মোহাম্মদ রুহুল আমিন এবং নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফটক। ছবি: সংগৃহীত

নিজ জেলার বিশ্ববিদ্যালয়ে অবহেলিত বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমিন

ওহী আলম
শিক্ষার্থী, নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়
প্রকাশিত: ২০ ডিসেম্বর ২০১৮, ১৮:৫১
আপডেট: ২০ ডিসেম্বর ২০১৮, ১৮:৫১

বীরত্বের জন্য বাংলাদেশের সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় পদক পেয়েছেন। ১৯৭১ সালের মহান স্বাধীনতা যুদ্ধক্ষেত্রে অতুলনীয় সাহস ও আত্মত্যাগের নিদর্শন স্থাপনকারী বীর মুক্তিযোদ্ধাদের স্বীকৃতিস্বরূপ এই পদক দেওয়া হয়। বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে শহিদ সাতজন মুক্তিযোদ্ধাকে এই পদক দেওয়া হয়েছে।

এই সাতজনের একজন ইঞ্জিন রুম আর্টিফিশিয়াল মোহাম্মদ রুহুল আমিন। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে বাংলাদেশ নৌ বাহিনীর গানবোট ‘পলাশ’কে বাঁচানোর চেষ্টায় যিনি শহিদ হয়েছিলেন।

১৯৩৫ সালে নোয়াখালী জেলার সোনাইমুড়ি উপজেলার বাঘপাঁচড়া গ্রামে খুব সাধারণ পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন রুহুল আমিন। তার পিতা আজহার পাটোয়ারী এবং মায়ের নাম জোলেখা খাতুন। পড়াশোনা শেষে জুনিয়র মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে রুহুল আমিন যোগদান করেন তৎকালীন পাকিস্তান নৌ বাহিনীতে। ১৯৭১ সালে রুহুল আমিন চট্টগ্রামে কর্মরত ছিলেন। দেশের টানে, দেশকে শত্রু মুক্ত করতে তিনি যোগ দেন মুক্তিযুদ্ধে।

স্থলযুদ্ধের বিভিন্ন অভিযানেও যোগ দেন রুহুল আমিন৷ পরবর্তীতে বিভিন্ন সেক্টর ও সাব-সেক্টর থেকে নৌবাহিনীর সদস্যদের একত্রিত করে গঠন করা হয় বাংলাদেশ নৌ বাহিনী। আর গানবোট ‘পলাশ’-এর প্রধান ইঞ্জিন রুমে আর্টিফিসার হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন অকুতোভয় মোহাম্মদ রুহুল আমিন।

রুহুল আমিনের জেলায় প্রতিষ্ঠিত হয়েছে নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (নোবিপ্রবি)। কিন্তু প্রতিষ্ঠার ১৪ বছরে পার করতে যাওয়া জেলার সর্বোচ্চ এই বিদ্যাপীঠে অবহেলিতই থেকে গেলেন জাতির বীর সন্তান রুহুল আমিন।

নোবিপ্রবিতে বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমিনের নামে নেই কোনো স্মৃতি স্তম্ভ। এমনকি বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো হল, ভবন বা ভাস্কর্য কোথাও খুঁজে পাওয়া যায় না জাতির এই বীর সন্তানের নাম।

বিশ্ববিদ্যালয় দুটি নির্মাণাধীন হলসহ পাঁচটি আবাসিক হল থাকলেও কোনোটির নামকরণেই এই বীরশ্রেষ্ঠের নাম ঠাঁই পায়নি। এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়টির বিভিন্ন অঙ্গ-সংগঠন ও সাধারণ শিক্ষার্থীরা দীর্ঘদিন ধরে দাবি জানিয়ে আসলেও কোনো আশানুরুপ ফলের দেখা মেলেনি।

আমাদের সবার দাবি, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন যেন বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমিনের নামে স্মৃতি স্তম্ভ করার উদ্যোগ গ্রহণ করে এবং একই সঙ্গে হল কিংবা ভবনের নামকরণ জাতির এই শ্রেষ্ঠ সন্তানের নামানুসারে করা হয়।

[প্রকাশিত মতামত লেখকের একান্তই নিজস্ব। প্রিয়.কম লেখকের মতাদর্শ ও লেখার প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত মতামতের সঙ্গে প্রিয়.কম-এর সম্পাদকীয় নীতির মিল না-ও থাকতে পারে।]