মধ্যবয়সের মানসিক সংকট সামলানোর তিন পন্থা
মানবজীবনের সংবেদনশীল ও রূপান্তরকালীন পর্যায় হল মধ্যবয়স বা ‘মিডলাইফ’।
মনোবিজ্ঞানের ভাষায় সাধারণত ৪০ থেকে ৫০ বছর বয়সের মধ্যে মনে যে তীব্র একঘেয়েমি, বিষণ্ণতা এবং ক্যারিয়ার বা পরিচয় নিয়ে শূন্যতা তৈরি হয়— তাকে ‘মিডলাইফ ক্রাইসিস’ বা ‘মধ্যবয়সের মানসিক সংকট’ বলা হয়।
সাধারণ মানুষ অনেক সময় মনে করেন, এই সংকট কেবলই এক ধরনের পারিবারিক ভাঙন, ‘প্যানিক অ্যাটাক’ বা বৈবাহিক অশান্তির দিকে ঠেলে দেয়। তবে আধুনিক সমাজ-মনস্তত্ত্বের গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে যে, ‘মিডলাইফ ক্রাইসিস’ আসলে কোনো ধ্বংসাত্মক রোগ নয়; বরং এটি হল পুরানো ও জীর্ণ সামাজিক মুখোশ বা পরিচয় ঝরিয়ে ফেলে নতুন করে জীবনের সার্থকতা খুঁজে পাওয়ার দ্বিতীয় সুযোগ।
স্বাস্থ্য ও মানসিক বিষয়ক পোর্টাল ‘সেলফ’-এ প্রকাশিত প্রতিবেদনে, কানাডীয় লেখক, পডকাস্ট হোস্ট এবং কর্পোরেট মিডিয়া বিশেষজ্ঞ ক্যাটালিনা মারগুলিস নিজের অভিজ্ঞতার আলোকে বলেন, “সবকিছুর ওপর নিয়ন্ত্রণ রাখার বা ‘হ্যাভিং ইট অল’ প্রবৃত্তি বর্জন করাই মধ্যবয়সের আনন্দ ফিরে পাওয়ার চাবিকাঠি।”
মধ্যবয়সের এই তীব্র মনস্তাত্ত্বিক রূপান্তর এবং তা কাটিয়ে ওঠার ৩টি নির্দেশনা নিয়ে তিনি আলোচনা করেছেন।
‘হ্যাভিং ইট অল’ বা সর্বগ্রাসী সার্থকতা বাতিক বর্জন
ক্যাটালিনা মারগুলিস ব্যাখ্যা করেন, “আধুনিক যুগে বিশেষ করে কর্মজীবী মায়েরা একাধারে সফল ক্যারিয়ার, সুখী দাম্পত্য এবং আদর্শ অভিভাবক হওয়ার এক অলীক ও সর্বগ্রাসী বাতিকে ভোগেন। একই সঙ্গে সব ক্ষেত্রে নিখুঁত হওয়ার এই তীব্র চেষ্টা মস্তিস্কের স্নায়ুতন্ত্রকে অনবরত ‘হাইপার-অ্যাক্টিভ’ রাখে, ফলে ভেতরে তীব্র একাকিত্ব, অবসাদ ও রাগ জন্ম নেয়।”
মধ্যবয়সের শান্তি ফিরে পাওয়ার প্রথম নিয়ম হল— সবকিছু নিখুঁত রাখার অবাস্তব চাহিদা বর্জন করা এবং নিজের ভুলগুলোকে সাধারণভাবে ক্ষমা করতে শেখা।
- ট্যাগ:
- লাইফ
- মানসিক সংকট
- মধ্যবয়সে স্বাস্থ্য