মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, আপনার শিক্ষামন্ত্রীকে সামলান
এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা নাকি ‘ফার্মের মুরগি’। ঢাকাসহ সারাদেশে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা মিছিলে মিছিলে ঝড় তুলেছেন। তারা স্লোগান তুলেছেন, ‘তুমি কে, আমি আমি কে? ফার্মের মুরগি, ফার্মের মুরগি’! শিক্ষার্থীরা কেন সেধে ফার্মের মুরগি হতে চাইছেন? কারণ ক্ষোভ।
আমাদের বিজ্ঞ, অতি-উৎসাহী এবং সর্বদা কৌতুকপ্রিয় শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন গেল ১৩ জুলাই শিক্ষার্থীদের ‘ফার্মের মুরগি’র সঙ্গে তুলনা করেছেন। এতেই চটেছেন শিক্ষার্থীরা! এখন তাদের সাফ কথা: ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ক্ষমা চাইতে হবে, নয়তো পদত্যাগ করতে হবে। জিপিএ-৫ এর লোভে দিনরাত পড়ালেখা করা ছেলেমেয়েরা যে এভাবে ‘কক কক’ করে রাজপথে নেমে আসবে, তা বোধহয় মন্ত্রী মহোদয় তার দিবাস্বপ্নেও ভাবেননি। অবশেষে তিনি এই ফার্মের মুরগিদের কাছে ক্ষমা চেয়েছেন বলে খবরে প্রকাশ পেয়েছে।
শিক্ষামন্ত্রীর সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তগুলো দেখে মনে হচ্ছিল, শিক্ষার্থীদের ওপর চাপ বাড়ানোই যেন তার নীতির অন্যতম বৈশিষ্ট্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের একজন মেয়েকে দেখলাম, তাকে ‘স্ট্রেস মন্ত্রী’ আখ্যায়িত করে প্রধানমন্ত্রীর কাছে তাকে থামানোর আবেদন করছেন।
এই ‘চাপমন্ত্রী’ এর আগে এসএসসি পরীক্ষার সময়সূচি এগিয়ে আনার সিদ্ধান্ত ঘোষণার সময় মনে রাখেননি, তার ইচ্ছে অনুযায়ী জানুয়ারিতে এসএসসি পরীক্ষা হতেই পারে। হওয়া উচিত। কিন্তু এবারই কেন? সিদ্ধান্ত নেওয়ার দৃঢ়প্রতিজ্ঞা ব্যক্ত করার আগে পাঠ্যবই বিতরণের ক্ষেত্রে যে ওই গতি ছিল না তা একবারের জন্যও ভেবে দেখেননি। তার ঘোষণা সত্যি হলে, আসছে বছর জানুয়ারিতে যারা এসএসসি পরীক্ষা দেবেন, তাদের বই পাওয়ার কথা ছিল ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে। কিন্তু সেই বই ঢাকায় ২০২৫ সালের এপ্রিলে এবং ঢাকার বাইরে জুন-জুলাইয়ে বিতরণ শেষ হয়েছিল। তখন এহছানুল হক মিলন মন্ত্রীর দায়িত্বে ছিলেন না। তাই বলে বই বিতরণে বিলম্বের দায় তো এড়াতে পারেন না। কিন্তু এসএসসি পরীক্ষার তারিখ নির্ধারণের সময় তিনি ওই বিষয়টি মাথায় রাখেননি। বই দিতে দেরি হওয়ার পরও যদি ২০২৫ সালেই জানিয়ে দেওয়া হতো পরীক্ষা হবে ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে, তাহলে পরীক্ষার্থীরা হয়তো নিজেদের মতো করে প্রস্তুত হতে পারত। এহছানুল হক মিলন যখন ঘোষণা করলেন এসএসসি পরীক্ষা হবে জানুয়ারিতে, তখন এপ্রিলে পরীক্ষা দেওয়ার জন্য প্রস্ততি নেওয়া ছোট ছোট বাচ্চাগুলো হতভম্ব হয়ে পড়েছে। আজ এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা নেমেছে মাঠে, অন্য কোনোদিন যে এসএসসি পরীক্ষার্থীরা নামবে না, তার নিশ্চয়তা কে দিচ্ছে আমাদের মন্ত্রী মহোদয়কে? মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, আপনার এই চাপমন্ত্রীকে সামলান, ভুলে যাবেন না, আমাদের স্কুল-পড়ুয়া ছেলেমেয়েরাই নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের সময় রাজপথে নেমে আওয়ামী লীগ সরকারের ভিত ধরে নাড়িয়ে দিয়েছিল।
পরীক্ষার দিনক্ষণ নির্ধারণের ক্ষেত্রে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মতামত কতটা গুরুত্ব পাচ্ছে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার বিষয়। পরীক্ষার রুটিনে পর্যাপ্ত বিরতি না রাখা, প্রতিকূল আবহাওয়ার মধ্যেও পরীক্ষা চালিয়ে যাওয়া, পাঠ্যসূচির বাইরে প্রশ্নের অভিযোগ এবং শিক্ষার্থীদের অবজ্ঞাসূচক মন্তব্য, এসব বিষয় শিক্ষামন্ত্রীর সিদ্ধান্ত গ্রহণের ধরন নিয়ে সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।