শ্রীবরদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সিএ ইনসানের কাণ্ড
শেরপুরের শ্রীবরদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে মাস্টার রোলে সুইপার পদে ৪ লাখ টাকা ঘুসের বিনিময়ে চাকরি নেন মুক্তা হরিজন। চার মাসের মাথায় চাকরি চলে যাওয়ায় ওই ঘুসের টাকা ফেরত চান তিনি।
এ বিষয়ে ৬ আগস্ট শেরপুর জেলা প্রশাসক বরাবর ঘুসের টাকা ফেরত না পেয়ে একটি লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন মুক্তা হরিজন। এ অভিযোগপত্র ডিসির টেবিলে যাওয়ার আগেই খবর পেয়ে নড়েচড়ে বসে শ্রীবরদী ইউএনওর সিএ (কনফিডেন্সিয়াল অ্যাসিস্টেন্ট) ইনসান। রাতের মধ্যেই তাকে ডেকে নিয়ে ঘুসের টাকা ফেরত দিয়ে দেন এবং তার কাছ থেকে একটি অভিযোগ প্রত্যাহারের লিখিত নেন।
জেলা প্রশাসকের কাছে মুক্তা হরিজনের লিখিত অভিযোগে বলা হয়, চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে শ্রীবরদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সিএ ইনসানের মাধ্যমে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার বাংলোতে মাস্টার রোলে সুইপার পদে চার লাখ টাকার বিনিময়ে চাকরিতে যোগদান করেন। ফেব্রুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত ঠিকঠাক মতো কাজ করছিলেন মুক্তা হরিজন; কিন্তু গত জুন মাসে হঠাৎ করেই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাজে গাফিলতির অভিযোগ এনে মুক্তা হরিজনকে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেন।
এরপর মুক্তা হরিজন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সিএ ইনসানের সঙ্গে দীর্ঘদিন যোগাযোগ করেন ঘুসের টাকা ফেরত নিতে; কিন্তু প্রথম অবস্থায় দেই-দিচ্ছি করে টাকা দিতে গড়িমসি করায় বাধ্য হয়ে ৬ আগস্ট মুক্তা হরিজন জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ দেন।
এ বিষয়ে অভিযোগকারী মুক্তা হরিজন বলেন, সুইপার পদে শ্রীবরদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে ইউএনওর সিএ ইনসান এবং উপজেলা চেয়ারম্যানের ড্রাইভার রফিকের মাধ্যমে প্রথমে পাঁচ লাখ টাকা ঘুস দাবি করলেও আমি এত টাকা দিতে পারব না বলার পর ৪ লাখ টাকায় রাজি হয়। এতে আমার স্বর্ণের গহনা ও বিভিন্ন আসবাবপত্র বিক্রি করে ইনসানের হাতে টাকা দেওয়া হয়। ফেব্রুয়ারি মাস থেকে ইউএনও স্যারের বাসায় সুইপারের কাজ শুরু করি। ইউএনও স্যার আমাকে বাড়ির সব কাজকর্ম করান এতেও আমার অভিযোগ নেই, কিন্তু আমাকে প্রতি মাসে চার দিনের ছুটি চাইলে তিনি দিতেন না। এর প্রতিবাদ করায় আমাকে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেন ইউএনও স্যার। পরে আমি ইনসানের কাছে ঘুসের টাকা ফেরত চাই। সে আজ-কাল করতে করতে দীর্ঘদিন থেকে আমাকে ঘুরাতে থাকলে অবশেষে বাধ্য হয়ে ৬ আগস্ট জেলা প্রশাসক স্যারের কাছে লিখিত আবেদন দেই। এতে তারা জরুরিভাবে আমাকে ডেকে নিয়ে টাকা ফেরত দেন এবং অভিযোগ প্রত্যাহারের লিখিত নেন।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত শ্রীবরদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সিএ ইনসান বলেন, আমাদের কি চাকরি দেওয়ার কোনো ক্ষমতা আছে। চাকরি বা ঘুসের বিষয়ে আমি কিছুই জানি না। তবে আমার বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দিলেও পরবর্তীতে ভুল বুঝে অভিযোগ প্রত্যাহার করে নিয়েছেন মুক্তা হরিজন।
- ট্যাগ:
- বাংলাদেশ
- ঘুষ-দুর্নীতি