‘দীর্ঘ জুলাইয়ের যুগে’ ঢুকে পড়েছে বাংলাদেশ

প্রথম আলো আলী রীয়াজ প্রকাশিত: ০৯ আগস্ট ২০২৬, ২০:৩৮

জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় এক মাস ধরে যেসব আলাপ-আলোচনা-বিতর্ক হয়েছে এবং এখনো অব্যাহত আছে। তাতে যেমন ২০২৪ সালের মরণপণ লড়াইয়ের স্মৃতি আলোচিত হয়েছে, কার কী ভূমিকা ছিল সেই বিষয়ে কথাবার্তা হয়েছে; তেমনি হয়েছে শহীদের আত্মদানের কথা, তাঁদের প্রিয়জনদের আশা-আকাঙ্ক্ষা-হতাশার কথা। এরই পাশাপাশি কেউ কেউ প্রশ্ন তুলেছেন, জুলাই কি ব্যর্থ হয়ে গেছে? প্রশ্ন উঠেছে, যতটা প্রত্যাশিত ছিল, তার কতটা অর্জিত হয়েছে।


এটা কোনো বিস্ময়কর বিষয় নয় যে স্বাধীনতা-উত্তর বাংলাদেশের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় এই গণ–অভ্যুত্থানের প্রত্যাশা ও প্রাপ্তি নিয়ে আলোচনা হবে। প্রকৃতপক্ষে গত কয়েক দিনের আলোচনাগুলোতে এই বিষয় তুলনামূলকভাবে গুরুত্ব পেয়েছে বলেই আমার কাছে মনে হয়েছে, যা অত্যন্ত ইতিবাচক। এসব আলোচনায় হতাশার সুর যেমন ধ্বনিত হয়েছে, তেমনি জুলাইয়ের তাৎপর্য এবং সুদূরপ্রসারী প্রভাবের বিষয় গুরুত্ব পেয়েছে।


গণ–অভ্যুত্থানের সুদূরপ্রসারী প্রভাব এবং অপূর্ণতাগুলো মূল্যায়নের আগে আমাদের জুলাই অভ্যুত্থানের যে সাফল্য দৃশ্যমান, তা স্মরণ করতে হবে। ‘জুলাই অভ্যুত্থান দীর্ঘ স্বৈরশাসনের অবসান ঘটিয়েছে। জনগণ তাদের হারানো ভোটের অধিকার ফিরে পেয়েছে। স্বৈরশাসনের সময় গুম, খুন, মানবাধিকার লঙ্ঘন ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা যেভাবে সংকুচিত হয়েছিল, জুলাই অভ্যুত্থান সেই ধারাবাহিকতায় ছেদ ঘটিয়েছে এবং সেগুলো দূর করার একটি পরিস্থিতি তৈরি করেছে’ (এ কে এম জাকারিয়া, ‘একটি গণ-অভ্যুত্থান কত দ্রুত ফলাফল দিতে পারে’, প্রথম আলো, ৫ আগস্ট ২০২৬)।


জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের কারণেই শেখ হাসিনাকে পালিয়ে যেতে হয়েছে। এই তালিকায় মানবতাবিরোধী অপরাধে জড়িত ব্যক্তিদের বিচারের প্রক্রিয়া শুরু করাও যুক্ত করা যায়। এগুলোর তাৎপর্য সীমাহীন।


অন্যদিকে আছে জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের মধ্যে দিয়ে প্রতিষ্ঠিত অন্তর্বর্তী সরকারের সাফল্য ও ব্যর্থতা। কার্যত ভেঙে পড়া একটি অর্থনীতির ক্রমাগত পতনকে বন্ধ করে অর্থনীতির চাকা সচল রাখা, সীমিত আকারে হলেও ব্যাংকিং খাত থেকে শুরু করে জনপ্রশাসন ও বিচার বিভাগ পর্যন্ত শাসনব্যবস্থার অনেক ক্ষেত্রে সংস্কার সাধনের চেষ্টা করা সরকারের সাফল্যের তালিকায় থাকবে।


এসব প্রচেষ্টার প্রমাণ হচ্ছে, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় জারি করা অধ্যাদেশগুলো। এর মধ্যে বেশ কিছু পদক্ষেপ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ছিল। এর অনেকগুলোই সংসদে অনুমোদিত হয়েছে, কিছু গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ বাতিলও হয়ে গেছে। স্মরণ করা দরকার যে দৈনন্দিন রাষ্ট্র পরিচালনার কঠিন চ্যালেঞ্জ, রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যকার ঐক্যে ফাটল, দলগুলোর মধ্য ভারসাম্য রক্ষার চেষ্টা, প্রশাসনের ভেতর থেকে সংস্কারকাজে বাধা, রাস্তায় নেমে আসা নিত্যনতুন দাবির চাপ এবং ক্ষমতাচ্যুত স্বৈরাচারের দোসরদের অব্যাহত ষড়যন্ত্র—এ সবকিছুই অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের জন্য প্রতিবন্ধকতা তৈরি করেছে।


দুর্ভাগ্যবশত, সরকারের অভ্যন্তরীণ দুর্বলতা এবং অশুভ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও পশ্চাৎপদ চিন্তাচেতনার বিভিন্ন গোষ্ঠীর উত্থানের বিপরীতে সরকারের জোরালো পদক্ষেপের অভাব ছিল। মব কালচার বা ‘উচ্ছৃঙ্খল জনতার সংস্কৃতির’ উত্থান গণ–অভ্যুত্থানপরবর্তী সামাজিক পরিবর্তনের একটি নেতিবাচক স্মারক হিসেবেই চিহ্নিত হয়ে থাকবে।


একইভাবে নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে নারীদের উপস্থিতির স্বল্পতা এবং অভ্যুত্থানে তাঁদের অবদানের স্বীকৃতির অভাবও সমপরিমাণে উদ্বেগজনক। কট্টরপন্থী গোষ্ঠীগুলোর দ্বারা দুটি শীর্ষস্থানীয় সংবাদপত্রের ওপর হামলা ঠেকাতে সরকারের ব্যর্থতা, তাদের একটি অপেক্ষাকৃত স্বাধীন গণমাধ্যম পরিবেশ বজায় রাখার কৃতিত্বকেও ম্লান করে দিয়েছে।


যেহেতু অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতিষ্ঠা অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়েই, সেহেতু ওই সরকারের সাফল্য এবং সীমাবদ্ধতাকে গণ–অভ্যুত্থানের সাফল্য এবং তার ভবিষ্যৎ প্রভাবের সঙ্গে যুক্ত করেই বিবেচনা করা হয়। সেটা আপাতদৃষ্টিতে স্বাভাবিক। কিন্তু জুলাই অভ্যুত্থানকে কেবল এই মানদণ্ডে বিবেচনা করলে এই অভ্যুত্থানের প্রকৃত রূপ, চরিত্র, আকাঙ্ক্ষা এবং তার ভবিষ্যৎ উপলব্ধি করা যাবে না।


এ ধরনের মানদণ্ড ব্যবহারের কারণেই কেউ কেউ এই রকম উপসংহারে পৌঁছাচ্ছেন যে যেহেতু অন্তর্বর্তী সরকারের সময় অনেক প্রত্যাশার দৃশ্যমান বাস্তবায়ন ঘটেনি, সেহেতু এই আকাঙ্ক্ষাগুলো ক্রমেই অবসিত হবে এবং ইতিমধ্যে একধরনের হতাশা তৈরি হচ্ছে।

সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ুন

প্রতিদিন ৩৫০০+ সংবাদ পড়ুন প্রিয়-তে

আরও