ছবি সংগৃহীত

শখ যখন ডাকটিকেট সংগ্রহ

Tahmina Sultana Chhanda
লেখক
প্রকাশিত: ১৮ মে ২০১৩, ১৪:৫৯
আপডেট: ১৮ মে ২০১৩, ১৪:৫৯

ছোটবেলায় অনেকের নানা রকম শখ থাকে, একসময় সেই শখ নেশার মতো হয়ে যায়। এরকমই একটি শখ হলো ডাকটিকেট সংগ্রহ করা। প্রথমে একটা-দুটা করে জমাতে জমাতে একসময় শ'য়ে শ'য়ে ডাকটিকেট জমানোর ঘটনা বিরল নয়। একটা সময় ছিলো যখন চিঠি আদানপ্রদানের চল ছিলো। সেই চিঠির খামে যেই ডাকটিকেট পাওয়া যেতো তাই জমাতো অনেকে শখ হিসেবে। এখন কালের বিবর্তনে চিঠি দেয়া নেয়া হয়না বললেই চলে। সেই সাথে কমে গেছে ডাকটিকেট সংগ্রহের শখটিও। এই ডাকটিকেট সংগ্রহ করা শুধুমাত্র একটি শখই নয় এটি শিক্ষামূলকও বটে। বিদেশের ডাকটিকেট সংগ্রহের মাধ্যমে সেই দেশের কৃষ্টি-সংস্কৃতি, শিল্প-সাহিত্য, জীবনযাত্রার ধরন সম্পর্কেও একটা ধারণা পাওয়া যায়।

ডাকটিকেটের প্রচলন

১৮৩৭ সালের দিকে প্রেরককে নয় বরং প্রাপককেই ডাক মাশুল দিতে হতো। এই মাশুলটা নির্ভর করতো চিঠির পাতার সংখ্যার উপর । যতো বড় চিঠি, তত বেশি টাকার ডাক মাশুল। কিন্তু কেই বা চায় এতো টাকা মাশুল দিতে! তাই প্রাপকেরা শুরু করলো স্বভাবশত তালবাহানা করা। এই সময়েই এসব অসুবিধা দূর করার লক্ষ্যে ব্রিটেনের রোল্যান্ড হিল ডাক বিভাগের সংস্কারে বিভিন্ন প্রস্তাব আনেন, যার অন্যতম ছিল ডাক টিকেটের প্রচলন। আর এভাবেই রোল্যান্ড হিল হয়ে যান ডাকটিকেটের জনক আর তাঁর পর থেকেই হয় ডাকটিকেটের প্রচলন। শুধু তাই নয়, ১৮৪০ সালে রোল্যান্ডের প্রস্তাবানুসারে নিয়ম হলো প্রাপকের পরিবর্তে প্রেরককে ডাকমাশুল দিতে হবে এবং তা হবে ওজনের উপর ভিত্তি করে।

বিশ্বের প্রথম ডাকটিকেট

বিশ্বের প্রথম ডাকটিকেটটি হচ্ছে পেনি ব্ল্যাক , যা প্রকাশিত হয় ১৮৪০ সালের ৬ই মে বৃটেনে । সেই ডাকটিকেটে ছিল বৃটেনের রানীর প্রতিকৃতি।

এশিয়ার প্রথম ডাকটিকেট

১৮৫২ সালের জুলাইয়ের ১ তারিখ ভারতের সিন্ধু প্রদেশে এশিয়ার দেশের মধ্যে প্রথম এবং বিশ্বের ১০ নাম্বার দেশের মধ্যে একটি দেশ হয়ে ডাকটিকেটের প্রচলন করে। এই ডাকটিকেটটি ছিল সার্কুলার শেপের লাল, সাদা আর নীলের সংমিশ্রণে। এটি বিশ্বের প্রথম সার্কুলার শেপের ডাকটিকেট।

