ছবি সংগৃহীত

আসছে শৈবাল দিয়ে তৈরি জ্বালানি তেল!

প্রিয় লাইফ
লেখক
প্রকাশিত: ২৪ ডিসেম্বর ২০১৩, ১০:৫৯
আপডেট: ২৪ ডিসেম্বর ২০১৩, ১০:৫৯

অতি শীঘ্রই বিভিন্ন যানবাহন যেমন প্লেন, ট্রাক ও অন্যান্য গাড়িগুলোকে গ্যাসোলিন কিংবা পেট্রোল স্টেশনের সামনে দাঁড়িয়ে না থেকে কোন পুকুরের সামনে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখেন জ্বালানি নেয়ার জন্য, তবে অবাক হবেন না। কারণ এবার পুকুরে জমে থাকা শৈবাল থেকে মাত্র ১ ঘণ্টায় জ্বালানী তৈরির পদ্ধতি উদ্ভাবন করেছেন বিজ্ঞানীরা। নতুন উদ্ভাবিত এই জ্বালানীর ১০-২০% হচ্ছে শৈবাল, বাকিটুকু হচ্ছে পানি।

শৈবাল ও পানির মিশ্রণকে একটি হাই-টেক প্রেশার কুকারে ঢুকিয়ে ৩০০০ পাউন্ড/ বর্গ ইঞ্চি চাপে ৬৬০ ডিগ্রি ফারেনহাইট তাপমাত্রায় উত্তপ্ত করা হয়। এর ফলে মিশ্রণটি তরল অবস্থায় থাকে। এক ঘণ্টা পর অপরিশোধিত তেল পানি থেকে পৃথক হয়ে যায়। আর এই তেলকে গ্যাস, ডিজেল কিংবা গ্যাসোলিনের বিকল্প হিসেবে খুব সহজেই ব্যবহার করা যাবে। শুধু তাই নয়, অপরিশোধিত তেল সংগ্রহ করার পর যে অবশিষ্ট অংশ থাকে সেটাকে আরো প্রক্রিয়াজাত করার পর মিথেন, আরো সঠিকভাবে বললে প্রাকৃতিক গ্যাস পাওয়া যায়। বাকি অংশে থাকে নাইট্রোজেন সমৃদ্ধ পানি ও ফসফরাস, যেটাকে পরবর্তীতে শৈবাল জন্মানোর জন্য পুনরায় ব্যবহার করা যায়। Hydrothermal liquefaction নামে নতুন এই প্রযুক্তি অনেক কম খরচে জ্বালানী উৎপাদনের সুযোগ করে দিবে। আর এটার আরেকটি সুবিধা হলো এখানে শৈবালের সবটুকু অংশ জ্বালানী তৈরির জন্য ব্যবহার করা যায়। অপচয় হয় না মোটেও।
তবে এখন পর্যন্ত এটা গবেষণাগারের মাঝেই সীমাবদ্ধ�� গবেষকরা একবারে এখন পর্যন্ত এক ব্যাচ অপরিশোধিত তেল উৎপাদনে সমর্থ হয়েছেন। এছাড়া পানি থেকে বিভিন্ন ধরণের তেল পৃথক করার জন্য ব্যবহার করতে হয়েছে রাসায়নিক দ্রাবক। তাই গবেষকদের জন্য বাকি চ্যালেঞ্জের কাজ হচ্ছে, এই তেলের ব্যপক উৎপাদন ও সেটাকে বিশ্ববাজারে ছড়িয়ে দেয়ার মতো উপযোগী করে গড়ে তোলা। এছাড়া যেহেতু এই তেল উদ্ভিদভিত্তিক, তাই এর ব্যবহারের জন্য নতুন ধরণের নীতিমালারও আবশ্যক রয়েছে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা। তাই শৈবাল থেকে কার্যকরভাবে বিপুল পরিমাণে তেল উৎপাদনের জন্য আরো বিস্তর গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে। আর সেটা সম্ভব হলে অবশ্যই সেটা খুব দারুণ একটা ব্যপার হবে। বিশ্বজুড়ে বর্তমানে ভূ—গর্ভস্থ জ্বালানীর উপর চাপ কিছুটা হলেও কমবে। Department of Energy's Pacific Northwest National Laboratory in Richland, Wash এর ফেলো ডগলাস ইলিয়ট এ গবেষণাটি পরিচালনা করছেন।