ঢাকায় তিন মেট্রোরেলে বড় বরাদ্দ, ঝুলে গেল তিনটি
ঢাকায় মোট ছয়টি মেট্রোরেলের কাজ চলমান। এমআরটি লাইন-৬ এর মতিঝিল-কমলাপুর বর্ধিতাংশের কাজ শেষ পর্যায়ে। ২০২৬-২৭ অর্থবছরে এটিসহ তিন মেট্রোরেল প্রকল্পে ১৩ হাজার ১৫৯ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। বাকি তিন প্রকল্পের বিষয়ে সরকার তদন্ত করে সিদ্ধান্ত নেবে।
বিষয়টি নিয়ে সম্প্রতি সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেন, বিগত সময়ে কিছু প্রকল্পে দুর্নীতি হয়েছে। দুর্নীতি কিংবা অব্যবস্থাপনার মাধ্যমে যেসব প্রকল্প এসেছে সেগুলো শনাক্ত করবে আইএমইডি (বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগ)। তদন্তের মাধ্যমে এসব প্রকল্পের বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আগামী দিনের বাংলাদেশের উন্নয়নের যে চিত্র সেখানেও আশা করি তার প্রতিফলন পাওয়া যাবে বলেও জানান তিনি।
অর্থমন্ত্রী বলেন, আমরা মনে করি এ প্রকল্পগুলো নতুনভাবে হবে। কারণ, সেগুলো তো সময়মতো শেষ করতে হবে। যেগুলো আমরা বিগত দিন থেকে পেয়েছি এই অসমাপ্ত কাজগুলো কতটুকু সমাপ্ত করবো সেগুলো রিভিউয়ের মাধ্যমে সমাধান হবে। যেগুলোর আসলে প্রয়োজনীয়তা নেই সেগুলো বাদ দেওয়া হবে। যেগুলো বরাদ্দ দেওয়ার তা দেওয়া হয়েছে বাকিগুলো তদন্ত করেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
এমআরটি লাইন-১ এর (পাতাল) বরাদ্দ ৭৩৫০ কোটি টাকা
দেশের প্রথম পাতাল রেল বিমানবন্দর থেকে কমলাপুর ও নতুনবাজার থেকে পূর্বাচল পর্যন্ত বাস্তবায়ন করা হবে। চলমান এ প্রকল্পে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে (আরএডিপি) ৭ হাজার ৩৫০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। গত অর্থবছর তিন হাজার ৫৯৪ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। ফলে দেশের প্রথম পাতাল রেলে বরাদ্দ এবার বাড়লো।
২০২৬ সালের মধ্যে ৫২ হাজার ৫৬১ দশমিক ৪৩ কোটি টাকা ব্যয়ে বিমানবন্দর থেকে কমলাপুর ও পূর্বাচল থেকে নতুনবাজার পর্যন্ত মাটির নিচ দিয়ে ও এলিভেটেড- উভয় সুবিধা সম্বলিত এমআরটি লাইন-১ নির্মাণ করা হবে।
প্রকল্পের বিবরণ অনুযায়ী এমআরটি লাইন-১ এর দুটি অংশ থাকবে। যার একটি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে কমলাপুর পর্যন্ত (বিমানবন্দর রুট) ১৯ দশমিক ৮৭২ কিলোমিটার অংশ। এটি হবে ভূগর্ভস্থ। এতে ১২টি স্টেশন থাকবে।
অন্য অংশটি নতুনবাজার থেকে প্রায় ১১ দশমিক ৩৭ কিলোমিটার এলিভেটেড লাইনসহ পূর্বাচল পর্যন্ত (পূর্বাচল রুট)। এতে সাতটি স্টেশন থাকবে।
এমআরটি-৬ প্রকল্পে (অসমাপ্ত) ১ হাজার ৮৯৯ কোটি বরাদ্দ
মেট্রোরেল লাইন এমআরটি-৬ (মতিঝিল থেকে কমলাপুর) প্রকল্পে ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ১ হাজার ৮৯৯ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন একেবারে শেষ পর্যায়ে। গত সংশোধিত এডিপিতে ১ হাজার ৬৪১ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। ফলে নতুন এডিপিতে প্রকল্পের আওতায় বরাদ্দ বাড়ানো হলো।
এমআরটি-৫, নর্দান রুটে (পাতাল) বরাদ্দ ৩৯০৯ কোটি টাকা
মেট্রোরেল লাইন এমআরটি-৫ (নর্দান) প্রকল্পের আওতায় পাতাল রেল নির্মাণ করা হবে। কাজ এগিয়ে নিতে বরাদ্দ বাড়ানো হয়েছে। ২০২৬-২৭ অর্থবছরে এ প্রকল্পে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ৩ হাজার ৯০৯ কোটি টাকা। অথচ প্রকল্পের আওতায় গত সংশোধিত বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে ব্যয় বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল মাত্র ৮৬৮ কোটি টাকা।