বাসিয়াহাট মেলা থেকে ‘বউমেলা’: অপপ্রচার বনাম আদিবাসী আত্মমর্যাদা
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং কিছু সংবাদমাধ্যমে দিনাজপুর জেলার বীরগঞ্জ উপজেলার গোলাপগঞ্জের একটি ঐতিহ্যবাহী মেলাকে কেন্দ্র করে কিছু বিভ্রান্তিকর ও মুখরোচক গুজব ছড়াতে দেখা গেছে। মেলাটিকে ‘বউমেলা’ বা ‘জীবনসঙ্গী খোঁজার মেলা’ হিসেবে উপস্থাপন করায় আদিবাসীদের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য, বিবাহরীতি, প্রথা ও সমাজকে অন্য জাতিগোষ্ঠীর কাছে হাস্যরসের খোরাক বানানো হচ্ছে।
এ ধরনের মনগড়া আখ্যান আদিবাসী জনগোষ্ঠীর আত্মমর্যাদাকে যেমন ক্ষুণ্ন করছে, তেমনি নারীদের আত্মসম্মানবোধকেও সস্তাভাবে উপস্থাপন করছে।প্রতি বছরের ন্যায় এবারও ২৩ অক্টোবর ২০২৬, শুক্রবার, দিনাজপুরের বীরগঞ্জ উপজেলার গোলাপগঞ্জ উচ্চবিদ্যালয়ের মাঠে দিনব্যাপী অনুষ্ঠিত হয়ে গেল ২০০ বছরের ঐতিহ্যবাহী ‘বাসিয়াহাট মেলা’, যা ‘বাসিয়া মেলা’ নামেও পরিচিত। ঐতিহাসিকভাবে এই মেলা মূলত শারদীয় দুর্গাপূজার বিজয়া দশমীর পরদিন অনুষ্ঠিত হয়। মেলার মূল পুরোহিত একজন হিন্দু ব্রাহ্মণ এবং এখানে আদিবাসীদের পূজারি হওয়ার কোনো ঐতিহাসিক নজির নেই। মেলায় আদিবাসী তরুণ-তরুণী ও নারী-পুরুষের পাশাপাশি সনাতন ও ইসলাম ধর্মাবলম্বী স্থানীয় সর্বস্তরের মানুষ অংশ নেন।