বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত মেয়র পদপ্রার্থী সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ। ছবি: সংগৃহীত
সাদিক আবদুল্লাহ্ ‘স্বশিক্ষিত’
আপডেট: ২৭ জুলাই ২০১৮, ১৮:০৬
(প্রিয়.কম) বরিশাল সিটি করপোরেশনের আওয়ামী লীগ মনোনীত মেয়র পদপ্রার্থী সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ্ প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাগত যোগ্যতা দেননি। নির্বাচন কমিশনে (ইসি) দেওয়া হলফনামায় সাদিক আবদুল্লাহ্ নিজেকে ‘স্বশিক্ষিত’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন, যা অপ্রাতিষ্ঠানিক।
নির্বাচন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এখানে প্রার্থীকে প্রতিষ্ঠানিক শিক্ষাগত যোগ্যতা লেখার কথা বলা হয়েছে। হলফনামায় প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাগত যোগ্যতার জায়গায় কেউ নিজেকে স্বশিক্ষিত উল্লেখ করলে সেটা প্রচলিত আইনকে ফাঁকি দেওয়া হবে। এ জন্য প্রার্থিতা বাতিল হওয়ার বিধান রয়েছে।
‘স্থানীয় সরকার (সিটি করপোরেশন) আইন, ২০০৯’-এ মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থীদের হলফনামার যাবতীয় বিষয় সম্পর্কে উল্লেখ আছে। তাতে বলা হয়েছে, কোনো প্রার্থী যদি তার হলফনামায় মিথ্যা তথ্য দেন, তাহলে অসদাচরণের দায়ে তার প্রার্থিতা বাতিল করবে নির্বাচন কমিশন।
৩০ জুলাই ভোট হতে যাওয়া বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচনে সাত জন মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া হলফনামা ঘেঁটে জানা যায়, শিক্ষাগত যোগ্যতার স্থানে কাস্তে প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা আবুল কালাম আজাদ বিএ (এলএলবি), হাত পাখা প্রতীকের ওবায়দুর রহমান দাওরা হাদিস, হরিণ প্রতীকের বশির আহমেদ ঝুনু এসএসসি, মই প্রতীকের মনীষা চক্রবর্তী এমবিবিএস, লাঙ্গল প্রতীকের মো. ইকবাল হোসেন বিএসসি, ধানের শীষ প্রতীকের মো. মজিবর রহমান সরওয়ার এলএলবি ও নৌকা প্রতীকের সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ্ স্বশিক্ষিত উল্লেখ করেছেন।
বরিশাল, রাজশাহী ও সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচন উপলক্ষে গত ২৫ জুলাই জাতীয় প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)। বিষয় ছিল এই তিন সিটি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী প্রার্থীদের তথ্য উপস্থাপন। এ সময় নির্বাচনি হলফনামায় ‘স্ব-শিক্ষিত’ লেখার বিষয়টি নিয়ে কথা বলেন সুজনের নির্বাহী সদস্য ড. তোফায়েল আহমেদ।
এই স্থানীয় সরকার বিশেষজ্ঞ বলেন, ‘নির্বাচনি প্রার্থীরা ‘‘স্বশিক্ষিত’’ বলে একটি শব্দ ব্যবহার করছেন। স্ব-শিক্ষার একটা অংশ সবার মধ্যেই আছে। আমাদের কিছু শিক্ষা হয় প্রতিষ্ঠানিকভাবে আর আমরা অপ্রতিষ্ঠানিকভাবেও শিক্ষিত হই। তা না-হলে আমাদের ব্যবহার, আচরণ কই থেকে আসে? আমরা সবাই স্বশিক্ষিত। কিন্তু নির্বাচনি হলফনামায় স্বশিক্ষিত লেখার কথা বলা হচ্ছে না। এখানে আপনার প্রতিষ্ঠানিক শিক্ষাগত যোগ্যতা লেখার কথা বলা হচ্ছে। তাহলে আপনি জেনে-বুঝে ইচ্ছাকৃতভাবে এই কাজটি করছেন? প্রার্থীরা এতই স্বশিক্ষিত হয়ে গেছেন, জেনে-শুনে তারা সব আইন-কানুনকে ফাঁকি দিচ্ছেন। কিন্তু এটার কোনো প্রতিকার হচ্ছে না।’
তোফায়েল আহমেদ আরও বলেন, ‘এই তিন সিটি নির্বাচনের কাউন্সিলর, মেয়রদের প্রায় ৫০ ভাগ স্কুল (এসএসসি) পাস করেননি। শিক্ষাই একমাত্র যোগ্যতা, তা আমি বলব না। কিন্তু আধুনিক নগর গড়ার জন্য যে মানুষ প্রয়োজন, তার শিক্ষাগত যোগ্যতাটাও থাকতে হবে। তা না-হলে প্রার্থীর পক্ষে অনেক কিছুই বোঝা সম্ভব হবে না। কিন্তু এই প্রশ্নগুলো মানুষের মধ্যে আসছে না।’
প্রিয় সংবাদ/রিমন