শিশুদের ক্যান্সারের মধ্যে লিউকেমিয়া সবচেয়ে বেশি দেখা যায়
শিশুদের ক্যান্সার প্রাপ্তবয়স্কদের ক্যান্সার থেকে কীভাবে আলাদা?
শিশু ও প্রাপ্তবয়স্কদের ক্যান্সারের উৎস এবং বৈশিষ্ট্যের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য রয়েছে। প্রাপ্তবয়স্কদের ক্যান্সারের ক্ষেত্রে পরিবেশগত প্রভাব, জীবনযাপন ও দীর্ঘমেয়াদি বিভিন্ন ঝুঁকির বিষয় বেশি কাজ করে। অন্যদিকে শিশুদের ক্যান্সারে জেনেটিক বা বংশগত কারণের ভূমিকা তুলনামূলক বেশি। এছাড়া প্রাপ্তবয়স্কদের ক্যান্সার অনেক সময় ধীরে ধীরে প্রকাশ পায়, কিন্তু শিশুদের ক্যান্সারের উপসর্গ দ্রুত দেখা দেয় এবং দ্রুত চিকিৎসা শুরু করাও জরুরি। আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো অনেক প্রাপ্তবয়স্ক ক্যান্সারের চিকিৎসা জীবন দীর্ঘায়িত করলেও পুরোপুরি নিরাময় সবসময় সম্ভব হয় না। কিন্তু শিশুদের ক্যান্সারের বড় একটি অংশ সম্পূর্ণ নিরাময় করা সম্ভব এবং তারা পরবর্তী সময়ে স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারে।
বিশ্বব্যাপী ও বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে শিশুদের ক্যান্সারের বর্তমান পরিস্থিতি কী?
উন্নত দেশগুলোয় সচেতনতা বৃদ্ধি ও দ্রুত রোগ নির্ণয়ের কারণে শিশুদের ক্যান্সার চিকিৎসার ফলাফল অনেক ভালো। অনেক ক্ষেত্রে ৮০ শতাংশের বেশি শিশু সুস্থ হয়ে ওঠে। বাংলাদেশে প্রধান সমস্যা হলো রোগ নির্ণয়ে দেরি হওয়া। বিশেষ করে কিডনি, লিভার, স্নায়ুতন্ত্রসহ বিভিন্ন সলিড টিউমারের ক্ষেত্রে রোগী যখন চিকিৎসকের কাছে আসে, তখন অনেক সময় রোগ প্রথম বা দ্বিতীয় পর্যায় থেকে চতুর্থ পর্যায়ে পৌঁছে যায়। ফলে চিকিৎসার ফলাফলও কমে যায়। তবে সব সীমাবদ্ধতার মধ্যেও গত ১০ বছরের তুলনায় বর্তমানে দেশের শিশু ক্যান্সার চিকিৎসার মান ও ফলাফল অনেক উন্নত হয়েছে।