ঊনসত্তর থেকে একাত্তর: চোখের সামনে বদলে যাওয়া ইতিহাস
১৯৬৭ সালে পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আইয়ুব খান বের করলেন তাঁর বই ‘প্রভু নয় বন্ধু—একটি রাজনৈতিক আত্মজীবনী’ (Friends Not Masters—A Political Autobiography)। সবাই জানত, এই বই আসলে লিখেছিলেন তাঁর তথ্যমন্ত্রী গওহর আইয়ুব। হিটলারের যেমন গোয়েবলস, আইয়ুব খানের তেমনি ছিল গওহর আইয়ুব। বইটি একজন সামরিক শাসক তথা তথাকথিত নির্বাচিত স্বৈরাচারের উন্নয়নের বয়ান এবং তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানি বাঙালিদের নিকৃষ্টতম জাতি হিসেবে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার দলিল।
১৯৬৮ সালটি ছিল স্বৈরাচারী আইয়ুব খানের ক্ষমতা দখলের এক দশক পূর্তির বছর। মহোৎসাহে জাঁকজমকের সঙ্গে পালন করা হচ্ছিল ‘উন্নয়নের দশক’; অপরদিকে শেখ মুজিবুর রহমানসহ ৩৫ জনের বিরুদ্ধে রুজু করা হয় ‘আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা’। সম্ভবত একই বছরের ডিসেম্বর মাসে পল্টনে গিয়েছিলাম মওলানা ভাসানীর জনসভা দেখতে। পরনে পাঞ্জাবি, লুঙ্গি এবং বেতের টুপি মাথায় শুভ্রশ্মশ্রুমণ্ডিত এক মজলুম জননেতা। পল্টনের বিপুল জনসমাগমে হুংকার ছাড়লেন, ‘পূর্ব পাকিস্তানের আঞ্চলিক স্বায়ত্তশাসনের দাবি না মানিয়া লইলে পূর্ব পাকিস্তানের মানুষ বিচ্ছিন্ন হইয়া স্বাধীন পূর্ববাংলা গঠন করিবে।’