আস্থা গড়ছেন প্রধানমন্ত্রী, ক্ষয় করছে বিএনপি
এটা ঠিক যে, সরকার বা ক্ষমতাসীন দল হিসেবে বিএনপির কর্মকাণ্ডের সামগ্রিক মূল্যায়ন করার মতো যথেষ্ট সময় এখনো পেরোয়নি। কিন্তু, দলটি কোন দিকে এগোচ্ছে, তা নিয়ে তথ্যভিত্তিক পূর্বাভাস দেওয়ার জন্য এই সময়টা কমও নয়।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সঠিক বার্তাই দিয়ে যাচ্ছেন। কিন্তু দলের কিছু প্রাথমিক লক্ষণ উদ্বেগজনক। তার মধ্যে রয়েছে বিরোধীদলের সঙ্গে আচরণ এবং বিশেষ করে অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা, উচ্চপর্যায়ে দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতি। কিছু ক্ষেত্রে এর সুযোগ নিচ্ছেন নেতা ও মন্ত্রীদের পরিবারের সদস্যরা।
প্রথমেই যে প্রশ্নটি করা দরকার সেটা হলো, সরকার কি জনগণের কথা শুনছে? এর উত্তর পেতে হলে আমাদের জানতে হবে, সরকারের ও ক্ষমতাসীন দলের এমন কোনো বিশ্বাসযোগ্য ব্যবস্থা আছে কি না, যার মাধ্যমে জনগণের প্রকৃত মতামত তাদের কাছে, বিশেষ করে ক্ষমতার কেন্দ্র পর্যন্ত পৌঁছাবে। অতীত অভিজ্ঞতা বলে, সরকারি কিংবা দলীয় কোনোপক্ষই কখনো এই কাজটি করেনি। কারণ, তারা অপ্রীতিকর কোনো খবরই উপরমহলে পৌঁছে দিত না। তারা এমন কিছুই বলত না, যার কারণে ‘বস’ অসন্তুষ্ট হতে পারেন। সেই সংস্কৃতির কি পরিবর্তন হয়েছে? আমরা আশা করি হয়েছে। কিন্তু, বর্তমান পরিস্থিতি যে ইঙ্গিত দিচ্ছে, তা যেন ভিন্ন বার্তাই দিচ্ছে।
গণমাধ্যম এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তবে হাতেগোনা কয়েকটি ছাড়া গণমাধ্যমগুলো রাজনৈতিক বিভাজনে বিভক্ত। এটা গণমাধ্যমের জন্য যেমন স্বাস্থ্যকর না, তেমনি ক্ষমতাসীনদের জন্যও সহায়ক না। এখন পর্যন্ত বিএনপি কেন্দ্রীয়ভাবে গণমাধ্যমের ওপর হস্তক্ষেপ না করার নীতি অনুসরণ করে চলেছে, এ জন্য আমরা সরকারকে সাধুবাদ জানাই।