২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ভাঙচুর চালায় বিক্ষুদ্ধ ছাত্র-জনতা। এরপর থেকেই এটি অব্যবহৃত হিসেবে পড়ে রয়েছে।
কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের তৎপরতা, নেপথ্যে কি রাজনৈতিক সমঝোতা?
আপডেট: ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২২:৩৭
জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতা হারানো আওয়ামী লীগ রাজনৈতিকভাবে কোণঠাসা এবং আইনিভাবে দলটির কার্যক্রম নিষিদ্ধ। তবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতার পালাবদলের পরপরই দেশের রাজনৈতিক দৃশ্যপটে আকস্মিক কিছু পরিবর্তন চোখে পড়ছে। নির্বাচনের পরদিন থেকেই দেশের বিভিন্ন স্থানে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের দলীয় কার্যালয় খোলার চেষ্টা করতে দেখা যাচ্ছে।
আইনি নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও সারাদেশে আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয়ে নেতাকর্মীদের প্রবেশ, তালা খোলা ও আকস্মিক মিছিলের ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। এসব তৎপরতা দলীয় নির্দেশে হচ্ছে নাকি ব্যক্তিগত উদ্যোগে, কিংবা এর পেছনে অন্য কোনো রাজনৈতিক সমঝোতা রয়েছে কি না—তা নিয়ে বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠছে। এটি রাজনৈতিক অঙ্গনে যেমন নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে, তেমনি জনমনেও তৈরি করেছে শঙ্কা। তাহলে কি কার্যক্রম নিষিদ্ধ দল আওয়ামী লীগ রাজনীতিতে আবার ফিরছে?
দেশজুড়ে কার্যালয় খোলার হিড়িক
অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার ২০২৫ সালের ১০ মে আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের সব ধরনের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ ঘোষণা করে। তারও আগে ২০২৪ সালের অক্টোবরে আওয়ামী লীগের ছাত্রসংগঠন ছাত্রলীগকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়। ফলে দলটি সদ্য সমাপ্ত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে পারেনি। তবে নির্বাচন শেষ হওয়ার পরপরই ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলা ও উপজেলায় দলটির নেতাকর্মীরা কার্যালয়ে প্রবেশের চেষ্টা করছেন বা কোথাও কোথাও অবস্থানও নিয়েছেন। আবার কিছু স্থানে কার্যালয় খোলার পর পাল্টা দখল, হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটেছে।
দেশের শীর্ষস্থানীয় গণমাধ্যমগুলোর তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, নির্বাচনের মাত্র এক সপ্তাহ পার হতে না হতেই দেশের প্রায় ২৩টি জেলা ও উপজেলায় দলটির কার্যালয় খোলার প্রচেষ্টা এবং ঝটিকা মিছিলের ঘটনা ক্রমশ বাড়ছে।
জাতীয় নির্বাচনের পরদিন ১৩ ফেব্রুয়ারি পঞ্চগড়ে আওয়ামী লীগের একটি কার্যালয়ের তালা খোলার ভিডিওকে কেন্দ্র করে বিষয়টি প্রথম আলোচনায় আসে। বিশেষ করে পঞ্চগড় সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আবু দাউদ প্রধানের উপস্থিতিতে চাকলাহাট ইউনিয়ন কার্যালয়ের তালা খোলার ঘটনা সামাজিক মাধ্যমে আলোচনার ঝড় তোলে। যদিও তিনি পরে দাবি করেন, কার্যালয়টি আওয়ামী লীগের তা তিনি জানতেন না।
এরপর গত এক সপ্তাহে চাঁদপুর, ঠাকুরগাঁও, সাতক্ষীরা, বরগুনার বেতাগী, পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলা এবং খুলনায় কার্যালয় খুলে অবস্থান করে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা স্লোগান দিয়েছেন। এছাড়া নারায়ণগঞ্জ, শরীয়তপুর, নোয়াখালী, জামালপুর, রাজবাড়ীসহ আরও কয়েকটি এলাকায় জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে বন্ধ থাকা কার্যালয় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করে নেতাকর্মীরা স্লোগান দিয়েছেন।
পটুয়াখালীর দশমিনায় ১৪ ফেব্রুয়ারি সকালে তালা ভেঙে কার্যালয়ে ঢুকে মিলাদ মাহফিল করেন আওয়ামী লীগ কর্মীরা। তবে কয়েক ঘণ্টা পর ছাত্রদল ও যুবদলের নেতাকর্মীরা ভাঙচুর চালিয়ে সেখানে পুনরায় তালা ঝুলিয়ে দেন। একই দিন দিনাজপুর শহরের বাসুনিয়াপট্টি এলাকায় কার্যালয়ের তালা খুলে নেতাকর্মীদের উপস্থিতির ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে।
