প্রতীকী ছবি

বিপদ বাড়ছে রাজসিক আকাশের

Saleh Noman
লেখক
প্রকাশিত: ৩১ মার্চ ২০১৮, ১৬:২৯
আপডেট: ৩১ মার্চ ২০১৮, ১৬:২৯

(প্রিয়.কম) হুমকিতে আছে চট্টগ্রাম-পার্বত্য চট্টগ্রামের সবচেয়ে বয়স্ক ও উঁচু গর্জন গাছ ‘আকাশ’। কক্সবাজার জেলার রামু উপজেলার ঈদগড় রেঞ্জে অবস্থিত ২১২ বছর বয়সী গাছটির আশপাশের জায়গা বেদখল হয়ে উঠছে ঘর-বাড়ি।

রামু উপজেলার ঈদগড়-বাইশাড়ী সড়কের বৈদ্যের গোনা এলাকায় অনেক দূর থেকে চোখে পড়বে প্রায় একশ’ ফুট উচ্চতার তেলি গর্জন গাছটি।

২০০৬ সালে গাছটির বয়স দ্বিশত বছর পূর্ণের সময় এটির গোড়ায় ২২ ফুট আর উপরের অংশে ১৫ ফুট ব্যাস ছিল। তখন গাছটির নাম ‘আকাশ’ রাখা হয়, দেওয়া হয় বয়স ও উচ্চতাসংবলিত ফলক। এরপর থেকে আশপাশের মানুষ তো বটেই, দূর-দূরান্ত থেকে আগ্রহীরা যাচ্ছেন মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে থাকা গাছটি দেখার জন্য।

একসময় পাহাড়ি ঘন বনের সব গাছ উজাড় হয়ে গেলেও সেখানে একমাত্র জীবিত ছিল ওই রাজসিক গাছটি। বন বিভাগ গাছটির নাম দেয় ’আকাশ’। বিশেষ ঘোষণাসংবলিত ফলক লাগিয়ে গাছটিকে বাঁচিয়ে রাখার জন্য সাহায্য চাওয়া হয় এলাকাবাসীর। সেই থেকে গাছটির প্রতি বৃক্ষপ্রেমীদের আগ্রহ।

রিদোয়ান নামের একজন বাসিন্দা জানান, মাঝে মাঝে সরকারি কর্মকর্তারা এসে গাছটি পরিদর্শন করেন। গাছটির যাতে কোনো ক্ষতি না হয় সেই জন্য স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সতর্কও করা হয়। এ ছাড়া বিভিন্ন স্থান থেকে গবেষকরাও আসেন দেখার জন্য।

এখন গাছটির বয়স ২১২ বছর। প্রশাসনের নজরদারি সত্ত্বেও যতই দিন যাচ্ছে গাছটির আশপাশের এলাকা বেদখল হয়ে বসতঘরসহ অন্যান্য স্থাপনা গড়ে উঠছে। এভাবে চলতে থাকলে গাছটির অস্তিত্ব হুমকির মুখে পড়তে পারে বলে মনে করছেন স্থানীয় বাসিন্দা রাজিব শর্মা।

এ বিষয়ে রাজিব শর্মা বলেন, ‘ঘন বন নিশ্চিহ্ন হয়ে এই বিশাল গর্জন গাছসহ আরও কয়েকটি গাছ ছিল। এখন সেইসব গাছ নেই, বরং খালি জায়গায় ঘরবাড়ি নির্মাণ ও চাষাবাদ হচ্ছে।’

তেলি গর্জন গাছ কতদিন জীবিত থাকে তার কোনো সঠিক ধারণা নেই বন বিভাগের কাছে। গাছের বয়স গণনার বিদ্যমান প্রণালি প্রয়োগ করে এর বয়স ধারণা করা হয়েছে। মূলত রেললাইনের স্লিপার, নৌকা ও জাহাজের নির্মাণে বেশি ব্যবহার হয় গর্জন গাছের কাঠ।  

প্রাকৃতিকভাবে বেড়ে ওঠা অতিকায় আকৃতির এই গর্জন গাছ ‘আকাশ’-এর কাছাকাছি আকৃতির আরও কয়েকটি গর্জন গাছ আছে। যেগুলোকে রক্ষার জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ঈদগড় রেঞ্জের রেঞ্জ অফিসার ইমদাদুল হক। 

ইমদাদুল হক বলেন, ‘মহিমান্বিত গাছটি যে স্থানে আছে সেটি জেলা প্রশাসনের, গাছটি রক্ষায় বন বিভাগের পাশাপাশি জেলা প্রশাসনকে আরও তৎপর হতে হবে। এই গাছটিসহ কাছাকাছি আকৃতি ও বয়সের যে কয়টি গাছ আছে সেগুলো রক্ষার জন্য আরও সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন ‘

প্রিয় পরিবেশ/ইতি/আজাদ চৌধুরী