ছবি সংগৃহীত

চলুন যাই দর্জি-বাড়ি (দ্বিতীয় পর্ব )

roza swarna
লেখক
প্রকাশিত: ১৯ জুলাই ২০১৩, ২৩:৪৬
আপডেট: ১৯ জুলাই ২০১৩, ২৩:৪৬

আজকাল ক্লাসিক সালোয়ার ধাঁচের পায়জামা গুলো যেন বড্ড বেমানান। সালোয়ারের কাটেও যেমন পরিবর্তন এসেছে,তেমনি তরুণীরা পরছেন ভিন্ন স্টাইলের পায়জামা গুলোও। বিভিন্ন রকমের কামিজের সাথে তারা এখন ভিন্ন ভিন্ন রকমের পায়জামা পরতে পছন্দ করেন। সেসব দিক বিবেচনা করে বাজারে আগমন ঘটছে নিত্য-নতুন স্টাইলের পায়জামার। দর্জির ডিজাইন বইতেও এরা নিজেদের অবস্থান করে নিয়েছে সগৌরবে। তবে চলুন, আজ জেনে নেওয়া যাক নানা রকমের পায়জামার স্টাইল সম্পর্কে-

সাধারণ সালোয়ারঃ

দিনে দিনে অনেক ঢঙে সেজেছে এ সালোয়ার নামক বস্তুটি। কখনো মাত্রাতিরিক্ত ঢোলা তো আবার কখনো বেশি চাপা। কখনো কুঁচিতে ভরা,কখনো আবার একদম ছিমছাম। মুহুরির দৈর্ঘ্য-প্রস্থ নিয়েও চলছে অনেক পরীক্ষা-নিরীক্ষা। কয়েক বছর আগের শর্ট কামিজের সাথের ঢিলে-ঢালা পায়জামাটি এখন অনেকটাই চাপা ধরণের। উপর থেকে নিচ অবধিই চাপা রাখার ট্রেন্ড চলছে এখন। মুহুরিতে চওড়া বর্ডারের ব্যবহারও লক্ষ্য করা যায়। এমন একটা সাধারণ সালোয়ার বানাতে খরচ পড়বে ৫০-২০০ টাকা।

চুরিদারঃ

চুরিদারের ফ্যাশন প্রায়ই ওঠা-নামা করতে দেখা যায়। তবে কয়েক বছর যাবত নিজের একটা পোক্ত অবস্থান করে নিতে পেরেছে চুরিদার পায়জামা। লম্বা কামিজ বা আনারকলির সাথে চুরিদার বেশি মানানসই। তরুণীদের বেশ পছন্দ এ ধরণের পায়জামাটি। 'লন' ড্রেসগুলো আসার পর থেকে চুরিদারের জনপ্রিয়তা যেন আরো বেড়ে গিয়েছে। সব বয়সী মেয়েদেরই সাধারণত চুরিদারে মানিয়ে যায়। তবে মোটা মেয়েদের এটি এড়িয়ে চলা উচিত,কেননা তাদের জন্য এটি আরামের অন্তরায় হতে পারে। দক্ষ কারো কাছ থেকেই চুরিদার সেলাই করানো উচিত,কারণ চুরিদারের ফিটিং এর উপরেই এর সৌন্দর্য নির্ভর করে। চুরিদার বানাতে আপনাকে খরচ করতে হবে ১০০-৩০০ টাকা।

চোস্ত পায়জামাঃ

চোস্ত পায়জামা বলতে গেলে চুরিদারেরই ভিন্ন রূপ। এতে শুধু কুচি গুলো দেওয়া হয় না,আর মুহুরির ভাঁজ গুলোও থাকে কম। অনেক সময় থাকেও না। এ ধরণের পায়জামা সাধারণত পাঞ্জাবী বা সেমি লং কামিজের সাথে বেশি মানায়। চোস্ত পায়জামার মজুরিও চুরিদারের কাছাকাছি। এর সেলাই খরচ ১০০-২০০ টাকা ।

