ফুটবলে প্রশ্ন আছে, কিন্তু উত্তর নেই

কালের কণ্ঠ ইকরামউজ্জমান প্রকাশিত: ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:১৫

ফুটবল নিয়ে অনেক প্রশ্ন আছে, কিন্তু উত্তর নেই। এই যে উত্তর নেই, এটিও একটি বিষয়।

ফুটবল চলছে পেশাদারি, অপেশাদারি, বিশৃঙ্খলা এবং অরাজকতার মধ্য দিয়ে—এই বিষয়টি আগের তুলনায় বর্তমানে জনসমক্ষে অবশ্য অনেক বেশি আলোচিত হচ্ছে, এটি ইতিবাচক। সচেতনতা বাড়ার জন্য এটি হচ্ছে। ফুটবলে অস্থিরতা খুবই স্পষ্ট। অস্থিরতার আড়ালে খেলাটিকে কোন দিকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে? বিভাজন, বিরোধ আর হিংসা থেকে দেশের ফুটবল কবে মুক্তি পাবে? সবাই সব জায়গায় ফুটবলের স্বার্থে একতাবদ্ধ হবেন, ঐকমত্য পোষণ করবেন আর কবে? বেলা তো অনেক বয়ে গেছে।


স্বাধীনতার সাড়ে পাঁচ যুগ অতিক্রম করার পরও ভালো ‘ব্যাকগ্রাউন্ডের’ অধিকারী এমন একজন ব্যক্তিকে জাতীয় দলের জন্য স্থায়ী ম্যানেজার হিসেবে নিয়োগ দেওয়া সম্ভব হয়নি। সমস্যাটা কোথায় এর উত্তর নেই। জাতীয় দলের জন্য ম্যানেজার নিয়োগের প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েই শুরু হয়ে যায় লবিং আর অসুস্থ প্রতিযোগিতা। আসন্ন আসিয়ান কাপে ১৫ বছর পর ম্যানেজারের দায়িত্ব পেয়ে ফুটবল ফেডারেশনের কার্যনির্বাহী পরিষদের জনৈক সদস্য বেজায় খুশি।

তাঁর সঙ্গে দৌড়ে যাঁরা পেরে উঠতে পারেননি, তাঁদের মন খারাপ। প্রশ্ন উঠেছে যোগ্যতা নিয়ে। ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়েছে ম্যানেজার নিয়োগের প্রক্রিয়া নিয়ে। যিনি কোনো ক্লাবের সঙ্গে প্রত্যক্ষভাবে সংশ্লিষ্ট এমন কাউকে কি ম্যানেজার নিয়োগ দেওয়া উচিত? দেশের ফুটবলের সংস্কৃতি, বিশেষ করে ক্লাব সংস্কৃতি তো কারো অজানা নয়। বিভক্তি আর রেষারেষি তো ফুটবলের অনেক ক্ষতি করেছে।

বাস্তবতা বুঝে সময়ের সঙ্গে হাঁটতে হবে। পরিবর্তন শুধু বাইরে নয়, পরিবর্তনের প্রয়োজন মানুষের মনেও। সংস্কৃতি স্থির কিছু নয়, এটি সময়ের সঙ্গে বদলায়।


কিছুদিন আগে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল ইসলাম প্রেসিডেন্ট তাবিথ আউয়ালের নেতৃত্বে ফুটবল ফেডারেশনের পেশাদারির প্রশংসা করেছেন জাতীয় দলের নতুন জার্সি উন্মোচন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত হয়ে। তিনি বলেছেন, স্বাধীনতার পর বছরের পর বছর পার হয়ে গেছে আনুষ্ঠানিকভাবে কখনো জার্সি উন্মোচন করা হয়নি। জাতীয় ফুটবল দলের ‘অরিজিনাল’ জার্সি তো একটি দেশের পরিচিতি বহন করে। দেশের গর্ব। এটি একটি আকর্ষণীয় ‘স্যুভেনির’ও বটে। বিভিন্ন দেশের ফুটবল ফেডারেশন ও অ্যাসোসিয়েশন এই জার্সি বিক্রি থেকে নিয়মিতভাবে আয় করছে। বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন সেই পথ ধরে এখন থেকে হাঁটবে। এটি সঠিক উদ্যোগ। বিচারবুদ্ধিতে খটকা লেগেছে, আর তাই কিছু কথাবার্তা শোনা গেছে। আশা করি, সুস্থ জীবনবোধের জয় হবে।


