ছবি সংগৃহীত

ইসলামের দৃষ্টিতে ভোগবাদ কি এবং করনীয় কি?

মিরাজ রহমান
সাংবাদিক ও লেখক
প্রকাশিত: ১০ ফেব্রুয়ারি ২০১৫, ০৭:৩২
আপডেট: ১০ ফেব্রুয়ারি ২০১৫, ০৭:৩২

জীবনধারণের জন্য ন্যূনতম যে প্রয়োজন, তার বাইরে ভোগের নিমিত্তে জীবনের সিংহভাগ সময় ও শক্তির ব্যবহারই ভোগবাদ। সময়ের অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে জীবনোপকরণেরও পরিবর্তন প্রয়োজন হতে পারে। জীবনকে সুস্থ ও সুন্দর করার জন্য সর্বাবস্থায় ন্যূনতম প্রয়োজনীয় উপকরণ ব্যবহারের সংস্থান করতে হয় সব মানুষকেই। কিন্তু বাকি সময় মানবিক গুণাবলির বিকাশ ও সমাজ-সংসারের মঙ্গলের জন্য নিবেদিত হওয়া উচিত। অন্যদিকে নিত্যনতুন উপকরণ আহরণ এবং ভোগে জীবন ব্যয়িত হলে তা চরম ভোগবাদেরই নামান্তর। মুসলমানদের পানাহার, পরিধান ও বসবাসের জন্য মধ্যপন্থা পছন্দনীয় ও কাম্য। হজরত ইবনে আব্বাস [রা.] বলেন, যা ইচ্ছা পানাহার ও পরিধান কর, তবে দুটি বিষয় থেকে দূরে থাক : [ক] অপব্যয়, [খ] অহংকার। আরাম-আয়েশ ও ঐশ্বর্য অহংকার মানুষের মনে ঔদ্ধত্য ও সীমালঙ্ঘন প্রবণতা সৃষ্টি করতে পারে বলে ইসলাম বিলাসিতার বিরুদ্ধে। ইসলাম সম্পদ আহরণ ও সচ্ছলতার প্রতিপক্ষ নয়। জীবনযাপনের পর অতিরিক্ত অর্থ আর্তপীড়িত, দুস্থ, অভাবী মানুষকে দান করলে এবং সমাজের মঙ্গলে ব্যবহৃত হলে ইসলাম তাকে স্বাগত জানায়। সুরা আরাফে আল্লাহ বলেন, হে বনি আদম! তোমরা নামাজের সময় সাজসজ্জা পরে নাও, খাও ও পান কর, তবে অপব্যয় করো না। সুরা আহযাব-এ বলা হয়েছে, হে নবি, আপনার পত্নীগণকে বলুন, তোমরা যদি পার্থিব জীবন ও বিলাসিতা কামনা কর, তবে আসো, আমি তোমাদের ভোগের ব্যবস্থা করে দিই এবং উত্তম পন্থায় তোমাদের বিদায় দিই। সুরা বনি ইসরাইলে বলা হয়েছে নিশ্চয়ই অপব্যয়কারী শয়তানের ভাই। শয়তান স্বীয় পালনকর্তার প্রতি অতিশয় অকৃতজ্ঞ। হজরত আব্দুল্লাহ ইবনে শিখখির [রা.] বলেন, আমি একদিন রাসুলুল্লাহ [সা.]-কে সুরা তাকাসুর তিলাওয়াত করে বলতে শুনেছি, মানুষ বলে আমার ধন, আমার ধন, অথচ তোমার অংশ তো ততটুকুই, যতটুকু তুমি খেয়ে শেষ করে ফেল, অথবা পরিধান করে ছিন্ন কর, অথবা ছদকা করে সম্মুখে পাঠিয়ে দাও। এছাড়া যা আছে তা তোমার হাত থেকে চলে যাবে, তুমি অপরের জন্য তা ছেড়ে যাবে। মাওলানা মিরাজ রহমান