ছবি সংগৃহীত

জ্ঞান অর্জন করাকে ইসলাম এতোটা গুরুত্ব দিয়েছে কেন?

মিরাজ রহমান
সাংবাদিক ও লেখক
প্রকাশিত: ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৫, ০৬:৩৮
আপডেট: ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৫, ০৬:৩৮

ইসলামে জ্ঞান অর্জনকে সর্বাবস্থায় উৎসাহিত করা হয়েছে। জ্ঞান অর্জনকে ইবাদত হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে ইসলামী বিধানে। মানবিয় গুণাবলির বিকাশ সাধনপূর্বক আল্লাহ প্রদত্ত বিধান অনুযায়ী জীবনযাপন করার জন্য ইসলামী শিক্ষা অত্যন্ত আবশ্যক। ইসলামী শিক্ষা তথা শিক্ষার সর্বাত্মক গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তার কারণেই আল্লাহ তায়ালা তার সৃষ্ট প্রথম মানবকে সর্বপ্রথম শিক্ষাদান করেছেন। ইরশাদ হচ্ছে, তিনি আদমকে যাবতীয় বস্তুর নাম শিক্ষা দিলেন। [সুরা বাকারা-৩১] আল্লাহর প্রেরিত রাসুল, মোহাম্মদ [সা.]-এর কাছে হেরা গুহায় প্রথম যে আদেশপ্রাপ্ত হন তাও ছিল ইকরা বা পড়ো দিয়ে আরম্ভ। রাসুল [সা.] বলেছেন, আল্লাহ যার দ্বারা কল্যাণ কামনা করেন, তাকে দ্বীনের জ্ঞানদান করেন। [বোখারি ও মুসলিম] আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেন, তোমাদের মধ্যে যারা ইমান এনেছে এবং যাদের [অতীন্দ্রিয়] জ্ঞান দান করা হয়েছে আল্লাহ তাদের [উপযুক্ত] মর্যাদায় উন্নীত করবেন। তোমরা যা কর আল্লাহ সে সম্বন্ধে সম্যক অবগত। [সুরা মুজাদালা-১১] জ্ঞান মানবিয় কল্যাণের জাদুকাঠি। জ্ঞানের সংস্পর্শে এসে মানুষ সার্বিক কল্যাণের অধিকারী হতে পারে। জ্ঞান মানুষকে প্রকৃত চিন্তাশীল ও সার্বিক নির্ধারক হিসেবে তৈরি করে। জ্ঞান অম্বেষণের ফলে মানুষের বিশ্বাসের ভিত মজবুত হয়। জ্ঞানের চেয়ে শ্রেষ্ঠ সম্পদ আর নেই। এই জ্ঞান প্রজ্ঞার জোরেই মানুষ পশুত্বের স্তর থেকে মনুষ্যত্বের স্তরে উঠে এসেছে। জ্ঞান অর্জিত হয় শিক্ষার মাধ্যমে। ইসলাম এ জন্যই জ্ঞান অর্জনকে ফরজ ঘোষণা করেছে। রাসুল [সা.] বলেন, জ্ঞান অর্জন করা প্রত্যেক মুসলমানের অপরিহার্য কর্তব্য। [ইবনে মাজাহ] আল কোরানের সুরা ফাতিরের ২৮নং আয়াতে উল্লেখ করা হয়েছে, আল্লাহর বান্দাদের মধ্যে শুধু জ্ঞানীরাই আল্লাহকে ভয় করে। এই আয়াতের মাধ্যমে বোঝানো হয়েছে যে জ্ঞানী সে যেহেতু আল্লাহর কুদরত সম্পর্কে অভিহিত সেহেতু সে আল্লাহকে ভয় করা বা তার প্রতি অনুগত থাকাকে করণীয় কর্তব্য বলে ভাবে। রাসুল [সা.] বলেন, যে ব্যক্তি জ্ঞান অর্জনে পথ চলে, আল্লাহ তাকে জান্নাতের পথে নিয়ে যান; ফেরেস্তাগণ আনন্দে তার জন্য পাখা বিছিয়ে দেন। আকাশ ও পৃথিবীবাসীরা, এমনকি পানির মৎস্যগুলোও তার জন্য আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করতে থাকে। নক্ষত্ররাজির মধ্যে পূর্ণচন্দ্র যেমন শ্রেষ্ঠ, আবেদদের মাঝেও আলেমরা তেমনই শ্রেষ্ঠ। বিদ্বানরা নবিদের উত্তরাধিকারী। নবিরা ধন-দৌলতের অধিকারী ছিলেন না, তারা বিদ্যার অধিকারী ছিলেন। যে ব্যক্তি তা গ্রহণ করেছে, সে বড় অংশ নিয়েছে। [আবু দাউদ, তিরমিজি, ইবনে মাজাহ] মাওলানা মিরাজ রহমান