শব্দদূষণ : টেকসই নগর উন্নয়নের অন্তরায় নীরব ঘাতকের সরব উপস্থিতি সর্বত্র

ঢাকা পোষ্ট আহমদ কামরুজ্জমান মজুমদার প্রকাশিত: ১০ জুলাই ২০২৬, ১০:৫৪

বাংলাদেশের দ্রুত নগরায়ণ, শিল্পায়ন, জনসংখ্যা বৃদ্ধি এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নের ধারাবাহিক অগ্রযাত্রা এদেশের পরিবেশগত ভারসাম্যে নানাবিধ চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে। এসব চ্যালেঞ্জের মধ্যে শব্দদূষণ একটি অত্যন্ত ক্ষতিকর সমস্যা, যা প্রতিনিয়ত নগর ও গ্রামীণ উভয় অঞ্চলের মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত করেই চলেছে।


সাধারণত আমরা পরিবেশ দূষণ বলতে বায়ু, পানি বা মাটির দূষণ বুঝি, কিন্তু শব্দদূষণকে অনেকেই এখনো ততটা গুরুত্ব দিয়ে দেখে না। অথচ শব্দদূষণ একটি ‘নীরব ঘাতক’ হিসেবে পরিচিত, কারণ এর ক্ষতিকর প্রভাব চোখে দেখা যায় না, তবে দীর্ঘমেয়াদে এটি মানবস্বাস্থ্য, মানসিক স্থিতিশীলতা এবং সামাজিক জীবনযাত্রার ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলে।


বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO)-এর তথ্যমতে, মানুষের জন্য সহনীয় শব্দমাত্রা ৬৫ ডেসিবেল। এর থেকে বেশি মাত্রার শব্দের মাঝে থাকলে কানের ক্ষতি করতে পারে এবং মানসিক চাপ সৃষ্টি করে। অথচ বাংলাদেশে, বিশেষ করে ঢাকা, চট্টগ্রাম, খুলনা, রাজশাহীসহ প্রধান শহরগুলোতে শব্দমাত্রা ৮৫ থেকে ১২০ ডেসিবেল পর্যন্ত পৌঁছে যায়, যা স্বাস্থ্য ঝুঁকির জন্য অত্যন্ত বিপজ্জনক।


পরিবেশ অধিদপ্তর কর্তৃক নির্ধারিত মানমাত্রা হলো, আবাসিক এলাকায় দিনে ৫৫ ডেসিবেল এবং রাতে ৪৫ ডেসিবেল, বাণিজ্যিক এলাকায় দিনে ৭০ ডেসিবেল, রাতে ৬০ ডেসিবেল এবং সংবেদনশীল এলাকায় দিনে ৫০ ডেসিবেল ও রাতে ৪০ ডেসিবেল সীমা, কিন্তু বাস্তবে দেখা যায়, এই মানদণ্ডগুলো প্রায়শই মানা হয় না।


বাংলাদেশে শব্দদূষণের উৎস নানাবিধ। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় উৎস হলো যানবাহন ও হর্নের অপ্রয়োজনীয় ব্যবহার। নগর জীবনে যানজট একটি নিয়মিত ঘটনা এবং যানজটের সময় বাস, ট্রাক, মিনিবাস, মোটরসাইকেল ইত্যাদি যানবাহনের চালকেরা অপ্রয়োজনীয়ভাবে হর্ন বাজাতে থাকে। এটি শুধু শ্রবণশক্তির ক্ষতি করে না, পাশাপাশি মানসিক বিরক্তি এবং অস্থিরতা সৃষ্টি করে।


অনেক চালক অত্যধিক শব্দযুক্ত প্রেশার হর্ন ব্যবহার করেন, যা আইনত নিষিদ্ধ হলেও প্রায়শই ব্যবহৃত হয়। তাছাড়া পুরোনো ও ত্রুটিপূর্ণ যানবাহনের ইঞ্জিনের শব্দ, ব্রেকের শব্দ ইত্যাদিও শব্দ মাত্রা বাড়িয়ে দেয়।


দ্বিতীয়ত, নির্মাণকাজ শব্দদূষণের অন্যতম প্রধান কারণ। শহরের উন্নয়নমূলক প্রকল্প, যেমন উঁচু ভবন নির্মাণ, রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ি, ড্রিলিং, সেতু ও ফ্লাইওভার নির্মাণ ইত্যাদি প্রকল্পের ভারী যন্ত্রপাতির আওয়াজ আশেপাশের বাসিন্দাদের শান্তি নষ্ট করে। অনেক সময় এই কাজ রাতের বেলাতেও চালানো হয়, যার ফলে মানুষের ঘুম ও বিশ্রাম ব্যাহত হয়। উন্নয়নের জন্য এসব কাজ জরুরি হলেও শব্দ নিয়ন্ত্রণে পর্যাপ্ত উদ্যোগ না থাকায় সমস্যাটি প্রকট আকার ধারণ করে।


তৃতীয়ত, সামাজিক অনুষ্ঠান ও ধর্মীয় কার্যক্রমে লাউডস্পিকারের অতিরিক্ত ব্যবহারও একটি গুরুতর সমস্যা। বিয়ে, রাজনৈতিক সমাবেশ, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, ঈদ, পূজা, ওয়াজ মাহফিল বা অন্যান্য ধর্মীয় অনুষঙ্গের সময় লাউডস্পিকার ব্যবহার করা হয়, যা অনেক ক্ষেত্রে শব্দের মানদণ্ডের বাইরে চলে যায়। গ্রামের এলাকাতেও মাইকিংয়ের মাধ্যমে প্রচারণা চালানো হয়, যা স্থানীয় বাসিন্দাদের বিরক্তির কারণ হয়। বিশেষ করে রাতের বেলায় বা পরীক্ষা চলাকালীন সময়ে এই ধরনের শব্দ মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রাকে বিঘ্নিত করে।


চতুর্থত, শিল্পকারখানা, ছোট ওয়ার্কশপ, গ্যারেজ এবং লোহার কারখানার শব্দও একটি বড় সমস্যা। এসব স্থানে ব্যবহৃত ভারী মেশিনের শব্দ আশেপাশের এলাকায় শব্দমাত্রা অনেক বাড়িয়ে দেয়। বিমানবন্দর ও রেললাইন সংলগ্ন এলাকায় বসবাসকারীদের জন্য বিমানের উড্ডয়ন ও ট্রেনের শব্দ অতিরিক্ত বিরক্তির কারণ।

সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ুন

প্রতিদিন ৩৫০০+ সংবাদ পড়ুন প্রিয়-তে

আরও