পোশাকশিল্পে শ্রমিক অসন্তোষ বাড়ছে কেন?

ঢাকা পোষ্ট রুহিন হোসেন প্রিন্স প্রকাশিত: ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১৪:১০

পোশাক শিল্পের শ্রমিকদের অসন্তোষ উত্তেজনা চলছিল, কিন্তু এই অসন্তোষ যে বড় ধরনের সংঘর্ষে রূপ নেবে তা হয়তো অনেকেই ধারণা করেনি। ১ নভেম্বর মিরপুর, গাজীপুর, সাভারে শ্রমিকদের অসন্তোষ বিক্ষোভ সংঘর্ষে রূপ নেয়। এর আগেও এসব অঞ্চলে নানাভাবে বিক্ষোভ দেখা গেছে।


এই সহিংসতায় অগ্নিসংযোগের ঘটনা যেমন ঘটেছে, পুলিশি অমানবিক নির্যাতন দেখা গেছে। এটিকাম্য ছিল না।


এ সময় বিক্ষোভের প্রধান বিষয় ছিল শ্রমিকদের বেতন বৃদ্ধি করা। এ সময়ে নিয়ম অনুযায়ী মজুরি বোর্ড গঠন করে বেতন বৃদ্ধির বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার বাধ্যবাধকতাও আছে। এর মধ্যে সরকার ১ নভেম্বর নিম্নতম মজুরি বোর্ড গঠন করে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে।


এটা সবাই জানে সাধারণ মানুষের প্রকৃত আয় কমে গেছে। মুদ্রাস্ফীতি সাধারণ মানুষের জনজীবনকে সংকটে ফেলছে। সর্বত্র মূল্য বৃদ্ধি চলছে। এটি কমার কোনো লক্ষণ নেই।


সরকারি তথ্যই বলছে ৪৭ শতাংশ মানুষ ধার-দেনা করে জীবন চালাচ্ছে। শিক্ষা, স্বাস্থ্য চালাতে এসব মানুষের ধার-দেনা আরও বাড়ছে।


গার্মেন্টসের সাধারণ শ্রমিকের কথা আমরা তো সবাই জানি। ২০২৩ সালে ন্যূনতম মজুরি ঘোষিত হয়েছিল প্রতি মাসে সাড়ে বারো হাজার টাকা। একটু যোগ্যতা সম্পন্নরা এর থেকে বেশি আয় করে। প্রতিবছর হয়তো কিছুটা ইনক্রিমেন্ট যুক্ত হয়। কিন্তু এই আয়ে যে সংসার চলে না, এটা না বোঝার কোনো কারণ নেই।


সাম্প্রতিক সময়ে সরকারি কর্মচারীদের বেতন ভাতা বৃদ্ধি ও তা বাস্তবায়ন হতে চলেছে। এ সময় অন্যান্য সেক্টরে কর্মরত শ্রমিক কর্মচারীদের বেতন ভাতা বৃদ্ধি খুবই ন্যায়সঙ্গত। অন্যান্য সেক্টরে শ্রমিক কর্মচারীরা আশা করেছিল সরকার এ বিষয়ে শ্রমিকদের পক্ষ হয়েই দ্রুত সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।


পোশাক শিল্পের শ্রমিকরা যথাসময়ে এই উদ্যোগ না দেখায় নানাভাবেই তারা সংঘটিত হচ্ছিল। তারই বহিঃপ্রকাশ দেখা গেল ১ নভেম্বর।


বর্তমান শ্রম আইনে তিন বছর পর পর ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণ হওয়ার কথা। সেই হিসাবে ২০২৬ সালের ১ ডিসেম্বর থেকে নতুন মজুরি নির্ধারণ করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। এর জন্য মজুরি বোর্ড গঠন করতে হবে।


মজুরি বোর্ড গঠনের পর অতীতের অভিজ্ঞতা দেখা যায় ছয় মাস বা তারও বেশি সময় ধরে এই মজুরি নির্ধারণ করা হয়। এটি বিবেচনা করলে আরও অনেক আগেই মজুরি বোর্ড গঠন করা জরুরি ছিল। এক্ষেত্রে সরকারের যুক্তি থাকতে পারে যে, ‘আমরা তো কিছুদিন আগে ক্ষমতায় আসলাম, একটু সময় লাগবে।’


শ্রমমন্ত্রীর সাথে বৈঠকে শ্রমিক নেতারা এসব বিবেচনা করে দ্রুত মজুরি বোর্ড গঠন এবং দ্রুততম সময়ে মজুরি নির্ধারণ ও ডিসেম্বর মাস থেকেই এ মজুরি কার্যকর হবে সেই ঘোষণা দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন। এই কাজটি হলে অন্ততপক্ষে শ্রমিক কর্মচারীরা আশ্বস্ত হতে পারতেন। সরকার যথাসময়ে তা করেনি এবং আমার জানামতে এখনো পর্যন্ত নতুন মজুরি নির্ধারণ ও বাস্তবায়নের সময় সময় নিয়ে কোনো কথা বলেননি। ভবিষ্যতে বলতে পারে।


মালিকপক্ষ তো দেরি করতে চাইবেন। কিন্তু সরকারকে বাস্তবতা বুঝেই দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে। ইতিমধ্যে মজুরি বোর্ড গঠন করায় সরকারকে ধন্যবাদ জানানো হয়েছে। প্রয়োজন হলো ডিসেম্বর মাস থেকে নতুন মজুরি কার্যকর করার ঘোষণা এবং দ্রুত ন্যূনতম মজুরি বিষয়ক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা।

সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ুন

প্রতিদিন ৩৫০০+ সংবাদ পড়ুন প্রিয়-তে

আরও