ছবি সংগৃহীত
‘বাংলাদেশের প্রকাশনা জগত এখন অনেক বৈচিত্র্যময়’
আপডেট: ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৬, ১৪:২৩
(প্রিয়.কম) ‘বাংলাদেশের প্রকাশনা জগত এখন অনেক বৈচিত্র্যময়। জনপ্রিয় বইয়ের বাইরে অভিধান, অনুবাদ ইত্যাদি গভীরতাবাহী প্রকাশনায়ও বাংলাদেশ এখন অনেক এগিয়ে গেছে। নিঃসন্দেহে বাংলা একাডেমির বইমেলা বাংলাদেশের প্রকাশনার সামগ্রিক অগ্রগতিতে প্রধান ভূমিকা পালন করছে। তবে একই সঙ্গে আমাদের প্রকাশনার মানের দিকেও মনোযোগী হতে হবে।’
অমর একুশে বইমেলার নবম দিন ৯ ফেব্রুয়ারি মেলার মূলমঞ্চে ‘বাংলাদেশের প্রকাশনা কার্যক্রম : অতীত থেকে বর্তমান’ শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন আলোচকরা। এতে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন আহমাদ মাযহার। আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন শিল্পী রফিকুন নবী, কবি তারিক সুজাত, লেখক রেজানুর রহমান এবং পশ্চিমবঙ্গের লেখক-গবেষক ইমানুল হক। সভাপতিত্ব করেন শিল্পী হাশেম খান।
আলোচকরা আরও বলেন, ‘বইয়ের অন্তর্বস্তু, পাণ্ডুলিপি সম্পাদনা, শৈল্পিক বিন্যাস এবং কপিরাইট নিশ্চয়তা বিধানের ক্ষেত্রেও আমাদের দৃষ্টি দেয়া প্রয়োজন। তারা বলেন, মানসম্পন্ন প্রকাশনা নিশ্চিতের পাশাপাশি এর বাজার ও বিপণন পরিসর তৈরিকেও প্রকাশনা ক্ষেত্রে আমাদের চ্যালেঞ্জ হিসেবে গ্রহণ করতে হবে’।
প্রাবন্ধিক বলেন, বাংলাদেশের পুস্তক প্রকাশনা খুবই সম্ভাবনাময় একটি খাত। আমাদের জনসংখ্যাকে জনশক্তিতে রূপান্তরিত করতে হলে এই খাতের দিকে দৃষ্টি দেয়ার কোনো বিকল্প নেই। কিন্তু এখন যেভাবে চলছে তাতে এই খাতে বড় বণিক-পুঁজি বিনিয়োগের আপাতত কোনো সম্ভাবনা নেই। মানুষের শুভবুদ্ধিপ্রসূত সহযোগিতার ওপর ভর করেই একে চলতে হবে। তিনি বলেন, বিদ্যমান ব্যবস্থায় বাংলা একাডেমির বইমেলা একে যেমন প্রণোদনা দিয়ে চলছে তেমনি ছোট ছোট প্রণোদনার ওপর ভর করেই একে আরো কিছুকাল চলতে হবে। কিন্তু খাতের যে বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে তাকে উন্মোচিত করতে হলে প্রয়োজন রাষ্টীয়, বেসরকারি ও ব্যক্তিপর্যায়ের মিলিত উদ্যোগ।
সভাপতির বক্তব্যে শিল্পী হাশেম খান বলেন, বাংলাদেশের প্রকাশনা জগত ঐতিহ্যবাহী এক শিল্পক্ষেত্র। জ্ঞানান্বেষু মানুষের প্রয়োজন এবং নান্দনিক উৎকর্ষ- উভয়ের মিলিত সারাৎসারে ঐতিহ্যের পথ বেয়ে এখন তা আধুনিক রুচির সঙ্গে মিলিত হয়েছে। তবে এই প্রকাশনা জগতকে আরো সমৃদ্ধ করতে আমাদের আরো বহু পথ পাড়ি দিতে হবে।
সন্ধ্যায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে ছিল সত্যেন সেন শিল্পগোষ্ঠীর শিল্পীদের পরিবেশনা। সংগীত পরিবেশন করেন কণ্ঠশিল্পী নাদিরা বেগম, দিলরুবা খান, আজগর আলীম, মো. নূরুল ইসলাম, আবদুল কুদ্দুস এবং মনিরা ইসলাম। যন্ত্রাণুষঙ্গে ছিলেন রাজু চৌধুরী (তবলা), মো. ফায়জুর রহমান (বাঁশি), মো. ফারুক (প্যাড), আনোয়ার সাহদাত রবিন (কী-বোর্ড) এবং আশুতোষ শীল (দোতারা)।
আগামীকালের অনুষ্ঠানসূচি
আগামীকাল ১০ ফেব্রুয়ারি বুধবার বিকেল চারটায় মেলার মূলমঞ্চে অনুষ্ঠিত হবে ‘বাংলাদেশে শিশুসাহিত্য চর্চা: অতীত থেকে বর্তমান’ শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। প্রবন্ধ উপস্থাপন করবেন শাহীন আখতার। আলোচনায় অংশগ্রহণ করবেন আসলাম সানী, রাশেদ রউফ এবং সুজন বড়ুয়া। সভাপতিত্ব করবেন বিশিষ্ট লেখক রশীদ হায়দার। সন্ধ্যায় রয়েছে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।
- ট্যাগ:
- বাংলাদেশ
- বই
- অন্যান্য
- অমর একুশে বইমেলা ২০১৬