হাতি-মানব দ্বন্দ্ব ও কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের দায়িত্ব

www.ajkerpatrika.com ড. বিভূতি ভূষণ মিত্র প্রকাশিত: ১০ আগস্ট ২০২৬, ১৬:০৬

সম্প্রতি ওমানের পরিবেশ অধিদপ্তর বন্য প্রাণী নিয়ে কনটেন্ট নির্মাতাদের ব্যাপারে সতর্ক করেছে। তারা বলেছে, কনটেন্ট ক্রিয়েটররা যেভাবে বন্য প্রাণী নিয়ে ছবি তুলছেন আর ভিডিও বানাচ্ছেন, তাতে বন্য প্রাণী মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়ছে, বাস্তুতন্ত্র নষ্ট হচ্ছে। এক বিবৃতিতে তারা বলেছে, কিছু কনটেন্ট নির্মাতা অনুমতি ছাড়া দোফারের প্রাকৃতিক পরিবেশে রাখা বন্য প্রাণী নিয়ে ভিডিও বানাচ্ছেন এবং বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশ করছেন। তাদের মতে, কনটেন্ট নির্মাতারা এখানে দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণ করছেন। ফলে বন্য প্রাণী মারাত্মক হুমকির মুখে পড়ছে। এর ফলে মানুষ ও বন্য প্রাণীর মধ্যে দ্বন্দ্ব বেড়ে যাচ্ছে। তারা সতর্ক করে বলেছে, এভাবে চলতে থাকলে বাস্তুতন্ত্রের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে এবং বন্য প্রাণীর প্রাকৃতিক পরিবেশে থাকাটাও অসহনীয় হয়ে উঠবে। তারা প্রকৃত গাইডলাইন মেনে অনুমতি নিয়ে বন্য প্রাণীর ছবি ও ভিডিও তুলতে পরামর্শ দিয়েছে।


এটা তো ওমানের দোফারের ঘটনা। সেই দোফার, যেখানে অত্যন্ত দুর্লভ আরবীয় চিতাবাঘ, আরব সাগরের হাম্পব্যাক তিমির মতো প্রাণীরা বসবাস করে। বন্য প্রাণী নিয়ে এ ধরনের ঘটনা আমাদের এখানেও ঘটে চলেছে। কিছুদিন আগে আমাদের অভিনেত্রী জয়া আহসান এ রকম একটি ঘটনার জন্য চটেছিলেন। তিনি বিরক্ত হয়ে ফেসবুকে পোস্ট করেছিলেন—‘এ আরেক উপদ্রব বনের ভেতর। বন বিভাগের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। মন চাইলেই লাইট, ক্যামেরা, অ্যাকশন শুরু করা যায়? মাইকের শব্দ, গানবাজনা এগুলো কি অ্যালাউ করা ঠিক এ রকম সেনসেটিভ জায়গায়?’

ভারতের কান্তারা চলচ্চিত্র নিয়ে অনেকেই আমরা অনেক কিছু জানি। অনেকেই সিনেমাটি দেখেছি। ঋষভ শেঠি ২০২২ সালে ‘কান্তারা’ সিনেমার মাধ্যমে অনেক আলোচিত হন। তিনি সিনেমার মূল চরিত্রে অভিনয় করেন। পাশাপাশি সিনেমা রচনা ও পরিচালনাও করেন। তিনি যখন ছবিটির দ্বিতীয় কিস্তি ‘কান্তারা চ্যাপ্টার ওয়ান’ বানাচ্ছিলেন, তখন ইন্ডিয়া টুডে পত্রিকায় প্রকাশিত হয়—এই সিনেমায় কর্ণাটকের গোভিগুদ্দা এলাকায় বনের ভেতর বেশির ভাগ শুটিং করা হয়। শুটিং করতে গিয়ে বনের অংশ পোড়ানো হয়েছে। এ নিয়ে স্থানীয়রা অভিযোগ করেন। তাঁরা পরিবেশ ক্ষতির বিষয়ে উদ্বেগ জানিয়ে পুলিশ স্টেশনে অভিযোগও করেন। সিনেমাটি করতে শুধু চারণভূমি ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু শুটিংয়ে বিস্ফোরক ব্যবহার করা হয়েছে। এতে বন্য হাতিরা আতঙ্কিত হয়ে গ্রামে আক্রমণ শুরু করে। শুটিং টিমের সঙ্গে এ নিয়ে গ্রামবাসীর সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটেছে। সেই সংঘর্ষে শুটিং টিমের একজন আহত হয়েছেন। সেখান থেকে তখন গ্রামবাসী শুটিং সরিয়ে নেওয়ার দাবি জানিয়েছিলেন।

বাংলাদেশেও সিনেমার অভিনয় করতে গিয়ে এমন ঘটনা ঘটেছে। এই তো কিছুদিন আগে একটি নাটকের অভিনয় করছিলেন বুবলী ও সজল। তাঁরা শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলায় অবস্থিত একটি বনে শুটিং করছিলেন। নীরবে শুটিং করে চলে এলে বোধ করি তেমন কথা হতো না। কিন্তু বিপত্তি বেধেছে অন্য জায়গায়। শুটিং চলাকালে বন্য হাতির আক্রমণের ঘটনা ঘটেছে।


২০২২ সালেই একটি নাটকে খাঁচাবন্দী টিয়া পাখি দেখানো হয়। নাটকটির নাম ‘শেষ গল্পটা তুমিই’। খাঁচাবন্দী টিয়া পাখির দৃশ্য দেখানো হয় ৪৫ সেকেন্ড। পরিচালকের বিরুদ্ধে ১৫ কোটি টাকার ক্ষতিপূরণ চেয়ে মামলা করা হয়। বন্য প্রাণীর অপরাধ দমন ইউনিট নাটকটির চিত্রনাট্যকার ও পরিচালক অরণ্য ইমনের বিরুদ্ধে বন্য প্রাণী আইন ভাঙার অভিযোগ আনে।


একবার অবশ্য ‘হাওয়া’ সিনেমার বিরুদ্ধে বন বিভাগ মামলার আবেদন করে বসে। বন বিভাগের বন্য প্রাণী অপরাধ দমন ইউনিট বন্য প্রাণী সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা আইন, ২০১২ লঙ্ঘনের অভিযোগ আনে। অভিযোগে শালিক পাখিকে খাঁচায় বন্দী রাখা, মেরে খাওয়া কিংবা শাপলাপাতা মাছ ধরার দৃশ্য আইন লঙ্ঘনের নজির বলে অভিযোগ করা হয়। বন্য প্রাণী সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা আইন, ২০১২-এর ৩৮-১, ৩৮-২, ৪০ ও ৪৬ ধারায় মামলা করে। এটা ২০২২ সালের কথা।

সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ুন

প্রতিদিন ৩৫০০+ সংবাদ পড়ুন প্রিয়-তে

আরও