এখনো সবই সূচনার পর্যায়ে, তবুও শুভ সূচনা
২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের নির্বাচনি ইশতেহারে গ্রামীণ অর্থনীতির পুনর্জাগরণ, আর্থসামাজিক উন্নয়ন এবং সবুজ বিপ্লব বাস্তবায়নে খাল খননের অঙ্গীকার করা হয়েছিল। সেই অঙ্গীকার বাস্তবায়নের পথেই আগামী পাঁচ বছরে প্রায় ২০ হাজার কিলোমিটার নদীনালা, খাল ও জলাধার খনন ও পুনঃখননের বৃহৎ কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। এর মধ্যে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় প্রায় ৫ হাজার কিলোমিটার খাল খনন ও পুনঃখননের দায়িত্ব পালন করবে।
খাল খনন : গ্রামীণ অর্থনীতির নতুন প্রাণ
শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ১৯৭৭ সালে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, সেচব্যবস্থার সম্প্রসারণ এবং গ্রামীণ অর্থনীতিকে পুনরুজ্জীবিত করার লক্ষ্যে দেশব্যাপী ঐতিহাসিক ‘খাল খনন কর্মসূচি’ শুরু করেছিলেন। স্থানীয় মানুষের অংশগ্রহণ ও স্বেচ্ছাশ্রম ছিল সেই কর্মসূচির অন্যতম বৈশিষ্ট্য। আজকের বাস্তবতায় সেই জনসম্পৃক্ততার চেতনাকে ধারণ করেই খাল খনন কর্মসূচিকে নতুন মাত্রায় এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
ভরাট ও দখল হয়ে যাওয়া খালগুলো পুনঃখনন হলে একদিকে যেমন পানি নিষ্কাশনের পথ তৈরি হবে, অন্যদিকে সেচের সুযোগ বাড়বে। জলাবদ্ধতা কমবে, বন্যার পানি দ্রুত নিষ্কাশিত হবে এবং খরাপ্রবণ এলাকায় পানির সংরক্ষণ বাড়বে। খালের পানিতে মাছ চাষ, খালপাড়ে বৃক্ষরোপণ ও হাঁস পালনসহ বহুমুখী কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। ফলে একটি খাল শুধু পানিপ্রবাহের পথ নয়-গ্রামীণ অর্থনীতির একটি জীবন্ত সম্পদে পরিণত হবে।
আমরা বিশ্বাস করি, ‘খাল কাটা হলে সারা, দূর হবে বন্যা-খরা’-এ প্রত্যয় বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে গ্রামীণ জনপদে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের নতুন গতি সৃষ্টি হবে। খালে মাছ, খালপাড়ে গাছ-এ সমন্বিত উদ্যোগ প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষার পাশাপাশি মানুষের জীবন-জীবিকায়ও ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে। ‘মাছে-ভাতে বাঙালি’র ঐতিহ্যকে পুনরুজ্জীবিত করার ক্ষেত্রেও এ কর্মসূচি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
ভূমিকম্প মোকাবিলায় প্রস্তুত হচ্ছে বাংলাদেশ
ভূমিকম্প বলে-কয়ে আসে না। ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট, রংপুরসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চল ভূমিকম্পের ঝুঁকিতে রয়েছে। তাই দুর্যোগ সংঘটিত হওয়ার পর উদ্ধার নয়, তার আগেই প্রস্তুতি নিশ্চিত করাই আমাদের অন্যতম লক্ষ্য।
ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার জন্য এক লাখ স্বেচ্ছাসেবক প্রস্তুত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে প্রায় ৭০ হাজার স্বেচ্ছাসেবকের ডেটাবেজ প্রস্তুত করা হয়েছে; দ্রুত বাকি ৩০ হাজার স্বেচ্ছাসেবককেও প্রশিক্ষণ ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জামের আওতায় আনা হবে।
ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন এলাকায় ভূমিকম্প-পরবর্তী ৪৪৫টি আশ্রয়কেন্দ্র চিহ্নিত করা হয়েছে। উদ্ধার কার্যক্রমকে আরও কার্যকর করতে আর্মড ফোর্সেস ডিভিশন, ফায়ার সার্ভিস ও রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটিকে আধুনিক উদ্ধার সরঞ্জাম দেওয়া হয়েছে। আরও সরঞ্জাম সংগ্রহের কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
- ট্যাগ:
- মতামত
- বিএনপি সরকার
- গ্রামীণ অর্থনীতি
- খাল খনন