আর্জেন্টিনা, ইসরায়েল, ফুটবল ও সমসাময়িক ভূরাজনীতির নতুন সমীকরণ

বিশ্বায়নের যুগে খেলাধুলা, বিশেষ করে ফুটবল, আর কেবল বিনোদন বা প্রতিযোগিতার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। এটি আজ রাষ্ট্রের পরিচয়, কূটনৈতিক বার্তা, নরম শক্তি (Soft Power) এবং আন্তর্জাতিক রাজনীতির একটি কার্যকর মাধ্যম হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে গাজা যুদ্ধ, ইউক্রেন সংকট, ফকল্যান্ড প্রশ্ন কিংবা জাতীয় পরিচয়সংক্রান্ত নানা ইস্যু ফুটবল মাঠে প্রতীকীভাবে উপস্থিত হয়েছে। এই প্রবন্ধে আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলেইর ইসরায়েলমুখী পররাষ্ট্রনীতি, আর্জেন্টিনা–ইসরায়েল সম্পর্কের নতুন বাস্তবতা এবং তার সম্ভাব্য প্রতিফলন আন্তর্জাতিক ফুটবল ও সমসাময়িক ভূরাজনীতির আলোকে বিশ্লেষণ করা হয়েছে।


ফুটবল, ভূরাজনীতি ও বৈশ্বিক রাজনৈতিক প্রতীক


ফুটবল এবং ভূরাজনীতিঃ ফুটবলকে প্রায়ই বলা হয় "The Beautiful Game"—একটি খেলা যা রাজনীতি, ধর্ম ও জাতিগত বিভাজনের ঊর্ধ্বে থাকার কথা। কিন্তু বাস্তবে আন্তর্জাতিক ফুটবল বহুবার রাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতি, জাতীয়তাবাদ এবং ভূরাজনৈতিক সংঘাতের প্রতিফলন ঘটিয়েছে। ১৯৭৮ সালের আর্জেন্টিনা বিশ্বকাপ থেকে শুরু করে ১৯৮২ সালের ফকল্যান্ড যুদ্ধ-পরবর্তী আর্জেন্টিনা–ইংল্যান্ড ম্যাচ, কিংবা সাম্প্রতিক গাজা যুদ্ধ—সব ক্ষেত্রেই ফুটবল একটি রাজনৈতিক প্রতীকী মঞ্চে পরিণত হয়েছে। ২০২৩ সালে প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলেই ক্ষমতায় আসার পর আর্জেন্টিনার পররাষ্ট্রনীতি নাটকীয়ভাবে পরিবর্তিত হয়। তাঁর সরকার ইসরায়েলকে অন্যতম প্রধান কৌশলগত মিত্র ঘোষণা করে এবং যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েলমুখী অবস্থান গ্রহণ করে। এর প্রভাব শুধু কূটনীতিতেই নয়, আন্তর্জাতিক ফুটবলের গ্যালারিতেও প্রতিফলিত হতে শুরু করেছে।  আগের আর্জেন্টাইন সরকারগুলো সাধারণত মধ্যপ্রাচ্য প্রশ্নে তুলনামূলক ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থান নিত। কিন্তু মিলেই সরকার একটি স্পষ্ট আদর্শিক পরিবর্তন আনে। ২০২৩ সালের পর গাজা যুদ্ধ বিশ্ব ক্রীড়াঙ্গনেও বড় বিভাজন সৃষ্টি করে। বিশ্বের বিভিন্ন স্টেডিয়ামে দেখা যায়—ফিলিস্তিনের পতাকা, ইসরায়েলের পতাকা, যুদ্ধবিরতির দাবি এবং রাজনৈতিক ব্যানার।


১৯৩৬ সালের বার্লিন অলিম্পিক নাৎসি জার্মানির রাজনৈতিক প্রচারণার অংশে পরিণত হয়েছিল। ১৯৭৮ সালের আর্জেন্টিনা বিশ্বকাপ সামরিক জান্তার বৈধতা প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টার সঙ্গে যুক্ত ছিল। ১৯৮৬ সালের আর্জেন্টিনা–ইংল্যান্ড ম্যাচে "Hand of God" গোল ফকল্যান্ড যুদ্ধ-পরবর্তী জাতীয় আবেগের প্রতীক হয়ে ওঠে। সাম্প্রতিক সময়ে রাশিয়া–ইউক্রেন যুদ্ধ এবং কাতার বিশ্বকাপ ঘিরেও মানবাধিকার ও রাজনীতির প্রশ্ন আন্তর্জাতিক ক্রীড়াঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। ফলে ফুটবল মাঠ ধীরে ধীরে একটি Global Political Theatre-এ পরিণত হতে শুরু করে এবং এটি আন্তর্জাতিক সম্পর্কের একটি গুরুত্বপূর্ণ গবেষণাক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে।


ফুটবল বিশ্বকাপ-২০২৬-এ আর্জেন্টিনা-মিশর খেলাঃ ২০২৬ বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনা–মিশর ম্যাচ একটি সাধারণ নকআউট ম্যাচ ছিল না। ম্যাচটিতে কয়েকটি বিষয় একসঙ্গে উপস্থিত হয়—মিশরের কোচ গাজার মানুষের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেন, কিছু মিশরীয় সমর্থক ফিলিস্তিনের পতাকা বহন করেন, এর জবাবে কিছু আর্জেন্টিনা সমর্থক ইসরায়েলের পতাকা প্রদর্শন করেন এবং সামাজিক মাধ্যমে ম্যাচটি দ্রুত গাজা যুদ্ধের প্রতীকী সংঘর্ষে রূপ নেয়। এটি ছিল দর্শকদের একটি অংশের রাজনৈতিক অবস্থানের বহিঃপ্রকাশ। তবে এ বিষয়ে FIFA বা আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (AFA) কোনো আনুষ্ঠানিক রাজনৈতিক অবস্থান প্রকাশ করেনি।  বিশ্লেষণে, অনেক গবেষক মনে করেন—মিলেই সরকারের প্রকাশ্য ইসরায়েলপন্থি অবস্থান কিছু সমর্থককে একই ধরনের রাজনৈতিক পরিচয় প্রকাশে উৎসাহিত করেছে। অন্যদিকে অনেক বিশ্লেষক বলেন—কয়েকজন সমর্থকের কর্মকাণ্ডকে পুরো আর্জেন্টিনা জাতির অবস্থান হিসেবে দেখা উচিত নয়। কারণ—আর্জেন্টিনায় উল্লেখযোগ্য ফিলিস্তিনি-সমর্থক নাগরিকও আছেন, দেশটির রাজনৈতিক মতাদর্শ অত্যন্ত বহুমাত্রিক এবং ফুটবল সমর্থকদের আচরণ রাষ্ট্রের নীতির সরাসরি প্রতিফলন নাও হতে পারে।

সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ুন

প্রতিদিন ৩৫০০+ সংবাদ পড়ুন প্রিয়-তে

আরও