বিমানে ৪৫ হাজার কোটি টাকার কেনাকাটার দায় কার
সেবার মান ও দক্ষতা ছাড়াও রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের বহরেরও যে কিছুটা সম্প্রসারণ ও আধুনিকায়ন প্রয়োজন, তা নিয়ে কোনো প্রশ্ন থাকার কথা নয়। একটি সফল বাণিজ্যিক এয়ারলাইনসের নিয়মিতভাবে নতুন উড়োজাহাজ প্রতিস্থাপন করা, নতুন লাভজনক রুট চালু করা এবং যাত্রী ও কার্গো পরিবহন বাড়ানো অপরিহার্য কার্যক্রমেরই অংশ। পরিকল্পিতভাবে এসব করা হলেই একটি এয়ারলাইনস সামনে এগোতে পারবে। বাংলাদেশ বিমানের ক্ষেত্রেও এ কথা অনেকটাই প্রযোজ্য। এমন প্রেক্ষাপটে সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, বিমানের জন্য আগামী ১০ থেকে ১৫ বছরে ৭০ থেকে ৮০টি পর্যন্ত উড়োজাহাজের হয়তো প্রয়োজন হতে পারে।
কিন্তু ‘প্রয়োজন’ থাকা আর বাণিজ্যিক বাস্তবতা ও অতীত অভিজ্ঞতাসহ সংশ্লিষ্ট সব দিক বিবেচনায় না নিয়ে যেকোনো মূল্যে উড়োজাহাজ কেনা এক কথা নয়।
বিষয়টি এখন আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। কারণ, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কোম্পানি বোয়িংয়ের কাছ থেকে ১৪টি উড়োজাহাজ কেনার চূড়ান্ত চুক্তির পর বাংলাদেশ আরও ১১টি উড়োজাহাজ কেনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে বলে যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া-বিষয়ক বিশেষ দূত ও ভারতে দেশটির রাষ্ট্রদূত সার্জিও গর সম্প্রতি জানিয়েছেন। অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে, সাধারণ মানুষ না জানলেও ১৪টি উড়োজাহাজ কেনার চুক্তির বাইরে আরও ১১টি কেনার আলোচনা ভেতরে-ভেতরে এগিয়ে গেছে। স্বাভাবিকভাবে প্রশ্নটি এখন শুধু ৪৫ হাজার কোটি টাকার মতো বড় অঙ্কের অর্থে ১৪টি উড়োজাহাজ কেনার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। ভাবতে হচ্ছে, ভবিষ্যতে আরও কয়েক শ কোটি ডলারের দায় মেটানোর বিষয় নিয়েও।
- ট্যাগ:
- মতামত
- অনিয়ম
- কেনাকাটা
- অনিয়ম-দুর্নীতি