ধুতি পায়জামাঃ

কম বয়সী মেয়ে তথা কিশোরী ও টিন এজারদের পছন্দের শীর্ষে রয়েছে ধুতি পায়জামা। শুধু মেয়েরাই নয়, ছেলেরাও এখন পাঞ্জাবীর সাথে ধুতি পায়জামা পরতে বেশি পছন্দ করে। ঈদ উৎসবে তো কোন কথাই নেই। ধুতি পায়জামা বানিয়ে নেওয়ার সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো আপনি আপনার মন মত কাপড়,আকার ও ঘেরের পরিমাণ বলে দিতে পারবেন। নয়তো বাজারে কেনা ধুতি গুলো আপনাকে তুষ্ট করতে পারবে না কখনোই। ধুতি পায়জামা বানাতে খরচ হবে ২০০-৮০০ টাকার মত। আর এটি বানাতে লাগতে পারে আড়াই থেকে ৪ গজের মত কাপড় (কাপড়ের বহরের উপর ভিত্তি করে ) ।

প্যান্ট স্টাইলঃ

বর্তমান সময়ের সবচেয়ে জনপ্রিয় পায়ের পোশাক হচ্ছে প্যান্ট কাটের পায়জামা। এটি দেখতে অনেকটাই প্যান্টের মত; শুধু কাপড়টা আলাদা। অন্য সব কিছুই প্যান্টধাঁচে তৈরি করা হয়। কাপড়ের ক্ষেত্রে দেওয়া হয় থ্রী পিসের সাথের কাপড়টি কিংবা অন্য সব সাধারণ সুতি বা সিনথেটিককে। তবে বেশি স্বচ্ছ্ব কাপড় না নেওয়াই ভালো। এতে প্যান্টের আসল রূপ ক্ষুন্ন হতে পারে। সব বয়সের মেয়েরাই একচেটিয়া প্যান্ট কাটের দিকেই ঝুঁকে পড়েছে। এবারের ঈদেও এর আবির্ভাব কোন অংশে কম নয়। এ ধরণের পায়জামা বানাতে লাগবে আড়াই থেকে সাড়ে তিন গজ কাপড় এবং মজুরি দিতে হবে ৫০০-১৪০০ টাকার মত ।

ডিভাইডারঃ

এখন এ ধরণের পায়জামা খুব একটা চোখে পড়ে না। তবু যদি কারো ব্যক্তিগত পছন্দ হয়ে থাকে তবে তারা বানাতে পারেন। এর ধরণ অনেকটা প্যন্টের মত আর গোড়ালীর দিকে কিছুটা অংশ কাটা থাকে। এটিও আড়াই থেকে তিন গজ কাপড়েই হয়ে যায়। আর খরচ সাধারন সালোয়ারের মতই।

পাটিয়ালাঃ

আমাদের দেশে এ ধরণের পায়জামা নতুন। সব দর্জির কাছে এটি এত পরিচিতও নয়। তবে এ ধরণের পায়জামার একটি বড় বৈশিষ্ট্য হল এদের নজরকাড়া সৌন্দর্য্য। যে কোন ধরণের পোশাকের সাথে যে কোন বয়সেই মানানসই এ পায়জামাটি। পাটিয়ালাতে লাগে ৩-৪ গজ কাপড় ও বুননে খরচ পড়বে ৫০০-১০০০ টাকা।

আলিফ-লায়লাঃ

সাধারণত এ ধরণের পায়জামা বাচ্চা মেয়েরা বেশি পছন্দ। তৈরির কৌশলে একটা ফ্যান্টাসি ভাব থাকে বলে এটি বাচ্চাদের বেশি আকর্ষিত করে থাকে। তাই বলে বড়রাও কম যান না। সব বয়সের মেয়েদেরই এ পায়জামাতে ভালো দেখাবে। এ ধরণের পায়জামার সামনের অংশে ঝুলের মত সেলাই করা ডিজাইন থাকে। এতে প্রায় ৩-৪ গজেরও বেশি কাপড় লাগে। আর বানাতে খরচ হতে পারে ৪০০-৮০০ টাকা । এই ছিল পায়জামা বৃত্তান্ত। জেনেই তো গেলেন নানা রকম পায়জামার চলতি ও পড়তি স্টাইল সম্পর্কে। এবার আর বাছাই করতে নেই মানা। ঝটপট বেছে নিন আপনার উপযোগী ডিজাইনটি আর বানিয়ে নিন আপন পছন্দ মত। সবার জন্য শুভ কামনা ।