ছবি সংগৃহীত
আত্মহত্যার পূর্বে শেষ চিঠিতে যা লিখেছেন পৃথিবী বিখ্যাত মানুষেরা (পর্ব- ১)
আপডেট: ০১ অক্টোবর ২০১৫, ১৬:১৬
( প্রিয়.কম ) মৃত্যু নিশ্চিত! আর একটু পরই আত্মহত্যা করবেন আপনি। কাটাবেন পৃথিবীর মায়া। কী করবেন আপনি এমন পরিস্থিতিতে? নিশ্চয়ই কিছু বলতে চাইবেন কাছের আর ভালোবাসার মানুষগুলোকে? কিংবা শেষ কোন কথাটি বলার থাকবে আপনার? মৃত্যুর পূর্বে হয়তো একটি চিঠিই হয়ে উঠবে আপনার মনের কথাকে কাছের মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার একমাত্র মাধ্যম। এমনটা কেবল আপনিই নন, ভেবেছিলেন বিখ্যাত সব মানুষেরাও। আর তাই আত্মহত্যায় মৃত্যুর আগে তারা লিখে গিয়েছিলেন জীবনের শেষ কথা সবাইকে উদ্দেশ্য করে। জানতে চান কী লিখেছিলেন তারা? কি ছিল তাদের সুইসাইড নোটে? আসুন জেনে নিই অ্যাডলফ হিটলার সহ বেশ কিছু জগত বিখ্যাত মানুষের বিখ্যাত সুইসাইড নোটের কথা।
১. ভিনসেন্ট ভ্যানগগ
জীবনের বেশিরভাগ সময় রঙের আঁচড়ে কাগজের পাতা অবিরত রাঙিয়ে তুললেও মৃত্যুর সময় কেবল একটি কথাই লিখেছিলেন বিখ্যাত এই চিত্রকর। আর সেটি হচ্ছে- "দুঃখ সবসময়ই টিকে থাকবে!"
২. হান্টার এস. থম্পসন
আমেরিকান বংশোদ্ভূত সর্বকালের সেরা এই ঔপন্যাসিক নিজের শেষ লেখাটির নাম দিয়েছিলেন- ফুটবল খেলার মৌসুম শেষ। নোটটি তিনি লিখেছিলেন স্ত্রী অনিতাকে উদ্দেশ্য করে। থম্পসন এতে লিখে যান-
"আর কোন খেলা নেই। আর কোন বোমা নেই। চলতে থাকা নেই। কোন মজা নেই। সাঁতার কাটা নেই। ৬৭। ৫০ এর পরেও ১৭ টি বছর। আমার চাওয়ার অথবা দরকারের চাইতেও ১৭টি বাড়তি বছর। বিরক্তিকর। আমি সবসময়েই উদ্দাম। কারো জন্যে কোন আনন্দ নেই। ৬৭। তুমি লোভী হয়ে যাচ্ছ। বুড়োমি দেখাও। শান্ত হও- এটা ব্যথা দেবে না।"
এর চারদিন পরেই গুলি করে নিজেকে মেরে ফেলেন লেখক। অনেকদিন ধরে শারিরীক বিকলাঙ্গতায় ভুগছিলেন তিনি। মৃত্যুর সময় টেলিফোনে স্ত্রীর সাথে কথা বলতে বলতে আত্মহত্যা করেন তিনি।
৩. ভার্জিনিয়া উলফ
লন্ডনের বেশ বড়সড় একটা জায়গা অধিকার করে রেখেছিলেন উলফ। মৃত্যুর পরেও নিজের অন্যতম সেরা লেখা মিসেস ডেলোয়ে, টু দ্যা লাইটহাউজ এবং অরলান্দোর মাধ্যমে পুরো বিশ্বের কাছে পরিচিত হয়ে আছেন তিনি। তবে দুনিয়াজোড়া পরিচিতি পেলেও সবটা সময় মানসিক সমস্যার ভেতর দিয়ে যেতে হয়েছে এই লেখককে। মনরোগে আক্রান্ত হতে হতে বিরক্ত হয়ে উঠেছিলেন তিনি। আর সেই বিরক্তি, ভয় আর হতাশা থেকেই আত্মহত্যা করার সিদ্ধান্ত নেন তিনি আর সেটার আগে লিখে যান চারটি লাইন।
"আমি নিশ্চিতভাবে অনুভব করছি যে আমি আবার পাগল হয়ে যাচ্ছি। আমি অনুভব করছি যে ওরকম আরেকটি ভয়াবহ সময়ের ভেতর দিয়ে যেতে পারব না আমরা। এবং আমি এবার সেরে উঠব না। আমি কণ্ঠ শুনতে আরম্ভ করেছি।"
৪. জর্জ ইস্টম্যান
ছবি তুলতে কে না ভালোবাসে। আর ছবির কথা চলে এলেই মনে পড়ে যায় আরেকটি নাম। কোডাক। আর এই কোডাকের প্রতিষ্ঠাতা জর্জ ইস্টম্যান জীবনের একটা সময় নানারকম অসুখে ভুগতে শুরু করেন। হৃদপিন্ডের সমস্যা, ডায়াবেটিসসহ আরো বেশকিছু ঝামেলায় পড়ার পর তার মনে মায়ের বিকলাঙ্গতার কথা ভেসে ওঠে। জর্জের মা নিজের শেষ কিছু বছর হুইলচেয়ারে অসম্ভব কষ্টের ভেতর দিয়ে জীবন যাপন করেন। নিজেকে সেখানটায় দেখতে চাননি জর্জ। আর তাই আত্মহত্যার পথ বেছে নেন তিনি। নিজের সুইসাইড নোটে লিখে যান-
"আমার বন্ধুদের প্রতি, আমার কাজ শেষ। তাহলে অপেক্ষা কেন?"
৫. অ্যাডলফ হিটলার
শত্রুদের কাছে ধরা পড়ে যাওয়ার আগেই নিজের স্ত্রী ইভাকে নিয়ে আত্মহত্যা করেন হিটলার। সেখানেই নিজের সুইসাইড নোট লেখেন তিনি।
"আমি নিজে এবং আমার স্ত্রী- পদচ্যূতি ও আত্মসমর্পণের হীনতা থেকে মুক্তি পেতে- মৃত্যুকে বাছাই করলাম। নিজের কাজের জায়গা যেখানটায় ১২ বছর ধরে প্রতিদিন আমার মানুষদের জন্যে কাজ করেছি আমি সেখানটায় তাত্ক্ষণিক পুড়ে মরতে চাওয়া পুরোপুরি আমাদের ইচ্ছে।"
তথ্যসূত্র-
Suicide Notes: 10 Shocking Suicide Notes-www.oddee.com
Notable suicide notes-www.phrases.org.uk
Last Words Written By Famous People In Their Suicide Notes-www.ranker.com