You have reached your daily news limit

Please log in to continue


কথার জাদু নয়, কাজেও প্রমাণ দিতে হবে

অনেক দিন আগে কবি কুসুমকুমারী দাশ লিখেছিলেন—‘আমাদের দেশে হবে সেই ছেলে কবে/ কথায় না বড় হয়ে কাজে বড় হবে।’ কবি তখন সম্ভবত কল্পনাও করেননি, একদিন এমন সময় আসবে যখন মানুষ কথায় শুধু বড় হবে না, কথার ওপর আবার ‘লাইক’, ‘শেয়ার’ ও ‘কমেন্ট’ও জমা করবে। কাজের হিসাব অবশ্য আলাদা। সেখানে অনেক সময় দেখা যায়—বক্তৃতার পাহাড়, কাজের টিলা।

আমাদের দেশে কথা বলা একটি বিশেষ প্রতিভা। কেউ সুযোগ পেলেই কথা বলেন, কেউ সুযোগ না পেলেও কথা বলেন। কেউ মাইক হাতে পেলে থামতে চান না, কেউ মাইক না পেলে ফেসবুক লাইভে চলে যান। আর কেউ কেউ এমনভাবে কথা বলেন যে মনে হয়, দেশের সব সমস্যার সমাধান হয়ে গেছে—শুধু বাস্তবতা বিষয়টি এখনো বুঝে উঠতে পারেনি।

রাজনীতির মাঠে কথার জাদু বহু পুরোনো। সভা-সমাবেশে বক্তৃতা শুনলে মনে হয়, আগামীকাল সকালেই দেশ বদলে যাবে। রাস্তা হবে ঝকঝকে, নদী হবে স্বচ্ছ, যানজট ইতিহাসের পাতায় চলে যাবে, দুর্নীতি দেশত্যাগ করবে, বেকারত্ব আত্মসমর্পণ করবে। বক্তৃতা শেষ হলে হাততালি পড়ে। মানুষ বাড়ি ফেরে। তারপর সকাল হয়। বাস্তবতা জানায়—পরিবর্তনটি এখনো রওয়ানা দেয়নি।

আমাদের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে কথা বলা কখনো কখনো কাজের বিকল্প হয়ে দাঁড়িয়েছে। সংসদে দীর্ঘ বক্তৃতা, সভায় জোরালো বক্তব্য, টেলিভিশন টক শোতে তর্ক, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে স্ট্যাটাস—সব মিলিয়ে কথা বলার অভাব নেই। অভাব শুধু মাঝে মাঝে কাজের।

কথার অবশ্য প্রয়োজন আছে। কথা মানুষকে অনুপ্রাণিত করে, নেতৃত্ব তৈরি করে, অন্যায়ের বিরুদ্ধে মানুষকে দাঁড় করায়। ইতিহাসের বড় পরিবর্তনের আগে শক্তিশালী কথা উচ্চারিত হয়েছে। একটি ভালো বক্তব্য মানুষের মন বদলে দিতে পারে। কিন্তু কথা যদি কাজের সঙ্গে না মেলে, তখন তা আর প্রেরণা থাকে না; হয়ে যায় শব্দের আতশবাজি।

আতশবাজি দেখতে সুন্দর। কিছুক্ষণ আকাশ আলোকিত করে। তারপর অন্ধকার ফিরে আসে।

আমাদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের যুগে এই কথার আতশবাজি আরও বেড়েছে। কেউ সকালে ঘুম থেকে উঠে দেশ উদ্ধারের পোস্ট দেন, দুপুরে মানবতার জন্য উদ্বেগ প্রকাশ করেন, বিকেলে নৈতিকতার ওপর বক্তৃতা দেন এবং রাতে অন্যের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে এমন মন্তব্য করেন যে নৈতিকতা নিজেই হয়তো লজ্জায় লগআউট করে।

আমরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এমন এক জাতিতে পরিণত হচ্ছি, যেখানে সবাই বিশেষজ্ঞ। কেউ অর্থনীতি বোঝেন, কেউ রাজনীতি, কেউ আন্তর্জাতিক সম্পর্ক, কেউ চিকিৎসা, কেউ জলবায়ু, কেউ ক্রিকেট। পাঁচ মিনিটের একটি ভিডিও দেখে কেউ বিশ্বরাজনীতির সমাধান দেন। একটি পোস্ট পড়ে কেউ অর্থনীতির দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা তৈরি করেন। আর কোনো বিষয়ে কিছুই না জানলেও আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে মতামত দেওয়ার ক্ষেত্রে আমাদের জাতির অসাধারণ দক্ষতা রয়েছে।

সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ুন