১৫ ফেব্রুয়ারি দুপুরে খুলনা সদর থানার শঙ্খ মার্কেটের দ্বিতীয় তলায় দলীয় কার্যালয়ে একদল লোক তালা খুলে দোতলায় ওঠেন এবং জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন। পতাকা উত্তোলনের পরপরই ‘জুলাই বিপ্লব’-এর যোদ্ধারা সেখানে অগ্নিসংযোগ করেন। বিকেলে হাদিস পার্কের সামনে অবস্থিত মহানগর ও জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে শেখ মুজিবুর রহমান ও শেখ হাসিনার ছবিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান কর্মীরা।
১৬ ফেব্রুয়ারি বরগুনার বেতাগী উপজেলা আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয়ের তালা ভেঙে প্রবেশ করেন নিষিদ্ধঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের স্থানীয় নেতা-কর্মীরা। একই দিন বিকেলে চট্টগ্রামে নিউ মার্কেট মোড় এলাকায় প্রায় চার মাস বন্ধ থাকার পর ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিয়ে উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয় পুনরায় খুলে দেন তারা।
১৮ ফেব্রুয়ারি ভোরে নোয়াখালী পৌর মহিলা আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের পক্ষ থেকে কার্যালয়ের মূল ফটকে একটি ব্যানার লাগানো হয়, যেখানে লেখা ছিল, 'দীর্ঘ আঠারো মাস পর নোয়াখালী জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয় আজ থেকে অবমুক্ত করা হলো।' ১৯ ফেব্রুয়ারি ময়মনসিংহের তারাকান্দায় দলীয় কার্যালয় খোলার পর সেখানে গিয়ে বিক্ষোভ ও আগুন জ্বালান বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতাকর্মীরা।

ধানমন্ডি ৩/এ-তে শেখ হাসিনার রাজনৈতিক কার্যালয়ের সামনে যুব মহিলা লীগের কয়েকজন কর্মী
২০ ফেব্রুয়ারি সকালে ফরিদপুরে জেলা কার্যালয়ে এবং কোতোয়ালী থানার পাশে প্রকাশ্যে যুবলীগ ও নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সাবেক নেতারা জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন করেন। ২১ ফেব্রুয়ারি জামালপুরের বকশীগঞ্জ উপজেলার বগারচর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে পতাকা উত্তোলন ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।
রাজধানী ঢাকাতেও এর প্রভাব দেখা গেছে। ১৪ ফেব্রুয়ারি গুলিস্তানে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে জাতীয় পতাকা উড়িয়ে কিছুক্ষণ অবস্থান করেন কয়েকজন নেতাকর্মী। ২০ ফেব্রুয়ারি ধানমন্ডি ৩/এ-তে শেখ হাসিনার রাজনৈতিক কার্যালয়ের সামনে গিয়ে যুব মহিলা লীগের কর্মীরা স্লোগান দেন।
আওয়ামী লীগের ভাষ্য
গোয়েন্দা সূত্রগুলো বলছে, মাঠপর্যায়ের এই ঝটিকা কার্যক্রমগুলো মূলত পরিচালিত হচ্ছে দেশের বাইরে থেকে। হোয়াটসঅ্যাপ ও বিভিন্ন এনক্রিপ্টেড অ্যাপের মাধ্যমে নির্বাসিত শীর্ষ নেতারা তৃণমূলকে নির্দেশনা দিচ্ছেন, যার মূল লক্ষ্য মাঠ গরম রেখে ভবিষ্যতে প্রত্যাবর্তনের পথ সুগম করা।
তবে আত্মগোপনে থাকা আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম সম্প্রতি দাবি করেছেন, দলীয় কার্যালয় নিষিদ্ধ বা বাজেয়াপ্ত করা হয়নি, তাই সেখানে যাওয়া রাজনৈতিকভাবে স্বাভাবিক অধিকার।
তিনি আরও জানান, কোনো ধরনের সমঝোতা নয়—তৃণমূলের নেতাকর্মীরাই স্বাভাবিক রাজনৈতিক পরিবেশের প্রত্যাশায় কার্যালয়ে যাচ্ছেন।
সমঝোতার অভিযোগ তুলছে রাজনৈতিক দলগুলো
আওয়ামী লীগের এই আকস্মিক পদচারণা নতুন রাজনৈতিক সমীকরণে ফাটল ধরাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন নতুন সরকার যখন একটি ‘বহুত্ববাদী’ ও ‘সহনশীল’ সমাজ গড়ার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে, ঠিক তখনই এর তীব্র বিরোধিতা করছে ছাত্রনেতৃত্বাধীন ‘জাতীয় নাগরিক পার্টি’ (এনসিপি)।