বাংলাদেশের প্রথম ডাকটিকেট

স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম স্মারক ডাকটিকেটটি মুক্তিযুদ্ধ যুদ্ধ চলাকালীন সময়ে ১৯৭১ সালের ২৯শে জুলাই প্রকাশিত হয়। লন্ডন প্রবাসী ভারতীয় বাঙালী বিমান মল্লিক বিনা পারিশ্রমিকে আটটি ডাকটিকেটের ডিজাইন করে দেন। ১০ পয়সা, ২০ পয়সা, ৫০ পয়সা, ১ রুপি, ২ রুপি, ৩ রুপি, ৫ রুপি এবং ১০ রুপি মূল্যমানের আটটি ডাকটিকেটের ডিজাইন করেন তিনি।

ডাকটিকেট সংগ্রহ

সাধারণত পুরনো ডাকটিকেটের দোকান, বিভিন্ন চিঠির খাম থেকে বা কারো কাছ থেকে নিয়ে অনেকে ডাকটিকেট সংগ্রহ করে থাকেন। তবে চাইলে ঢাকা জিপিও-র নিচ তলায় অবস্থিত ফিলাটলিক ব্যুরো থেকে ডাক টিকেট সংগ্রহ করতে পারেন। সর্বশেষ প্রকাশিত ডাকটিকেট, স্মারক ডাকটিকেট, স্মারক খাম ইত্যাদি পাওয়া যাবে এখানে।

ডাকটিকেট সংগ্রহ পদ্ধতি

যারা ডাকটিকেট খাম থেকে নিয়ে সংগ্রহ করেন তাঁদের অনেকেই টান দিয়ে তা খাম থেকে ছিঁড়ে নেন, এতে করে ডাকটিকেটের সৌন্দর্য যেমন নষ্ট হয় তেমনি পদ্ধতিটিও ভুল। সঠিক পদ্ধতিটি হলো, খামের যে অংশে ডাক টিকেট লাগানো আছে সে অংশটুকু কেটে কিছু সময়ের জন্য ঠান্ডা পানিতে ভিজিয়ে রাখতে হবে। তারপর ডাকটিকেট আলাদা করে পেছনের আঠা ছাড়িয়ে বা ধুয়ে নিতে হবে। এরপর ডাকটিকেটটি নিউজপ্রিন্ট কাগজে চাপ দিয়ে শুকিয়ে নিতে হবে। সবশেষে দু’টি কাগজের মাঝে ডাকটিকেট রেখে ইস্ত্রি করে শুকিয়ে নিলে দীর্ঘদিন সংরক্ষণ করা যায়।

স্টাম্প বুক বা অ্যালবাম

ডাকটিকেট সংরক্ষণের জন্য স্টাম্প পাওয়া যায় সেখানে আঠা লাগানোর কোনো ঝামেলা নেই এবং স্ট্যাম্প নষ্ট হবারও ভয় নেই। এছাড়াও ডাকটিকেট সংরক্ষণের বিশেষ ধরনের অ্যালবামও পাওয়া যায়। প্লাস্টিক বা সেলোফেনের ফিতায় তৈরি করা ঘরে ডাক টিকেট আটকে রাখার ব্যবস্থা থাকে এধরনের অ্যালবামে। ফলে অনেকদিন পর্যন্ত ভালো থাকে ডাকটিকেট।

ডাকটিকেট কিনতে পারেন যেখান থেকে

ফিলাটলিক ব্যুরো জিপিও (নিচ তলা), ঢাকা। সালাম স্ট্যাম্প সেন্টার ৬৮, কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ (২য় তলা), ফার্মগেট, ঢাকা-১২১৫। সুপ্রিম স্ট্যাম্প ইন্টারন্যাশনাল রোজ ভিউ প্লাজা (৫ম তলা), ১৮৫ এলিফ্যান্ট রোড (হাতিরপুল বাজারের বিপরীত দিকে), ঢাকা-১২০৫। স্ট্যাম্প প্লাস শরিফা বিল্ডিং (৩য় তলা), ১/এ শান্তিবাগ, মালিবাগ মোড়, ঢাকা-১২১৭।