নেপালের ভূমিকম্প ও ভূমিধস: বাংলাদেশকে এখনই যা করতে হবে

প্রথম আলো মেজর একেএম শাকিল নেওয়াজ প্রকাশিত: ২৯ আগস্ট ২০২৬, ২১:১০

২০১৫ সালের নেপাল ভূমিকম্প এবং ২০২৬ সালের নেপাল-তিব্বত সীমান্তবর্তী ভয়াবহ ভূমিধস, ধ্বংসাবশেষপ্রবাহ ও আকস্মিক বন্যা—দুটি ভিন্ন প্রকৃতির দুর্যোগ হলেও এগুলোর মধ্যে একটি গভীর যোগসূত্র রয়েছে। তা হলো—অন্যের সহায়তা গ্রহণের আগে একটি রাষ্ট্রকে নিজের সক্ষমতা, প্রয়োজন এবং সীমাবদ্ধতা জানতে হয়।


২০১৫ সালের ২৫ এপ্রিল নেপালে ৭ দশমিক ৮ মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত হানে। কয়েক সেকেন্ডের প্রবল কম্পনে শতাব্দীপ্রাচীন স্থাপনা, বসতবাড়ি, বিদ্যালয়, হাসপাতাল ও সরকারি অবকাঠামো ধসে পড়ে। প্রায় ৯ হাজার মানুষ নিহত এবং ২১ হাজারের বেশি মানুষ আহত হন।


সেদিন নেপাল শুধু ভূমিকম্পের বিরুদ্ধেই যুদ্ধ করেনি; তাকে একই সঙ্গে উদ্ধার, চিকিৎসা, ত্রাণ, তথ্য, আন্তর্জাতিক সহায়তা ও দুর্যোগ-কূটনীতির একটি জটিল যুদ্ধ পরিচালনা করতে হয়েছিল।


ভূমিকম্পের পর বিশ্বজুড়ে বিরাট মানবিক সাড়া সৃষ্টি হয়। জাতিসংঘের সমন্বয় ব্যবস্থায় ৩১টি দেশের ৭৬টি আন্তর্জাতিক আরবান সার্চ অ্যান্ড রেসকিউ (উসার) দল নেপালে নিবন্ধিত হয়। এসব দলে ছিলেন প্রায় ১ হাজার ৮৭২ জন উদ্ধারকর্মী এবং ১১৮টি অনুসন্ধানী কুকুর। অনুসন্ধান, উদ্ধার, চিকিৎসা ও মানবিক সহায়তাকারী দল মিলিয়ে আন্তর্জাতিক উপস্থিতি শতাধিক দলে পৌঁছে যায়।


মানবিক সংহতির দিক থেকে এটি নিঃসন্দেহে অনন্য। কিন্তু দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার বাস্তবতা আবেগের চেয়ে অনেক কঠিন। বিপুলসংখ্যক দল কোনো দেশে পৌঁছানো মানেই যে বিপুলসংখ্যক জীবন রক্ষা পাবে, এমন সরল সমীকরণ বাস্তবে কাজ করে না। একটি উদ্ধারকারী দল কতজন সদস্য নিয়ে এসেছে, তার চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো—দলটি কী করতে পারে, কত দ্রুত কাজ শুরু করতে পারে, কী ধরনের সরঞ্জাম এনেছে এবং কতক্ষণ স্বয়ংসম্পূর্ণভাবে মাঠে থাকতে পারে।


নেপালে আসা দলগুলোর সক্ষমতাও সমান ছিল না। কোনো দল কে-৯ বা অনুসন্ধানী কুকুর ব্যবহার করে জীবিত মানুষের সন্ধানে দক্ষ ছিল; কোনো দল জরুরি চিকিৎসা, রোপ রেসকিউ কিংবা হালকা উদ্ধারকাজে বিশেষজ্ঞ ছিল। কিছু দল নিজ দেশের নিখোঁজ নাগরিক, পর্যটক ও পর্বতারোহীদের সন্ধানে স্বাভাবিকভাবেই অগ্রাধিকার দিয়েছিল। কিন্তু ভারী রিইনফোর্সড কংক্রিট ভেঙে গভীর ধ্বংসস্তূপ থেকে মানুষ উদ্ধারের জন্য যে হেভি উসার এবং ডিপ-কলাপস রেসকিউ সক্ষমতা প্রয়োজন, তা তুলনামূলকভাবে সীমিত ছিল।


একটি বহুতল কংক্রিট ভবন ধসে পড়লে শুধু হাতুড়ি, শাবল কিংবা জনবল দিয়ে কার্যকর উদ্ধার পরিচালনা করা যায় না। প্রয়োজন হয় কংক্রিট কাটা, দেয়াল ও মেঝে ছিদ্র করা, ভারী ধ্বংসাবশেষ উত্তোলন, অস্থিতিশীল কাঠামোকে শোরিংয়ের মাধ্যমে সাময়িকভাবে নিরাপদ রাখা, টানেল তৈরি, সংকীর্ণ স্থানে প্রবেশ এবং শব্দ, ক্যামেরা ও সেন্সর ব্যবহার করে জীবিত মানুষের অবস্থান শনাক্ত করার দক্ষতা। পাশাপাশি প্রয়োজন হয় কাঠামোগত প্রকৌশলী, উদ্ধারস্থলে চিকিৎসা দেওয়ার মতো প্রশিক্ষিত জনবল এবং একটি নির্ভরযোগ্য কমান্ড ব্যবস্থা।


নেপালের অভিজ্ঞতায় দেখা গেল, কখনো একই কর্মস্থলে একাধিক দল উপস্থিত হয়েছে, আবার কোনো প্রত্যন্ত এলাকায় প্রয়োজনীয় দল পৌঁছাতে পারেনি। অসম্পূর্ণ তথ্য, ভাষাগত সমস্যা, ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক, পাহাড়ি ভূপ্রকৃতি, বিমানবন্দরে অতিরিক্ত চাপ এবং স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয়গত সীমাবদ্ধতা বহু দলের কার্যকারিতা কমিয়ে দেয়। কোনো কোনো দলকে কাজ দেওয়ার আগেই তাদের অবস্থান, সক্ষমতা ও প্রয়োজন বোঝার জন্য মূল্যবান সময় ব্যয় করতে হয়েছে।


এখানেই দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার একটি কঠিন সত্য সামনে আসে: দুর্যোগস্থলে দলের সংখ্যা জীবন বাঁচায় না; সঠিক সময়ে, সঠিক স্থানে, সঠিক দক্ষতা ও সরঞ্জামসম্পন্ন দলকে নিয়োগ করাই জীবন বাঁচায়।

সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ুন

প্রতিদিন ৩৫০০+ সংবাদ পড়ুন প্রিয়-তে

আরও