সমাজব্যবস্থাও বদলাতে হবে

কালের কণ্ঠ সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী প্রকাশিত: ১৬ আগস্ট ২০২৬, ১১:২৬

আমাদের প্রত্যাশা সব সময়েই এ রকমের ছিল। এবং এখনো তা অপরিবর্তিতই রয়ে গেছে, সেটা হলো যে ব্যবস্থাটা বদলাবে এবং মানুষে-মানুষে অধিকার ও সুযোগের সাম্য প্রতিষ্ঠিত হবে, কিন্তু সেটা তো ঘটেনি। অনেক কিছুই ঘটে যাচ্ছে, সেগুলোকে সাফল্য বলার কোনো সুযোগ নেই; সরকার তো বদলাচ্ছেই, এমনকি রাষ্ট্রও একাধিকবার ভাঙাগড়ার ভেতর দিয়ে গেল। কিন্তু কই, ভেতরের ব্যবস্থাটা তো বদলাল না। আর সেটা যদি না বদলায়, তাহলে ওপরের সবকিছুই, তা সেগুলো যে আকারের বা গুরুত্বের হোক না কেন, যতই বদলাব না কেন, তাতে সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা পূরণ হবে না। মূল সমস্যাটা হলো ওইটাই।


অনেক কিছুই বদলেছে, আরো বদলাবে বলে মনে হচ্ছে, কিন্তু ভেতরের যে সমাজকাঠামো, সেটা তো বদলাচ্ছে না। সেখানে ভিক্ষাদাতার সংখ্যা যতই হোক, ভিক্ষুকের সংখ্যা অনেক। বৈষম্যমূলক সমাজব্যবস্থাই হচ্ছে নদী, তার স্রোতই নানা খাল, বিল, জলাশয় এবং পুকুরে গিয়ে পড়েছে। প্রাকৃতিক নদী শুকিয়ে যাচ্ছে, কিন্তু সামাজিক বৈষম্যের নদী শুকাবে কী, দিন দিন ফুলেফেঁপে উঠেছে। এই যে এক নদীর শুকানো, আরেক নদীর স্ফীতি, এটা অত্যন্ত বিপজ্জনক ব্যাপার এবং বলা বাহুল্য, আমরা এই বিপদের মধ্যেই রয়েছি। প্রত্যাশাটা হলো প্রাকৃতিক নদী বেগবান ও গভীর হবে, সামাজিক বৈষম্যের নদী দুর্বল হয়ে পড়বে।


রাষ্ট্র ও সমাজে বৈপ্লবিক পরিবর্তন ঘটার দায়িত্ব আসলে প্রকৃত দেশপ্রেমিকদের। আমাদের দেশে মানবমুক্তির আন্দোলন সঠিকভাবে গড়ে উঠতে পারেনি; গড়ে উঠলে দেশের অবস্থা অবশ্যই ভিন্ন রকমের হতো। দেশপ্রেমিকদের ভেতর নানা রকমের তাত্ত্বিক বিভ্রান্তি ছিল এবং আছে, সেটা অসত্য নয়। প্রধান দ্বন্দ্বকে তাঁরা সঠিকভাবে চিহ্নিত করতে পারেননি। আবার যাঁরা চিহ্নিত করতে সক্ষম হয়েছেন, তাঁরা ব্যর্থ হয়েছেন সংগঠন ও আন্দোলনের সৃষ্টিতে।


ঘটনা তো আরো একটা ঘটেছে। সেটা হলো মানবমুক্তিতে অঙ্গীকারবদ্ধ নেতাদের কাউকে কাউকে জাতীয়তাবাদীরা নিজেদের স্রোতের আবর্তের ভেতর টেনে নিয়ে গেছেন; যার দরুন আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জাতীয় পার্টি—এসব দলে সাবেক বামপন্থীদের খোঁজ পাওয়া যায়, তবে বামপন্থী হিসেবে নয়, জাতীয়তাবাদী হিসেবে। সর্বশেষ ঘটনা ঘটেছে বিগত সাধারণ নির্বাচনের সময়ে যখন কয়েকজন অত্যন্ত বিশিষ্ট বামপন্থী নেতা শুধু যে জাতীয়তাবাদী দক্ষিণ পন্থা জোটে যোগ দিয়েছেন, তা-ই নয়, নিজস্ব প্রতীকও বিসর্জন দিয়েছেন।


এককালের সমাজ বিপ্লবীদের পুঁজিবাদ উৎপাটিত করে নিজের বৃত্তের মধ্যে টেনে নেয়। তখন দেখা যায়, বিপ্লবীরা কেউ কেউ রাষ্ট্রব্যবস্থার অংশ হয়ে যান। কেউ বা সেবক হন বহুজাতিক কম্পানির, অনেকেই চলে যান বিদেশে। তাঁদের এই পতনে জাতীয়তাবাদীরা উল্লসিত হয়েছেন, বিমর্ষ হয়েছেন দেশপ্রেমিকরা। বামপন্থী আন্দোলন থেকে যাঁরা বিচ্যুত হয়েছেন, তাঁদের শুধু ধিক্কার দেওয়াটা সঠিক নয়, তাঁদের পক্ষে যেটুকু করা সম্ভব, ততটুকু তো তাঁরা করেছেন। এর চেয়ে বেশি করতে পারেননি। সে নিয়ে আমরা দুঃখ প্রকাশ করব ঠিকই, কিন্তু তাঁদের কাজকে কোনোমতেই অস্বীকার করা যাবে না। পুঁজিবাদী সমাজে বামপন্থী হওয়াটা কঠিন, টিকে থাকাটা কঠিনতর।


ভবিষ্যতে প্রত্যাশা তাই আন্দোলন। আন্দোলন যে নেই তা নয়, তবে সেটা বড়ই স্তিমিত। আশা করব, সমাজ পরিবর্তনের আন্দোলন বেগবান ও গভীর হবে। ফলে রাষ্ট্রও বদলাবে, সমাজও বদলাবে। এই আন্দোলন মূলত হবে রাজনৈতিক, তবে সাংস্কৃতিকভাবে এবং সংস্কৃতির ক্ষেত্রেও এর কার্যকারিতা থাকবে। সাংস্কৃতিক আন্দোলনকে অবহেলা করা হয়েছে, যে জন্য দেশে দর্শন ও ইতিহাস সম্পর্কে সচেতনতার বড়ই অভাব। সমাজ পরিবর্তনের আন্দোলন সংস্কৃতিকে অবহেলা করবে না।


আবারও বলি, আগামীর প্রত্যাশাটা হলো আন্দোলনের। এটা সমষ্টিগত প্রত্যাশা বটে। ব্যক্তির প্রত্যাশা মিটবে সমষ্টিগত আন্দোলনের ফলেই, নইলে নয়। বামপন্থীরা নির্বাচন করেন, তা করুন, কিন্তু তাঁদের প্রধান দায়িত্ব নির্বাচনে যোগ দেওয়া নয়। প্রধান দায়িত্ব আন্দোলন করা। করুণা, সুবিচার এসবে কুলাবে না, চাই অধিকার ও সুযোগের সাম্য। এর জন্য পথ একটাই, সেটা হলো সমাজ পরিবর্তনের আন্দোলন।

সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ুন

প্রতিদিন ৩৫০০+ সংবাদ পড়ুন প্রিয়-তে

আরও