ছবি সংগৃহীত
মার্কিন বর্বরতা ও নৃশংসতার সাক্ষী 'মাইলাই-গণহত্যা'
আপডেট: ০৫ সেপ্টেম্বর ২০১৩, ১২:০১
আজ থেকে ৪৪ বছর আগে ১৯৬৯ সালের এই দিনে ভিয়েতনামের মাইলাই গ্রামে গণহত্যায় জড়িত ২২ জন মার্কিন সেনার মধ্যে মাত্র একজনকে ১০৬ জন নারী, পুরুষ ও শিশু হত্যার পরিকল্পিত ঘটনায় জড়িত থাকার জন্য দায়ী করা হয়। লেফটেন্যান্ট উইলিয়াম ক্যালি নামের এই মার্কিন সেনা ছয়টি হত্যাকাণ্ডের জন্য অভিযুক্ত হন। মাইলাই গ্রামে ওই গণহত্যা সংঘটিত হয়েছিল ১৯৬৮ সালের ১৬ ই মার্চ। কিন্তু এই গণহত্যার খবর ফাঁস হয় এক বছর পরে। নিহতদের কারো কারো লাশ বিকৃত করা হয়েছিল এবং হত্যা করার আগে বহু নারীকে ধর্ষণ করেছিল বর্বর মার্কিন সেনারা। মার্কিন সেনাসূত্র মতে এ গণহত্যায় নিহত হয় ৩৪৭ জন। আর অন্য সূত্র মতে নিহত হয়েছিল ৪০০ জনেরও বেশি ভিয়েতনামী নাগরিক। এ ছাড়াও মাই খি গ্রামে নিহতরাসহ এ দুই গ্রামে মার্কিন সেনাদের পরিচালিত গণহত্যায় নিহতের মোট সংখ্যা ৫০৪ জন বলে ভিয়েতনাম সরকার উল্লেখ করেছে। ওই গণহত্যার খবরে বিশ্বব্যাপী নিন্দা ও প্রতিবাদের ঝড় ওঠে। খোদ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরেই যুদ্ধ-বিরোধী আন্দোলন জোরদার হয়। তিন জন মার্কিন সেনা ওই গণহত্যা ঠেকানোর এবং আহতদের রক্ষার চেষ্টা করেছিলেন বলে কয়েকজন কংগ্রেস সদস্য তাদেরকে বিশ্বাসঘাতক বলে উল্লেখ করেন যাতে ওই গণহত্যার ঘটনাটি ধামাচাপা পড়ে। তাদের কাছে নিন্দাবাদ জানানো চিঠি পাঠানো হয় এবং দেয়া হয় হত্যার হুমকী। পরে এই তিন সেনার ব্যাপক প্রশংসা করা হয় এবং খোদ মার্কিন সশস্ত্র বাহিনী তাদেরকে সম্মান জানায়। মাইলাই গণহত্যার প্রধান হোতা উইলিয়াম ক্যালিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়া হলেও বাস্তবে তাকে মাত্র সাড়ে তিন বছর গৃহবন্দী রেখে মুক্তি দেয়া হয়। আর এ থেকে মার্কিন বিচার বিভাগের দুর্বলতা ও অসঙ্গতিও সবার কাছে স্পষ্ট হয়ে যায়। সূত্রঃ রেডিও তেহরান