অতীত বদলানো যায় না, ভবিষ্যৎ বদলানো যায়

জাগো নিউজ ২৪ ড. হারুন রশীদ প্রকাশিত: ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ১২:৩০

মানুষের জীবনে এমন কিছু দরজা আছে, যার সামনে দাঁড়িয়ে যতই কড়া নাড়া হোক, তা আর খোলে না। গতকাল তেমনই একটি দরজা। সেখানে ফিরে যাওয়া যায় না, ভুলগুলো মুছে ফেলা যায় না, হারানো মানুষকে ফিরিয়ে আনা যায় না, নেওয়া সিদ্ধান্তের ফলাফলও অস্বীকার করা যায় না। অতীত তাই মানুষের সবচেয়ে বড় শিক্ষক, আবার কখনো কখনো সবচেয়ে কঠিন বিচারকও।


কিন্তু মানুষের হাতে একটি অমূল্য সুযোগ থাকে—আজ। আজকের দিনটি শেষ হওয়ার আগ পর্যন্ত সেটি বর্তমান; আর ঘড়ির কাঁটা একটু এগোলেই সেটি অতীত। আশ্চর্যের বিষয় হলো, আমরা যে অতীত নিয়ে এত আক্ষেপ করি, তার বড় একটি অংশ তৈরি হয় আমাদেরই গতকালের বর্তমান দিয়ে। অর্থাৎ আজ আমরা যা করছি, কাল সেটিই আমাদের স্মৃতি, ইতিহাস কিংবা অভিজ্ঞতা হয়ে ফিরে আসবে। এই সহজ সত্যটিই জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা হতে পারে: অতীত বদলানো যায় না, কিন্তু ভবিষ্যৎ বদলানো যায়। আর ভবিষ্যৎ বদলানোর একমাত্র বাস্তব জায়গা হলো বর্তমান।


আমরা প্রায়ই অতীতের কাছে আটকে থাকি। কেউ ব্যর্থ পরীক্ষার কথা ভাবেন, কেউ হারানো সুযোগের কথা, কেউ ভুল সিদ্ধান্তের কথা, কেউ সম্পর্কের ভাঙনের কথা। ব্যক্তি যেমন অতীতের ভুলের ভার বহন করেন, রাষ্ট্রও তেমনি তার ইতিহাসের সাফল্য ও ব্যর্থতার উত্তরাধিকার বহন করে। কিন্তু অতীতকে বারবার বিশ্লেষণ করা আর অতীতে বসবাস করা এক বিষয় নয়। অতীত থেকে শিক্ষা নেওয়া প্রয়োজন, অতীতের মধ্যে বসবাস করা নয়।


একজন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় ভালো করতে পারেনি। ফল প্রকাশের পর সে চাইলে সারাক্ষণ বলতে পারে—প্রশ্ন কঠিন ছিল, সময় কম ছিল, শিক্ষক ভালো পড়াননি। এসবের কিছু সত্যও হতে পারে। কিন্তু তাতে ফলাফল বদলাবে না। বরং সে যদি নিজের দুর্বলতা চিহ্নিত করে পরবর্তী পরীক্ষার জন্য পরিকল্পনা করে, তবে একই অতীত তার ভবিষ্যতের সাফল্যের ভিত্তি হয়ে উঠতে পারে। ব্যক্তিজীবনের এই সূত্র রাষ্ট্রের ক্ষেত্রেও সমান সত্য।


একটি দেশ তার অতীতের অর্থনৈতিক ভুল, রাজনৈতিক সংকট, প্রশাসনিক দুর্বলতা কিংবা উন্নয়ন পরিকল্পনার সীমাবদ্ধতা একদিনে মুছে ফেলতে পারে না। কিন্তু সেই অভিজ্ঞতার আলোকে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নিতে পারে। যে দেশ ভুল থেকে শেখে, তার অতীত বোঝা হয়ে থাকে না; তা হয়ে ওঠে ভবিষ্যতের পাথেয়। এ কারণেই বর্তমানকে অবহেলা করার সুযোগ নেই।


আমাদের জীবনে সবচেয়ে অবমূল্যায়িত শব্দগুলোর একটি হলো ‘আজ’। গতকাল নিয়ে আমাদের দীর্ঘশ্বাস আছে, আগামীকাল নিয়ে আমাদের স্বপ্ন আছে; কিন্তু আজকের কাজটি অনেক সময় অনিশ্চিত থেকে যায়। আমরা ভবিষ্যতে ভালো কিছু করার পরিকল্পনা করি, কিন্তু সেই ভবিষ্যতের জন্য আজ কী করছি, তার হিসাব রাখি না।

সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ুন

প্রতিদিন ৩৫০০+ সংবাদ পড়ুন প্রিয়-তে

আরও