ইরান যুদ্ধের ছয় মাস: কে কতটা জিতল?
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইসরায়েলকে সঙ্গে নিয়ে যখন ইরানের ওপর হামলা শুরু করলেন, তখন তিনি একে একটি ‘এক্সকার্শন’ বা ছোটোখাটো ‘সামরিক ভ্রমণ’ হিসেবে চিত্রিত করেছিলেন, যার মেয়াদ হবে মাত্র কয়েক সপ্তাহ।
কিন্তু ছয় মাস পর, সেই সামরিক অভিযান কেবল পশ্চিম এশিয়া নয়, গোটা বিশ্বের জন্য একটি দীর্ঘস্থায়ী দুঃস্বপ্নে পরিণত হয়েছে।
ইরানের জনগণের জন্য, পশ্চিম এশিয়ার অন্যান্য অঞ্চলে বসবাসকারী কোটি কোটি মানুষের জন্য এবং বিশ্বজুড়ে বাড়তি খরচের চাপে থাকা ভোক্তাদের জন্য একটি বিপর্যয় হয়ে দাঁড়িয়েছে এ যুদ্ধ।
তবু ট্রাম্পের লক্ষ্যগুলো অপূর্ণই রয়ে গেছে, যদিও সেই লক্ষ্য বারবার বদলে যেতে দেখা গেছে।
ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের আকস্মিক হামলার প্রথম দিনই ইরানের সর্বোচ্চ নেতা নিহত হন, তার ছেলে গুরুতর আহত হন। সেই চরম আঘাতের পরও ইরানের সরকার এখন পর্যন্ত টিকে আছে এবং তারা বিশ্বাস করে, সময় তাদের পক্ষেই কাজ করছে।
অন্যদিকে ট্রাম্প প্রশাসন এখন ইরানে নিজেদের তৈরি করা এই সংকট থেকে বেরিয়ে আসার চেষ্টায় নিজেদের সমস্ত শক্তি প্রয়োগ করছে।
জুনে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের পর যুদ্ধের তীব্রতা কমেছে, কিন্তু যুদ্ধ শেষ হওয়ার কোনো স্পষ্ট লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না।
বিশ্লেষকরা এখন একটি বিষয়ে মোটামুটি একমত, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের এই সামরিক অভিযানের ফলে তেহরানের শাসকগোষ্ঠীর পতন ঘটবে না, কিংবা ওয়াশিংটন কোনো চূড়ান্ত ও সুস্পষ্ট বিজয়ও পাবে না।
বরং এই যুদ্ধ এখন একটি দীর্ঘস্থায়ী অচলাবস্থা এবং একে অপরকে দুর্বল করার এক দীর্ঘমেয়াদি প্রক্রিয়ায় পরিণত হয়েছে।