ভারত ফিফা কর্তৃক আয়োজিত প্রথম আসিয়ান কাপে নাম প্রত্যাহার করে নেওয়ায় বাংলাদেশ খেলার সুযোগ পেয়েছে। বাংলাদেশ আসিয়ান কাপে খেলবে বাফুফের এই সিদ্ধান্ত সঠিক এবং দূরদৃষ্টিসম্পন্ন। আসন্ন নভেম্বরে বাংলাদেশ নিজ দেশে সাফ ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপ খেলবে। এর আগে বিদেশি শক্তিশালী দলগুলোর বিপক্ষে বাংলাদেশ জাতীয় দলের খেলার অভিজ্ঞতা অনেক বেশি কাজে লাগবে। বাংলাদেশ দল আসিয়ান কাপে চমক দেখানোর মতো কিছু একটা করে ফেলবে—এমনটি কখনো ভাবা হচ্ছে না। গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, দলটি যাতে একটি টিম হিসেবে খেলে। আত্মবিশ্বাস, সাহস এবং সামর্থ্যের প্রতিফলন লক্ষণীয় হোক মাঠের লড়াইয়ে।


ফিফার নিষেধাজ্ঞা, খেলোয়াড় রেজিস্ট্রেশন—এসব নিয়ে প্রচুর আলোচনা হয়েছে। নিষেধাজ্ঞায় পড়তে পারে যেকোনো ক্লাব, দেশের ফুটবল সংস্থা—এটি ফিফার নিয়মের ব্যত্যয় হলেই। বিষয়টি স্বাভাবিক ব্যাপার। দেশে এবার এই বিষয়টিকে নিয়ে ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের চেষ্টা হয়েছে। যা হোক, শেষ পর্যন্ত সব ক্লাবের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হয়েছে এবং সবাই খেলোয়াড় রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়ায় অংশ নিয়েছে। আসন্ন ফুটবল মৌসুমে (২০২৬-২৭) ১৩টি ক্লাব বাংলাদেশ ফুটবল লীগে অংশ নেবে। কাগুজে শক্তিতে (এখনো লীগ মাঠে গড়ায়নি) দেশের একজন ফুটবল পণ্ডিত, যিনি একসময় পাকিস্তান ও বাংলাদেশের জাতীয় দলে খেলেছেন, তাঁর কথা হলো এবার ফুটবলের লড়াই হবে সাতটি দলের মধ্যে। অর্থাৎ আসন্ন লীগ প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হবে।


এদিকে ১০টি ক্লাব একত্র হয়ে আসন্ন লীগ পেছানোর এবং কয়েকটি দাবি উত্থাপন করেছে বাফুফের কাছে। এই ১০টি দলের মধ্যে আবার একটি ক্লাব থেকে জানানো হয়েছে, ক্লাবের সাধারণ সম্পাদকের স্বাক্ষর জাল করে ১০টি ক্লাবের মধ্যে তাদের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এই বিষয়টি নিয়ে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীও কথা বলেছেন। গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো মাঠে ফুটবল নামা। যৌক্তিক সমস্যা নেই—এটি বলা হচ্ছে না। সমস্যার সমাধানে তো আসতে হবে। ফুটবল শুরু করা নিয়ে তো অনিশ্চয়তা কাম্য নয়। ক্লাব রাজনীতি আর সংগঠকদের মর্জিমাফিক তো ফুটবল চলতে পারে না। দেশের ফুটবল তো কারো ইচ্ছার সংসার নয়।


কয়েক বছর ধরে পাইওনিয়ার ফুটবল লীগের আর দেখা মেলেনি। এই বিষয়টি নিয়ে গণমাধ্যম ক্লান্ত হয়ে পড়েছে বলে মনে হচ্ছে। আশ্বাসের পাহাড় শুধু উঁচু হচ্ছে। হতাশা ও ক্ষোভের জন্ম হয়েছে সংশ্লিষ্ট ক্লাব এবং তরুণ খেলোয়াড়দের মধ্যে। নতুন করে বলা হয়েছে নভেম্বর বা ডিসেম্বরে পাইওনিয়ার ফুটবল লীগ মাঠে গড়াবে। প্রতিষ্ঠানের প্রধান কর্মকর্তার কথার তো নিশ্চয়ই ওজন আছে।

সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ুন

প্রতিদিন ৩৫০০+ সংবাদ পড়ুন প্রিয়-তে

আরও