গ্যাস সংকট: দুই বছরের অপেক্ষা, নাকি স্থায়ী সমাধান?

জাগো নিউজ ২৪ ড. হারুন রশীদ প্রকাশিত: ২২ আগস্ট ২০২৬, ২২:০৮

রাজধানীর কোনো কোনো এলাকায় ভোরে চুলা জ্বালিয়ে রান্না শুরু করার আগেই গৃহস্থ বুঝে যান—আজও হয়তো অপেক্ষা করতে হবে। চুলার আগুন মিটমিট করে, কখনো একেবারেই জ্বলে না। কোথাও সিএনজি স্টেশনের সামনে দীর্ঘ সারি; কোথাও শিল্পকারখানার উৎপাদন কমে যায়; কোথাও বিদ্যুৎকেন্দ্র পর্যাপ্ত গ্যাস না পেয়ে উৎপাদন ব্যাহত করে। অর্থাৎ গ্যাসের সংকট এখন আর কেবল জ্বালানি খাতের সমস্যা নয়—এটি নাগরিক জীবন, শিল্প, বিদ্যুৎ, পরিবহন, কর্মসংস্থান ও অর্থনীতির সঙ্গে সরাসরি যুক্ত।


এই বাস্তবতার মধ্যেই ১৮ আগস্ট প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ড. জাহেদ উর রহমান বলেছেন, দেশে চলমান গ্যাস সংকট দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত সমস্যা এবং এটি পুরোপুরি নিরসনে কমপক্ষে আরও দুই বছর সময় লাগতে পারে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, সংকটের তাৎক্ষণিক কারণ দূর হলেও গ্যাসের চাহিদা ও সরবরাহের মধ্যে বড় ঘাটতি থেকেই যাবে। তিনি জানিয়েছেন, ভোলার গ্যাস জাতীয় গ্রিডে আনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে, এলএনজি কেনার চেষ্টা চলছে এবং স্থলভাগে গ্যাস অনুসন্ধানও জোরদার করা হচ্ছে।


দুই বছর—একজন নীতিনির্ধারকের কাছে হয়তো একটি বাস্তবসম্মত সময়সীমা। কিন্তু যে পরিবারের চুলা আজ জ্বলে না, যে কারখানার উৎপাদন আজ কমে গেছে, যে সিএনজি চালক ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকেন, তাঁদের কাছে দুই বছর অত্যন্ত দীর্ঘ সময়।


প্রশ্ন তাই শুধু ‘গ্যাস সংকট কবে যাবে?’ নয়। প্রশ্ন হলো, দুই বছর পরও কি আমরা একই ধরনের সংকটের মুখোমুখি হব, নাকি এই সময়টাকে স্থায়ী সমাধানের ভিত্তি তৈরির কাজে ব্যবহার করতে পারব? কারণ বর্তমান সংকটের সবচেয়ে বড় শিক্ষা হলো—আমাদের গ্যাস-নিরাপত্তা ব্যবস্থা এখনো অত্যন্ত ভঙ্গুর।


জুলাইয়ে একটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনালে কারিগরি ত্রুটির কারণে জাতীয় গ্রিডে দৈনিক প্রায় ৪৫০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ কমে যায়। তখন মোট সরবরাহ প্রায় ২ হাজার ১৭০ মিলিয়ন ঘনফুটে নেমে আসে, যেখানে চাহিদা ছিল প্রায় ৩ হাজার ৮০০ মিলিয়ন ঘনফুট। পরে টার্মিনালের আংশিক কার্যক্রম চালু হলে সরবরাহ কিছুটা বাড়ে এবং সংকটও সাময়িকভাবে কমতে শুরু করে।


এই ঘটনা আমাদের একটি নির্মম সত্যের মুখোমুখি দাঁড় করিয়েছে—একটি গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোয় সমস্যা দেখা দিলেই জাতীয় জ্বালানি সরবরাহে এত বড় ধাক্কা লাগতে পারে। এটি শুধু কারিগরি দুর্বলতা নয়; এটি পরিকল্পনার দুর্বলতারও প্রতিচ্ছবি।


বাংলাদেশের গ্যাসের ওপর নির্ভরতা বহু খাতে ছড়িয়ে আছে। বিদ্যুৎ উৎপাদন, সার কারখানা, শিল্প, পরিবহন, বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান এবং আবাসিক ব্যবহার—সবখানেই প্রাকৃতিক গ্যাস গুরুত্বপূর্ণ। পেট্রোবাংলার তথ্য অনুযায়ী, দেশের মোট বিদ্যুৎ উৎপাদনের বড় অংশ এখনো গ্যাসনির্ভর। একই সঙ্গে দেশীয় গ্যাসক্ষেত্রগুলোর উৎপাদন কমছে এবং আমদানি করা এলএনজির ওপর নির্ভরতা বাড়ছে। এখানেই সমস্যার মূল জায়গা।

সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ুন

প্রতিদিন ৩৫০০+ সংবাদ পড়ুন প্রিয়-তে

আরও