কোন দিকে যাচ্ছে সৌদি-হুতি সংঘাত

যুগান্তর মেজর জেনারেল এইচ আর এম রোকন উদ্দিন (অব.) প্রকাশিত: ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:৪১

সৌদি আরব ও ইয়েমেনের হুতি আন্দোলনের-যার আনুষ্ঠানিক নাম আনসার আল্লাহ-মধ্যে সংঘাত এখন আর শুধু ইয়েমেনের গৃহযুদ্ধে সীমাবদ্ধ নেই। এটি ইরান, যুক্তরাষ্ট্র, ইসরাইল, আন্তর্জাতিক নৌবাণিজ্য এবং বৈশ্বিক জ্বালানি নিরাপত্তাকে সম্পৃক্ত করে একটি বহুমাত্রিক আঞ্চলিক সংঘাতে পরিণত হয়েছে। কয়েক বছরের আপেক্ষিক শান্তির পর ২০২৬ সালে নতুন করে হামলা ও পালটা আক্রমণ বৃহত্তর যুদ্ধের আশঙ্কা সৃষ্টি করেছে। তবে সৌদি আরব কিংবা হুতি-কোনো পক্ষেরই চূড়ান্ত সামরিক বিজয় অর্জনের সম্ভাবনা নেই। তাই সংঘাতটির সম্ভাব্য ভবিষ্যৎ হলো সংঘর্ষ, প্রতিরোধ এবং বিরতিহীন আলোচনার একটি অস্থিতিশীল সংমিশ্রণ। হুতি আন্দোলনের উৎপত্তি উত্তর ইয়েমেনের সাদা প্রদেশের জায়েদি শিয়া জনগোষ্ঠী থেকে। কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে দীর্ঘদিন সংঘাতের পর তারা ২০১৪ সালে রাজধানী সানা দখল করে এবং আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করে। প্রতিবেশী দেশে ইরানঘনিষ্ঠ একটি সশস্ত্র সংগঠনের আধিপত্য ঠেকানো এবং স্বীকৃত সরকারকে পুনঃপ্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যে সৌদি আরব ২০১৫ সালের মার্চে একটি সামরিক জোটের নেতৃত্বে ইয়েমেনে হস্তক্ষেপ করে।


সৌদি নেতৃত্ব প্রাথমিকভাবে এটিকে একটি স্বল্পমেয়াদি সামরিক অভিযান হিসাবে বিবেচনা করেছিল। কিন্তু অভিযানটি দীর্ঘস্থায়ী ও ব্যয়বহুল যুদ্ধে পরিণত হয়। ব্যাপক বিমান হামলার মধ্যেও হুতিরা টিকে যায়, সানা এবং উত্তর ও পশ্চিম ইয়েমেনের বিরাট অংশে নিজেদের কর্তৃত্ব সুসংহত করে এবং ক্রমে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন সক্ষমতা বাড়ায়। ইরান তাদের রাজনৈতিক সমর্থন, সামরিক প্রযুক্তি, প্রশিক্ষণ ও বিভিন্ন যন্ত্রাংশ দিয়েছে। তবে হুতিদের নিজস্ব ইয়েমেনি রাজনৈতিক লক্ষ্যও রয়েছে। তাই তাদের সম্পূর্ণভাবে ইরানের নির্দেশ পালনকারী একটি সাধারণ প্রক্সি হিসাবে দেখলে বাস্তবতা পুরোপুরি বোঝা যাবে না। যুদ্ধের মানবিক পরিণতি ভয়াবহ। ইয়েমেনের অর্থনীতি, স্বাস্থ্যব্যবস্থা এবং গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। খাদ্যসংকট, বাস্তুচ্যুতি ও রোগব্যাধির শিকার হয়েছে লাখ লাখ মানুষ। ২০২৬ সালে দেশটির ২ কোটি ২০ লাখের বেশি মানুষের মানবিক সহায়তার প্রয়োজন হওয়ার আশঙ্কা করা হয় এবং ১ কোটি ৮০ লাখের বেশি মানুষ তীব্র খাদ্যনিরাপত্তাহীনতার সম্মুখীন হয়েছে। ক্ষেপণাস্ত্র, তেল স্থাপনা ও নৌনিরাপত্তার আলোচনার আড়ালে এ মানবিক বিপর্যয়ই সংঘাতটির সবচেয়ে মর্মান্তিক দিক।