এনসিপির আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম সরাসরি অভিযোগ করে বলেন, ‘‘বিএনপির ‘গ্রিন সিগন্যাল’ বা নীরব সম্মতি ছাড়া আওয়ামী লীগ মাঠে নামার সাহস পেত না।’’ ১৯ ফেব্রুয়ারি সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই অভিযোগ করেন। দলের মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ক্ষোভ ও সন্দেহ প্রকাশ করে বলেন, ‘‘লীগ তো দোকান খোলা শুরু করছে, এইবার কি সংস্কার আর বিচার হইবে।’’
১৮ ফেব্রুয়ারি আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু বলেন, আওয়ামী ফ্যাসিবাদের হাতে সবচেয়ে নির্যাতিত হওয়া সত্ত্বেও যদি বর্তমান সরকার বিচার ছাড়া তাদের পুনর্বাসনের চেষ্টা করে, তবে ছাত্র-জনতা বা ইতিহাস কাউকেই ক্ষমা করবে না।
অন্যদিকে জুলাই ঐক্যের একাধিক নেতা মনে করছেন, বিচার সম্পন্ন হওয়ার আগে আওয়ামী লীগকে মাঠে নামতে দেওয়া জুলাই অভ্যুত্থানের শহীদদের রক্তের সাথে চরম বেইমানি।
আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসনের দায়িত্ব নিয়েছে বিএনপি, এমন অভিযোগ করেছেন এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম। ২৫ ফেব্রুয়ারি তিনি ফেসবুকে আরও লিখেছেন, “যদি জুলাই অভ্যুত্থানে রাজপথে নামা আমাদের যেকোনো সহযোদ্ধাদেরকে আওয়ামী লীগের দ্বারা আবার খুন হতে হয় কিংবা রক্ত দিতে হয় তাহলে তার দায় তারেক রহমান এবং বিএনপিকে নিতে হবে।”
এ পরিস্থিতি নিয়ে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী ও বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে বলেন, ‘‘এটা আমরা চাইনি। যেহেতু আইনগতভাবে বলা আছে যে তাদের (আওয়ামী লীগ) কার্যক্রম নিষিদ্ধ, তাই সব জায়গায় বিষয়টিকে সেভাবেই আইন অনুযায়ী দেখা হবে।’’
কী বলছেন বিশ্লেষক ও প্রশাসন?
রাজনৈতিক বিশ্লেষক অধ্যাপক ড. সাব্বির আহমেদ প্রিয় নিউজকে বলেন, “আওয়ামী লীগের কার্যক্রম তো আইনের ভাষায় নিষিদ্ধ, বাস্তবের ভাষায় নিষিদ্ধ নয়। আইন এক, আর বাস্তব আরেক। এখানে নানান রকম হিসাব-নিকাশ, বোঝাপড়া হয়েছে। সুতরাং বাস্তব জীবনে তারা নিষিদ্ধ নয়।”
আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ আর দল নিষিদ্ধের মাঝে ফাঁকফোকর রয়েছে বলে মনে করছেন ড. সাব্বির আহমেদ। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞানের এই অধ্যাপক বলেন, “অফিস খোলা আর কার্যক্রম নিষিদ্ধ, দুটোর মধ্যেও কিন্তু একটা পার্থক্য আছে। আমি অফিস খুললাম, কিন্তু কাজকর্ম করতেছি না। তাহলে আমার তো অফিস খুলতে কোনো অসুবিধা কী? আর এখানে ফাঁক আছে যে, আপনি কার্যক্রম নিষিদ্ধ করেছেন, দলকে তো নিষিদ্ধ করা হয় নাই। সমস্যা তো থেকেই গেল তাহলে? এগুলোতে অনেক প্যাঁচ-মোচড় আছে।”
রাজনৈতিক বিশ্লেষক মোহাম্মদ মজিবুর রহমান বলেন, “নির্বাচিত সরকার আসার পর আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কার্যক্রম আবার শুরুর একটি প্রক্রিয়ার হয়তো সূচনা হয়েছে কার্যালয় খোলার তৎপরতার মাধ্যমে। গত সরকার আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করে নির্বাচনে অংশ নিতে দেয়নি। কিন্তু তার মানে এই না যে দলটি সবসময় নিষিদ্ধ থাকবে। তাছাড়া বিভিন্ন দলকে স্বাভাবিক রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সুযোগ দেওয়ার উদাহরণ বিএনপির আগেও আছে।”
আওয়ামী লীগের সঙ্গে ভেতরে ভেতরে সমঝোতা হয়েছে বলে মনে করছেন ড. সাব্বির আহমেদ। তিনি বলেন, “বর্তমান সরকারের সঙ্গে তাদের (আওয়ামী লীগের) সমঝোতা হয়েছে অনেক আগেই। এই সমঝোতার অংশ হিসেবেই তারা আসছে। এ সমঝোতার সঙ্গে হয়তো সবারই (অন্যান্য দল) সায় থাকতে পারে, আমি বলছি না আছে। কিন্তু থাকতে পারে। জামায়াতও হয়তো সায় দিয়েছে। হয়তো শীর্ষ নেতৃবৃন্দকে মাফ করবে না, কিন্তু দলটি ভবিষ্যতে হয়তো স্বাভাবিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতে পারবে।”
সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে সদ্য সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বাহারুল আলম গত ২২ ফেব্রুয়ারি সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, ‘কার্যক্রম নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দলের কোনো ধরনের তৎপরতা চলতে দেওয়া যাবে না। কেউ বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।’