অপ্রতিম শোকগাঁথা কিংবা অনন্ত প্রশ্নচিহ্ন

ঢাকা পোষ্ট মোস্তাক শরীফ প্রকাশিত: ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:৫৬

‘যখন তার মৃত্যু হবে, ছোট ছোট তারা বানিয়ে ফেলো তাকে। আকাশকে সে এত সুন্দর করে সাজাবে যে গোটা পৃথিবী রাতের প্রেমে পড়ে যাবে। বাহারি সূর্যের কথা ভাববেও না কেউ।’


শেক্সপিয়ারের কবিতা। মৃত্যুর মাধ্যমে দূর আকাশের তারা হয়ে যাওয়ার রূপকল্প শেক্সপিয়ারের আগে-পরে অনেকেই তৈরি করেছেন। রবীন্দ্রনাথ কল্পনা করেছিলেন পটে লেখা ছবির কথা। জীবনের মায়া কাটিয়ে চলে যাওয়া মানুষেরা আকাশের নীলে ভিড় করে থাকা নীহারিকা কিংবা গ্রহ-তারা-রবির মতো সত্যি, নাকি কেবলই পটে আঁকা, জানতে চেয়েছিলেন তিনি।


আকাশের তারা কিংবা পটে আঁকা ছবি নয়, এ মুহূর্তে আমার ভাবনাকাশ জুড়ে আছেন নাহিদা নাহিদ আর ফিরোজ শাহরিয়ারের কথা। তাদের একমাত্র সন্তানের নাম যারা রেখেছিলেন ‘অপ্রতিম’। তুলনাহীন।


মুশকিল হচ্ছে, নিজের নামের সার্থকতা প্রমাণের কোনো সুযোগ আর অপ্রতিমের নেই। হয়তো বড় হয়ে মায়ের মতো শিক্ষক হতো সে। কিংবা নামকরা বিজ্ঞানী। হয়তো বড় শিল্পী। চিকিৎসক বা আরও বড় কিছু। কিন্তু কিছুই হতে পারল না অপ্রতিম।


কারণ এক দুপুরে একা বাড়ি থেকে বেরোনোর ‘দুঃসাহস’ দেখিয়েছিল সে। ‘ভয়ংকর’ সেই দুঃসাহসের মাশুল দিয়েছে নিজের জীবন দিয়ে। অপ্রতিমের নিথর মৃতদেহ তাই পড়ে ছিল জঙ্গলের অন্ধকারে-অনন্ত এক প্রশ্নচিহ্নের মতো।


এখন বেদনাবিমুঢ় আমরা একে অন্যের দিকে তাকিয়ে নানা প্রশ্ন ছুঁড়ে দিচ্ছি। জানতে চাচ্ছি, কেন আমরা এমন একটা সমাজ আর একটা দেশ বানাতে পারলাম না যেখানে তেরো বছরের এক কিশোর বাড়ি থেকে বেরিয়ে আবার নিরাপদে বাড়ি ফিরতে পারবে না?


কেন আমরা উন্মাতাল হয়ে উঠেছি হত্যার নেশায়? কেন শিশু-কিশোর-বৃদ্ধ-অসুস্থ কেউই মুক্ত থাকতে পারছেন না হত্যাকারীর আঙুলের নির্ভুল নিশানা থেকে? কেন আমাদের অজস্র স্বপ্ন আর প্রতিশ্রুতি ক্রমশ দুঃস্বপ্নের ঘোলাজলে হারিয়ে যাচ্ছে?


কেবল আমাদের দেশেই নয়, বিশ্বজুড়েই ভয়ংকর এক পরিস্থিতির মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছে শিশুরা। যুদ্ধ, মহামারি, দ্বন্দ্ব-সংঘাত সবকিছুর প্রথম শিকার তারা।


ইউনিসেফ বলছে, বিশ্বে প্রতি পাঁচ মিনিটে একজন করে শিশুকে হত্যা করা হচ্ছে। ২৪ কোটির মতো শিশু প্রতিদিন শিকার হচ্ছে সহিংসতার। পঁয়ত্রিশ শতাংশ ক্ষেত্রে মানবপাচারের প্রধান শিকার শিশু। যতই চিৎকার করি, যতই আইনকানুনের কঠোরতার কথা বলি, অপ্রতিমের মতো শিশুদের জন্য নিরাপদ একটি পৃথিবী গড়া থেকে ক্রমশই দূরে সরে যাচ্ছি আমরা।

সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ুন

প্রতিদিন ৩৫০০+ সংবাদ পড়ুন প্রিয়-তে

আরও