জ্ঞানেশেই কি গণেশ উল্টাবে মোদির?

প্রথম আলো সারফুদ্দিন আহমেদ প্রকাশিত: ০৬ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৪৮

পাকিস্তানে তখন উর্দি শাসন। জেনারেল মোশাররফ ক্ষমতায়। রাজনৈতিক দলগুলো মারাত্মক চাপে। নেতারা দেশছাড়া।


পিপিপি নেত্রী বেনজির ভুট্টোও দেশে ঢুকতে পারছেন না। তাঁকে পালাবদল করে কখনো লন্ডনে, কখনো দুবাইয়ে থাকতে হচ্ছে।


এই রকম সময়ে ২০০১ সালের ২৫ নভেম্বর বিকেল বেলায় দিল্লিতে ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী (পরে উপপ্রধানমন্ত্রী হন) লালকৃষ্ণ আদভানির বাসায় বেড়াতে এসেছেন বেনজির ভুট্টো।


চা খেতে খেতে আদভানি বললেন, ‘ভুট্টোজি, ভারত-পাকিস্তানের জন্মসময় আর অতীত তো প্রায় একই। এই সময়ের মধ্যে ভারতে তো গণতন্ত্র মোটামুটি পোক্ত ভিত্তি পেল; কিন্তু পাকিস্তানে পেল না কেন?’


বেনজির ভুট্টো বললেন, ‘দেখুন, এর পেছনে দুটি কারণ। একটি হলো, আপনাদের সেনাবাহিনী রাজনীতিতে নাক গলায় না। আরেকটি হলো, আপনাদের একটি সত্যিকারের শক্তিশালী আর নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন আছে যা জনগণের ভোট পাওয়া দলকে ক্ষমতায় আসার সুযোগ নিশ্চিত করে। পাকিস্তানে এ দুটো নেই।’


২০১২ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস-এর একটি প্রতিবেদনে আদভানির জবানিতে এই স্মৃতিচারণমূলক ঘটনাটির উল্লেখ আছে।


ভারতের নির্বাচন কমিশন (ইসিআই) সম্পর্কে বেনজির ভুট্টোর এই উচ্চ ধারণার কারণ হলো—ভারতের নির্বাচন কমিশনাররা সরকারের সামনে প্রায় কখনোই মাথা নত করেননি।


আর ইসিআইয়ের মাথা না ঝোকানোর সাহসের ভিত্তি গড়ে দিয়ে গিয়েছিলেন দেশটির প্রথম প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) গণিতবিদ সুকুমার সেন।


১৯৪৭ সালে স্বাধীনতার পর প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরু যত দ্রুত সম্ভব নির্বাচন করতে সুকুমার সেনকে তাড়া দিচ্ছিলেন।


কিন্তু সুকুমার বুঝতে পারছিলেন, ১৭ কোটি ৬০ লাখ ভোটারের (যার প্রায় ৮৫ শতাংশ ছিল অশিক্ষিত) তালিকা তৈরি করা, নির্বাচনী প্রতীক বরাদ্দ করা, লাখ লাখ ব্যালট বাক্স তৈরি করা ও পাহাড়ি অঞ্চলে রাস্তাঘাট তৈরি করা ছাড়া নির্বাচন দেওয়া অসম্ভব। বিষয়টি নেহরুকে জানানোর পরও তিনি নির্বাচন দেওয়ার জন্য চাপ দিচ্ছিলেন।


এতে বিরক্ত হয়ে সুকুমার সেন স্পষ্টভাবে নেহরুকে জানিয়েছিলেন, পর্যাপ্ত প্রস্তুতি ছাড়া নির্বাচন দেওয়া সম্ভব না।


তিনি নেহরুকে অপেক্ষা করতে বলেছিলেন এবং নেহরুর ‘তাড়াহুড়ো’ নিয়ে উষ্মা প্রকাশ করেছিলেন।


সুকুমার সেনের ইসিআই ১৯৫১-৫২ সালের প্রথম সাধারণ নির্বাচন করেছিল। সে সময় ভোটার তালিকা বানানোর সময় উত্তর ভারতের অনেক নারী ভোটার তালিকায় নিজের নাম না দিয়ে ‘অমুকের স্ত্রী’ বা ‘অমুকের মা’ হিসেবে পরিচয় দিতে চাইছিলেন।


অনেক রাজনৈতিক নেতা তাতে সমর্থনও দিয়েছিলেন। কিন্তু সুকুমার সেন নারীর নিজস্ব নাম ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করতে নির্দেশ দিয়েছিলেন।


স্বাধীনতার পরপরই নাগরিক হিসেবে নারীর স্বতন্ত্র রাজনৈতিক পরিচয় প্রতিষ্ঠার দৃষ্টান্ত তিনি স্থাপন করেছিলেন।


নীতিতে অটল থাকা ও সরকারের সামনে মাথা না নোয়ানোর জন্য ভারতে যিনি সম্ভবত সবচেয়ে বেশি নামকরা, তিনি হলেন দেশটির দশম সিইসি তিরুনেল্লাই নারায়ণ আইয়ার শেষন। সবাই তাঁকে টিএন শেষন নামে চেনে।


১৯৯১ সালে সেই সময়কার সদ্যনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী নরসিমা রাওয়ের সরকার টিএন শেষনকে ‘একান্ত বাধ্যগত’ করার চেষ্টা করেছিল। কিন্তু শেষনকে তাঁর সার্বভৌম অবস্থান থেকে একচুলও নড়ানো সম্ভব হয়নি।

সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ুন

প্রতিদিন ৩৫০০+ সংবাদ পড়ুন প্রিয়-তে

আরও