ‘দেশের পতিত জমিতে সহজেই প্রচুর পাথরকুচি পাতার চাষ সম্ভব। আর চাষের এক মাসের মধ্যেই পাতা কাজে লাগানো যায়। তিনি বলেন, বিদ্যুৎ তৈরি করতে এক মাসের মধ্যে নতুন করে পাথরকুচির দ্রবণের প্রয়োজন পড়ে না’। 

ভিন্নধর্মী এই উদ্ভাবনের জন্য এ বছর ২৮ থেকে ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত ওয়াশিংটন ডিসিতে আমেরিকান ফিজিক্যাল সোসাইটি আয়োজিত ইন্টারন্যশনাল কনফারেন্সে পেপার প্রেজেন্টেশনে অংশ নেবেন ড. কামরুল আলম খান।

সূত্র: সমকাল

প্রিয় সংবাদ/এআই/ এমআর