৩৫ বছর আগের রাষ্ট্রপতি নির্বাচন কেমন ছিল
প্রায় ৩৫ বছর পর আবার রাষ্ট্রপতি পদে ভোট হতে যাচ্ছে। সংখ্যার হিসাবে ফলাফল অনেকটাই জানা—জাতীয় সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতার কারণে বিএনপির প্রার্থীর জয় প্রায় নিশ্চিত। তারপরও বিরোধী দল জামায়াতের নেতৃত্বাধীন জোট রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী দিয়েছে। এই প্রার্থিতা তাই শুধু ভোটের লড়াই নয়, এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে রাজনৈতিক বার্তা ও কৌশল।
বাংলাদেশে রাষ্ট্রপতি পদে সর্বশেষ ভোট হয়েছিল ১৯৯১ সালে। সেই নির্বাচনে ক্ষমতাসীন বিএনপির প্রার্থী আবদুর রহমান বিশ্বাসের প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী ছিলেন সাবেক প্রধান বিচারপতি বদরুল হায়দার চৌধুরী। তাঁকে প্রার্থী করেছিল আওয়ামী লীগ। আবদুর রহমান বিশ্বাস জয়ী হয়েছিলেন। সেই নির্বাচন রাষ্ট্রপতির সাংবিধানিক ভূমিকা, দলীয় আনুগত্য, নিরপেক্ষতা এবং সরকার-বিরোধী দলের সম্পর্ক নিয়ে যে বিতর্ক তৈরি করেছিল, তা বাংলাদেশের রাজনীতিতে দীর্ঘস্থায়ী হয়ে আছে।
এরপর রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে আর কোনো প্রতিদ্বন্দ্বিতা দেখা যায়নি। প্রতিবারই একক প্রার্থী রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়েছেন। ফলে সংসদকক্ষে ভোট গ্রহণের প্রয়োজন পড়েনি। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন নির্বাচন কমিশন গেজেটের মাধ্যমে একক প্রার্থীকে নির্বাচিত ঘোষণা করেছে।
এবারের পরিস্থিতি তাই ১৯৯১ সালের পর সংসদে ভোটের সম্ভাবনা তৈরি করেছে। সংখ্যার হিসাবে বিএনপির প্রার্থীর জয় প্রায় নিশ্চিত হলেও বিরোধী দলের প্রার্থী দেওয়ার মধ্য দিয়ে ১৯৯১ সালের রাজনীতির অনেক প্রশ্নই যেন আবার সামনে এসেছে।
স্বাধীনতার পর থেকে রাষ্ট্রপতি ও সংসদ নির্বাচনপদ্ধতিতে বেশ কয়েকবার পরিবর্তন করা হয়েছে। ১৯৭২ সালের সংবিধানে সংসদের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের বিধান ছিল। চতুর্থ সংশোধনীর মাধ্যমে রাষ্ট্রপতি পদে প্রত্যক্ষ নির্বাচনপদ্ধতি চালু করা হয়। ১৯৭৮ সালে জিয়াউর রহমান প্রত্যক্ষ ভোটে প্রথম রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। এরপর ১৯৮১ ও ১৯৮৬ সালে দুবার সাধারণ ভোটারের প্রত্যক্ষ ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন হয়।
- ট্যাগ:
- রাজনীতি
- রাষ্ট্রপতি নির্বাচন