শিশু জাতির ভবিষ্যৎ নাকি বর্তমান

ঢাকা পোষ্ট দীপু মাহমুদ প্রকাশিত: ১০ আগস্ট ২০২৬, ১৬:০৯

শিশু ঠিক কখন ‘ভবিষ্যৎ’ হয়ে যায়!


জন্মের পর? বিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার পর? নাকি বড় হয়ে কর্মজীবনে প্রবেশের পর?


প্রশ্নটি অদ্ভুত মনে হতে পারে। কারণ আমরা ছোটবেলা থেকেই একটি বাক্য শুনে আসছি—‘শিশুরা জাতির ভবিষ্যৎ’। রাষ্ট্রপ্রধানের ভাষণ, বিদ্যালয়ের অনুষ্ঠান, উন্নয়ন সংস্থার প্রচার কিংবা আন্তর্জাতিক দিবসের প্রতিপাদ্য—প্রায় সর্বত্রই এই বাক্যটি উচ্চারিত হয়। এর উদ্দেশ্য নিঃসন্দেহে ইতিবাচক। সমাজকে শিশুদের প্রতি আরও দায়িত্বশীল করাই এর লক্ষ্য। কিন্তু একটু থেমে ভাবুন।


যে শিশু আজ ক্ষুধার্ত, আজ নির্যাতনের শিকার, আজ যুদ্ধ ও দুর্যোগে বাস্তুচ্যুত, আজ দূষিত বাতাসে শ্বাস নিচ্ছে, আজ হাসপাতালের শয্যায় চিকিৎসার অপেক্ষায়, আজ শিক্ষাবঞ্চিত সে কীভাবে ‘ভবিষ্যৎ’ হয়?


সে তো আজ বেঁচে আছে। আজ তার অধিকার লঙ্ঘিত হচ্ছে। আজ তার নিরাপত্তা, চিকিৎসা, শিক্ষা, পুষ্টি, খেলাধুলা ও সুরক্ষা দরকার। তার জীবন বর্তমান কালে ঘটে; ভবিষ্যৎ কালে নয়।


তবু আমরা তাকে প্রধানত ‘ভবিষ্যৎ’ বলেই পরিচয় করিয়ে দেই।


এই লেখার উদ্দেশ্য ‘শিশুরা জাতির ভবিষ্যৎ’ বাক্যটিকে ভুল প্রমাণ নয়। কারণ আজকের শিশুরাই আগামী দিনের সমাজ, রাষ্ট্র ও অর্থনীতি গড়বে-এটা নিঃসন্দেহে সত্য। তবে প্রশ্ন হলো, এই পরিচয়টিই কি শিশুর প্রধান পরিচয়? নাকি তার প্রথম পরিচয়-সে একজন বর্তমানের মানুষ?


এই প্রশ্নটি শুধু ভাষার নয়; এটা শিশু অধিকার, রাষ্ট্রনীতি এবং নৈতিক দর্শনের প্রশ্ন।


কারণ ভাষা শুধু বাস্তবতাকে বর্ণনা করে না; ভাষা বাস্তবতাকে দেখার দৃষ্টিভঙ্গিও তৈরি করে। আমরা যেভাবে মানুষকে সংজ্ঞায়িত করি, রাষ্ট্র ও সমাজও ধীরে ধীরে সেভাবেই তার প্রতি নিজেদের দায়িত্ব ও অগ্রাধিকার নির্ধারণ করে। যদি শিশুকে প্রধানত ‘ভবিষ্যৎ’ হিসেবে দেখা হয়, তাহলে তার বর্তমান অধিকার কি অনিচ্ছাকৃতভাবে গুরুত্ব হারানোর ঝুঁকিতে পড়ে? যদি তার পরিচয়ই হয় ‘আগামী দিনের নাগরিক’, তাহলে আজকের নাগরিক হিসেবে তার দাবি কি আমাদের নীতিনির্ধারণে যথেষ্ট জোর পায়?


এই প্রশ্নগুলোর উত্তর খুঁজতে গেলে আন্তর্জাতিক শিশু অধিকার দর্শন আমাদের একটি গুরুত্বপূর্ণ সত্যের সামনে দাঁড় করায়।


১৯৮৯ সালের জাতিসংঘের শিশু অধিকার সনদ-এর কোথাও শিশুদের ‘future citizens’ বা ‘ভবিষ্যতের নাগরিক’ হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা হয়নি। বরং সনদটি শুরু থেকেই শিশুকে একজন মানুষ, একজন ব্যক্তি এবং একজন অধিকারধারী হিসেবে দেখেছে। UNICEF তাই স্পষ্ট ভাষায় বলছে, ‘Children are human beings and are the subject of their own rights.’


অর্থাৎ শিশু কোনো করুণার পাত্র নয়, কোনো ভবিষ্যৎ বিনিয়োগের বস্তু নয়, কোনো ‘হতে থাকা মানুষ’ও নয়। সে আজকের একজন মানুষ। আর সেই কারণেই তার অধিকার আজই নিশ্চিত করতে হবে-আগামীকালের সম্ভাবনার জন্য নয়, তার বর্তমান মানবিক মর্যাদার জন্য।


এই একটি বাক্য শিশু-অধিকার দর্শনের ভিত্তি বদলে দেয়। শিশু তার বাবা-মায়ের সম্পত্তি নয়, রাষ্ট্রের সম্পদ নয়, কিংবা কেবল ‘বড় হয়ে উঠতে থাকা মানুষ’ও নয়। সে একজন পূর্ণ মানবসত্তা, যার নিজস্ব অধিকার আছে। সেই অধিকার তাকে ভবিষ্যতে অর্জন করতে হবে না; জন্মের সঙ্গে সঙ্গেই তা তার প্রাপ্য।


আরও এক ধাপ এগিয়ে UNICEF Ireland বলছে, ‘Children are not just the future: they are the present.’


এটা কেবল একটি অনুপ্রেরণামূলক বাক্য নয়; এটা আন্তর্জাতিক শিশু অধিকার দর্শনের সারাংশ। কারণ শিশুর জীবন কোনো ‘অপেক্ষমাণ জীবন’ নয়। সে এখনই বেঁচে আছে, এখনই শিখছে, এখনই বেড়ে উঠছে, এখনই আনন্দ পাচ্ছে, আবার এখনই কষ্টও পাচ্ছে। তার শৈশব ভবিষ্যতের প্রস্তুতিপর্ব নয়; সেটাও তার জীবনের পূর্ণাঙ্গ একটি অধ্যায়, যার নিজস্ব মূল্য আছে।


এই কারণেই শিশু অধিকার সনদের ৩ নম্বর অনুচ্ছেদ একটি অসাধারণ নীতিগত অবস্থান গ্রহণ করেছে। সেখানে বলা হয়েছে, ‘In all actions concerning children … the best interests of the child shall be a primary consideration.’


অর্থাৎ, শিশু-সম্পর্কিত প্রতিটি সিদ্ধান্তে শিশুর সর্বোত্তম স্বার্থই হবে প্রধান বিবেচ্য। লক্ষ্য করার বিষয়, এখানে কোথাও ‘ভবিষ্যতের স্বার্থ’কে প্রধান বিবেচনা করতে বলা হয়নি।

সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ুন

প্রতিদিন ৩৫০০+ সংবাদ পড়ুন প্রিয়-তে

আরও