গাজায় কি সিরিয়া মডেল প্রয়োগ করছে আমেরিকা
মিসরের এল-আলামিন শহরে বন্ধ দরজার ওপাশে মুখোমুখি বসে ছিলেন দুজন মানুষ, যাঁদের একসঙ্গে এক টেবিলে বসার কথা কয়েক বছর আগেও কেউ কল্পনায় আনতে পারত না। একজন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা ও সবচেয়ে বিশ্বস্ত দূত জ্যারেড কুশনার। অন্যজন হামাসের শীর্ষ রাজনৈতিক নেতা খলিল আল-হাইয়া—যাঁকে যুক্তরাষ্ট্র নিজেই একদিন সন্ত্রাসী তালিকায় তুলেছিল।
দুই ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে চলা এই বৈঠকে পাশে ছিলেন সাবেক ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ার, ‘বোর্ড অব পিস’-এর পরিচালক নিকোলে ম্লাদেনভ, মিসরীয় গোয়েন্দাপ্রধান হাসান রশাদ এবং কাতার-তুরস্কের প্রতিনিধিরা।
২০২৬ সালের ১৬ আগস্টের এই বৈঠক সম্পন্ন হওয়ার পরই প্রশ্ন উঠেছে, আমেরিকা কি গাজায় সিরিয়ার সেই পুরোনো পরীক্ষাটাই আবার চালাতে চাইছে, যেখানে একদা আল-কায়েদার কমান্ডার আবু মোহাম্মদ আল-জুলানি স্যুট পরে আহমেদ আল-শারা নামে দামেস্কের প্রেসিডেন্ট বনে গেছেন?
হামাস আমেরিকার তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী সংগঠন। অথচ কুশনারের সঙ্গে একই টেবিলে হামাস বসেছে কোনো ভাঙা, নতজানু শক্তি হিসেবে নয়। উল্টো, গত দুই বছরে যে শক্তি একসময় নিজেকে অঞ্চলের অপ্রতিরোধ্য পরাশক্তি ভাবত, সেই ইসরায়েলকেই কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিকভাবে কোণঠাসা করে ফেলেছে এই যুদ্ধ।