বৈষম্য কত গভীর হলে আমাদের চোখে পড়ে
ধরা যাক, একজন বিদেশি প্রথমবার বাংলাদেশে এলেন। বিমানবন্দরের আলোকিত পরিসর, কাচের দেওয়াল, ব্যস্ত মানুষের চলাচল দেখে তার মনে হলো, দেশটি এগোচ্ছে। সেখান থেকে শহরে এসে মেট্রোরেলে উঠলেন। সময়মতো ট্রেন আসে, দরজা খোলে, মানুষ গন্তব্যে পৌঁছায়। জানালার বাইরে উঁচু ভবন। উন্নয়নের এই দৃশ্য মিথ্যা নয়। কিন্তু স্টেশন থেকে নেমে কয়েকটি গলি পেরোতেই তিনি আরেক বাংলাদেশের মুখোমুখি হলেন : ক্লান্ত মুখ, কাজের অনিশ্চয়তা, চিকিৎসার টাকা জোগাড়ের উদ্বেগ। তার প্রথম ধারণাটি বদলে গেল। দেশটি এগোচ্ছে, কিন্তু সবাই কি একই ভবিষ্যতের দিকে যাচ্ছে?
কিছু মানুষের দারিদ্র্য দেখলে বিস্ময়ের সঙ্গে অসহায় লাগে। মনে হয়, তাদের জীবনে যেন কিছুই নেই, আরও ভয়াবহ মনে হয়, হয়তো কিছুই হবে না। কিন্তু এ দ্বিতীয় ভাবনাটির মধ্যে আমাদের দৃষ্টির সীমাবদ্ধতাও আছে। অনেক দরিদ্র মানুষের আকাঙ্ক্ষা, ভালোবাসা, বুদ্ধিমত্তা কিংবা পরিশ্রমের অভাব নেই। অভাব হলো সেসব অবলম্বনের, যেগুলো দিয়ে আকাঙ্ক্ষাকে বাস্তবে রূপ দেওয়া যায়। তাদের মুখে আমরা অনেক সময় দারিদ্র্যের চেয়ে বড় কিছু দেখি : দীর্ঘ অনিশ্চয়তার ক্লান্তি, বারবার চেষ্টা করেও অবস্থান বদলাতে না পারার ক্ষয়।