আখেরে কারা লাভবান হলেন

যুগান্তর এ কে এম শামসুদ্দিন প্রকাশিত: ১০ আগস্ট ২০২৬, ১২:৩৯

জুলাই গণ-অভ্যুত্থান বাংলাদেশের সাম্প্রতিক ইতিহাসের এক যুগান্তকারী অধ্যায়। ছাত্র-জনতার আত্মত্যাগ, সাহসিকতা এবং গণ-আকাঙ্ক্ষার সম্মিলিত শক্তিতে সংঘটিত এ আন্দোলন রাষ্ট্র, সমাজ এবং গণতান্ত্রিক চেতনার নতুন এক প্রত্যাশার জন্ম দিয়েছে। তাই এ আন্দোলনের ইতিহাস সংরক্ষণ ও দলিলায়ন রাষ্ট্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। কিন্তু এ সংরক্ষণ প্রক্রিয়ায় তথ্যগত অসংগতি এবং বিকৃতি অনাকাঙ্ক্ষিত বিতর্ক ও বিভ্রান্তির জন্ম দিতে পারে। সম্প্রতি জুলাই আন্দোলনকে কেন্দ্র করে সরকারের উদ্যোগে নির্মিত তথ্যচিত্র (ডকুমেন্টারি) এবং জাতীয় পর্যায়ে আয়োজিত অনুষ্ঠানকে ঘিরে যে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে, তা সেই বাস্তবতাকেই সামনে নিয়ে এসেছে।


৫ আগস্ট ঢাকার চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষ্যে আয়োজিত জাতীয় অনুষ্ঠানে যে হট্টগোল ও অস্বস্তিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে, তা নিঃসন্দেহে অনুষ্ঠানের মূল উদ্দেশ্যকে ম্লান করে দিয়েছে। যে আয়োজন শহীদদের আত্মত্যাগের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন, আহতদের সম্মাননা এবং জাতীয় ঐক্যের প্রতীক হওয়ার কথা ছিল, তা শেষ পর্যন্ত বিতর্ক ও মতবিরোধের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়। প্রশ্ন হচ্ছে, এ পরিস্থিতি কি এড়ানো যেত না? যুক্তিসংগতভাবে বলা যায়, সংবেদনশীল বিষয়গুলো আগেভাগে বিবেচনায় নিয়ে সত্যনিষ্ঠা ও নিরপেক্ষ দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে যদি তথ্যচিত্রটি নির্মাণ করা হতো তাহলে এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হতো না। বিশেষ করে যে ঐতিহাসিক জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে অসংখ্য মানুষের রক্ত, ত্যাগ এবং সংগ্রামের ঘটনা জড়িয়ে আছে, সেখানে কোনো ব্যক্তি কিংবা গোষ্ঠীর অবদান অতিরঞ্জিত করা যেমন উচিত নয়, তেমনি কারও অবদান উপেক্ষা করাও সঠিক নয়।


সেদিনের সেই অনুষ্ঠানে প্রদর্শিত তথ্যচিত্রটি প্রায় সোয়া দুই মিনিটের ছিল। তাতে এক পর্যায়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নাম উল্লেখ করে বলা হয়, তার আহ্বানেই বিএনপির নেতা-কর্মীরা ছাত্র-জনতাকে সঙ্গে নিয়ে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে রাস্তায় নেমে আসে। হাজারের ওপর শহীদের আত্মত্যাগে অর্জিত হয় ৫ আগস্ট। তথ্যচিত্রের অন্য একটি দৃশ্যে দেখানো হয়, তারেক রহমান বলছেন, ‘দেশ ও জনগণের স্বাধীনতা রক্ষায়, মানুষকে রক্ষায় এ মুহূর্তের স্লোগান হোক দফা এক, দাবি এক-খুনি হাসিনার পদত্যাগ’। এ তথ্যচিত্র প্রচারের সঙ্গে সঙ্গেই অনুষ্ঠানে উপস্থিত অনেকে প্রতিবাদ জানাতে থাকেন। এ পর্যায়ে আরও একটি ঘটনা ঘটে, যা প্রত্যাশিত ছিল না। মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন উত্তেজিত কণ্ঠে বক্তব্য দিয়ে বসেন। তার এ বক্তব্যে প্রতিবাদকারীরা আরও ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। শেষ পর্যন্ত স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী; জুলাই আন্দোলনের অন্যতম নেতা ও এনসিপির সদস্যসচিব আখতার হোসেনকে মঞ্চে এসে পরিস্থিতি শান্ত করতে বক্তব্য দেওয়ার জন্য অনুরোধ করেন।


সেদিনের মতো পরিস্থিতি সামাল দিয়ে অনুষ্ঠান শেষ করা গেলেও মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের এ কর্মকাণ্ডে মূলধারার গণমাধ্যমসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি বাংলাদেশ সরকারের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজউদ্দিন আহমদ বীরবিক্রমও সেদিন তথ্যচিত্রের ভুলত্রুটি তুলে ধরে সমালোচনা করেন। অনুষ্ঠানে বিশৃঙ্খলা তৈরির জন্যও তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেছেন, ‘এখানে ডকুমেন্টারিতে কিছু ভুল ছিল। প্রথমত, আমি দেখেছি সেখানে আবু সাঈদের কোনো ছবিই রাখা হয়নি। অথচ আবু সাঈদ এ বিপ্লবের মূল প্রতিচ্ছবি। তার ছবি না থাকলে সেটি পূর্ণাঙ্গ ডকুমেন্টারি হতে পারে না। সেখানে আরও ঘাটতি ছিল; দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ছবিও স্থান পায়নি।’


বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোও এ সমালোচনার অংশী হয়েছেন। এ তথ্যচিত্র নিয়ে এনসিপির নেতাদের সবচেয়ে বেশি সোচ্চার হতে দেখা গেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছেন, ‘জুলাই তথ্যচিত্রে ‘একদফা’র ঘোষক বানানো হয়েছে তারেক রহমানকে। যে নাহিদ ইসলাম ২০২৪-এর ৩ আগস্ট নিজের মৃত্যু পরোয়ানায় সাইন করে একদফার ঘোষণা দিলেন তিনি বিএনপির ইতিহাসে নেই, যেই আসিফ মাহমুদ মৃত্যু নিশ্চিত জেনেও ‘লং মার্চ টু ঢাকা’ ঘোষণা করলেন তিনি তাদের ইতিহাসে নেই। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নামচিহ্ন পর্যন্ত নাই। তথ্যচিত্র দেখলে মনে হতে পারে, জুলাইয়ে কোনো গণ-অভ্যুত্থান হয় নাই, হয়েছে বিএনপির দলীয় অভ্যুত্থান।’

সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ুন

প্রতিদিন ৩৫০০+ সংবাদ পড়ুন প্রিয়-তে

আরও