২০২২ সালের এপ্রিলে জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর পরিস্থিতিতে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আসে। আনুষ্ঠানিক যুদ্ধবিরতির মেয়াদ ছয় মাস পর শেষ হলেও এর প্রধান সামরিক সুবিধাগুলো অনেকাংশে অব্যাহত ছিল। সৌদি আরবে হুতিদের আন্তঃসীমান্ত হামলা কমে আসে, সৌদি বিমান অভিযান উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পায় এবং ওমানের মধ্যস্থতায় সৌদি-হুতি সরাসরি আলোচনা এগিয়ে যায়। সৌদি আরব ও ইরানের মধ্যকার কূটনৈতিক সম্পর্ক পুনঃপ্রতিষ্ঠাও এ আশা তৈরি করেছিল যে একটি সমঝোতার মাধ্যমে ইয়েমেনে রিয়াদের সরাসরি সামরিক সম্পৃক্ততার অবসান ঘটতে পারে। সৌদি আরবের যুদ্ধ থেকে বেরিয়ে আসার যথেষ্ট কারণ রয়েছে। যুদ্ধটি ব্যয়বহুল, সামরিকভাবে নিষ্পত্তিহীন এবং দেশটির আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তির জন্য ক্ষতিকর হয়ে উঠেছে। হুতিদের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন প্রমাণ করেছে যে বিপুল প্রযুক্তিগত শ্রেষ্ঠত্ব থাকা সত্ত্বেও সৌদি আরব তার বিমানবন্দর, শহর, তেল স্থাপনা ও লবণমুক্তকরণ কেন্দ্রগুলোর নিরাপত্তা পুরোপুরি নিশ্চিত করতে পারছে না। পাশাপাশি রিয়াদ ভিশন-২০৩০, বিদেশি বিনিয়োগ, পর্যটন এবং অর্থনৈতিক বহুমুখীকরণে মনোযোগ দিতে চায়। অব্যাহত ক্ষেপণাস্ত্র হামলা ও আঞ্চলিক অস্থিতিশীলতা এসব লক্ষ্য অর্জনের অনুকূল নয়।


অন্যদিকে হুতিরা তাদের কর্তৃত্বের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি, সানা বিমানবন্দর ও হোদেইদা বন্দরের ওপর বিধিনিষেধ প্রত্যাহার, ইয়েমেনের তেল রাজস্ব থেকে সরকারি কর্মচারীদের বেতন প্রদান, বন্দিমুক্তি এবং বিদেশি সেনা প্রত্যাহার চায়। তাদের দৃষ্টিতে সৌদি আরবের সঙ্গে সরাসরি আলোচনা প্রমাণ করে যে তারা ইয়েমেনের গৃহযুদ্ধের একটি সাধারণ পক্ষ নয়; বরং জাতীয় ও আঞ্চলিক শক্তিতে পরিণত হয়েছে। তবে আপেক্ষিক শান্তি কোনো পূর্ণাঙ্গ রাজনৈতিক সমাধান দিতে পারেনি। হুতিরা সামরিক ও প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ সুসংহত করেছে, অন্যদিকে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকার বিভক্তই রয়ে গেছে। দক্ষিণাঞ্চলের বিচ্ছিন্নতাবাদী শক্তি, বিভিন্ন উপজাতীয় বাহিনী, রাজনৈতিক দল ও সশস্ত্র গোষ্ঠীর লক্ষ্য পরস্পরবিরোধী। সৌদি-হুতি সমঝোতা আন্তঃসীমান্ত হামলা বন্ধ করতে পারে, কিন্তু ইয়েমেনের রাজনৈতিক ক্ষমতা, সম্পদ, ভূখণ্ড এবং দক্ষিণাঞ্চলের ভবিষ্যৎ মর্যাদা নিয়ে অভ্যন্তরীণ বিরোধের সমাধান করতে পারবে না।


গাজা যুদ্ধ সংঘাতটিতে নতুন মাত্রা যোগ করে। ২০২৩ সালের শেষভাগ থেকে হুতিরা ফিলিস্তিনিদের সমর্থনের কথা বলে লোহিত সাগর ও আশপাশের এলাকায় বাণিজ্যিক ও সামরিক জাহাজে হামলা শুরু করে। এসব অভিযানে তাদের আঞ্চলিক গুরুত্ব বৃদ্ধি পেলেও ইয়েমেন যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও ইসরাইলের হামলার মুখে পড়ে। সবচেয়ে সংকীর্ণ স্থানে মাত্র প্রায় ২৯ কিলোমিটার প্রশস্ত বাব আল-মান্দেব প্রণালি কৌশলগত প্রতিযোগিতার প্রধান ক্ষেত্রে পরিণত হয়। নিরাপত্তার অভাবে অনেক জাহাজকে আফ্রিকার দক্ষিণ প্রান্ত ঘুরে চলাচল করতে হয়, ফলে পরিবহণ ব্যয় বাড়ে এবং সুয়েজ খালকেন্দ্রিক বাণিজ্য হুমকির মুখে পড়ে। ২০২৬ সালের জুলাই থেকে সংঘাত আবার তীব্র হয়ে ওঠে। হুতিরা সৌদি জাহাজের বিরুদ্ধে সামুদ্রিক অবরোধ ঘোষণা করে এবং সৌদি তেলবাহী জাহাজ, জ্বালানি স্থাপনা ও অন্য কৌশলগত লক্ষ্যবস্তুতে হামলার দাবি করে। জবাবে সৌদি আরব ইয়েমেনে বিমান হামলা চালায়। সেপ্টেম্বরের মধ্যে হামলা ও সতর্কতা রিয়াদ, জেদ্দা ও ইয়ানবুসহ বিভিন্ন সৌদি শহরে ছড়িয়ে পড়ে।

সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ুন

প্রতিদিন ৩৫০০+ সংবাদ পড়ুন প্রিয়-তে

আরও