বসন্তের আগমণে আগুন ছড়িয়েছে পলাশ। ছবিটি রাজধানীর হাতির ঝিল থেকে তোলা। ছবি: প্রিয়.কম

পলাশ-রাঙা প্রকৃতি, মানবমনে বসন্তের প্রস্তুতি

প্রদীপ দাস
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১২ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ২০:৪৬
আপডেট: ১২ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ২০:৪৬

(প্রিয়.কম) ১০ থেকে ১৫টা পলাশ গাছ। রয়েছে বকুলও। আছে নাম না জানা আরো কিছু গাছ। গাছে গাছে বসন্তের ছোঁয়া খুব একটা না লাগলেও পলাশ গাছে যেনো ঠিকই লেগেছে। পরিচ্ছন্ন কংক্রিটের ঢালাইয়ে পড়ে আছে রাঙা পলাশ, কালচে পলাশ ফুলের গোড়া ও বড় বড় পাতা। অনেকটা পাতাহীন গাছে রাঙা পলাশের ছড়াছড়ি। প্রিয়জনকে দেবেন বলে কেউ কেউ লাফিয়ে লাফিয়ে রাঙা পলাশ পারার চেষ্টা করছেন। আবার কেউ পলাশ তলার নিচে বসে পলাশের সৌন্দর্য উপভোগ করছেন।

পলাশরাঙা এই দৃশ্যটি রাজধানীহাতিরঝিলের এফডিসি কর্নারের। রাঙা পলাশ আর তরুণ-তরুণীর এমন দৃশ্যই স্মরণ করিয়ে দিচ্ছে ফাগুন এসে গেছে। হ্যাঁ, রাত পোহালেই পয়লা ফাগুন। আর এই ফাগুনের ছোঁয়ায়ই যেন লেগেছে তরুণ-তরুণীসহ প্রকৃতির মনে। 

আবেগাপ্লুত হয়ে ফুল পাড়ছেন অনেকেই। ছবি: প্রিয়.কম

আবেগাপ্লুত হয়ে ফুল পাড়ছেন অনেকেই। ছবি: প্রিয়.কম

এফডিসির কংক্রিটের টাইলসে বসে গল্প করছিলেন শুভ, তুবা, হৃদয়, অন্তর ও তানভীর।অনেকটা কৌশলেই তুবা বলে বসেন, ‘ভাইয়া দেখেন, ওই মানুষ ফুল পাড়তেছে। এদেরকে বলতেছি ফুল পেড়ে এনে দিতে। কিন্তু দিচ্ছে না। এরা সবাই আন-রোমান্টিক! এদের দিয়ে কিছু হবে না।’

তুবার এমন অভিযোগ শুনে অবাক শুভ বলেন, ‘তুই কোন সময় কইলি! কইছস আমারে? আমি অহনই যাইয়া পাইরা লইয়া আমু!’

পলাশতলার নিচেই বসেছিলেন দুই তরুণী ও এক তরুণ। এদের মধ্যে এক তরুণী পলাশ ছিড়ে দিয়েছেন তরুণকে। জানতে চাইলে হেসে কুটিকুটি ওই তরুণী বলেন, ‘এ সময় পলাশ যেন একটু বেশিই সুন্দর। তাই পলাশ পেরে আমি ওকে দিছি। ওকে দেওয়ার জন্যই ছিঁড়েছি।’ তরুণীর কাছ থেকে পাওয়া লাল টকটকে পলাশ ফুল জামার বুকের অংশে গুঁজে রাখেন ওই তরুণ।

তরুণীর দেওয়া ফুল বুকের কাছে গুজে রাখেন তরুণ। ছবি: প্রিয়.কম

তরুণীর দেওয়া ফুল বুকের কাছে গুজে রাখেন তরুণ। ছবি: প্রিয়.কম

পলাশের পাশাপাশি রয়েছে বকুল গাছও। পলাশ গাছের পাতা ঝড়তে থাকলেও বকুলের পাতা ঝরার যেনো কোনো লক্ষণ নেই। আর ওই বকুল গাছের ছায়ার নিচে বসে ছিলেন মেরিন ইঞ্জিনিয়ার শুভ ও তার বন্ধবী।

পলাশের সৌন্দর্য বর্ণনা করে শুভ বলেন, ‘গাছে পাতা নেই, শুধু কমলা রঙের থোকা থোকা কিছু ফুল। এমন দৃশ্য দেখতে কার না ভালো লাগে।’ 

সুমন নামে আরেকজন বলেন, ‘পলাশ ফুল, গাছপালা, ঝিল, বসার সুব্যবস্থা থাকায় হাতিরঝিলের এই অংশ এক অন্যরকম রূপ ধারণ করেছে।’

প্রিয় সংবাদ/আজাদ