ট্রেজারি বন্ডে ব্যাংকের অতিবিনিয়োগ ভালো লক্ষণ নয়

কালের কণ্ঠ নিরঞ্জন রায় প্রকাশিত: ০৯ জুলাই ২০২৬, ০৯:১২

ব্যাংকের অন্যতম প্রধান কার্যক্রম হচ্ছে জনগণের কাছ থেকে সঞ্চয় সংগ্রহ করা এবং দেশের ব্যবসায়ী বা বিনিয়োগকারীদের মাঝে ঋণ বিতরণ করা। ব্যাংক দেশের অর্থনীতিতে অর্থ সঞ্চালনের ক্ষেত্রে একটি সেতুবন্ধ বা ব্রিজিং প্রতিষ্ঠানের মতো কাজ করে।

ব্যাংক মূল কাজের বাইরে আরো কিছু কাজ করে; যেমন—অর্থ স্থানান্তর, বৈদেশিক বাণিজ্য বা এলসি (লেটার অব ক্রেডিট), অবিনিয়োগ খাতে ঋণ প্রদান, যথা—ক্রেডিট কার্ড, ভোগ্যপণ্য ঋণ প্রভৃতি। তবে ব্যাংকের এসব সেবা মূলত আনুষঙ্গিক কাজ। উন্নত বিশ্বে অবশ্য ব্যাংকের কার্যক্রমের যথেষ্ট আধুনিকায়ন এবং বহুমুখীকরণ সাধিত হয়েছে। সেখানে ব্যাংক একজন ব্যবসায়ী বা বিনিয়োগকারীর আর্থিক পরামর্শক হিসেবে কাজ করে।

গ্রাহকের পক্ষে মার্জার ও অ্যাকুইজিশন, ঋণ ক্রয়-বিক্রয় বা লোন ট্রেডিং, গ্রাহকের ক্যাশ ম্যানেজমেন্ট, পোর্টফোলিও ম্যানেজমেন্ট, সম্পদ ব্যবস্থাপনা বা ওয়েলথ ম্যানেজমেন্ট, গ্রাহকদের বন্ড মার্কেট থেকে অর্থ সংগ্রহ করে দেওয়া, কমোডিটি ট্রেডে অংশ নেওয়া এবং এ রকম আরো অনেক আর্থিক সেবা উন্নত বিশ্বের ব্যাংক থেকে প্রদান করা হয়। এতসব আধুনিক ব্যাংকিং সেবার প্রচলন এবং ব্যাংকিং কার্যক্রমের ব্যাপক বহুমুখীকরণ হওয়া সত্ত্বেও এখানকার ব্যাংকের অন্যতম প্রধান কার্যক্রম হচ্ছে সঞ্চয় সংগ্রহ এবং ঋণদান। কেননা ব্যাংক যদি এই দুটি মৌলিক কার্যক্রমকে গুরুত্বহীন করে ফেলে, তখন ব্যাংক আর ব্যাংক থাকে না, নন-ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়। 


উন্নত বিশ্বের এসব আধুনিক ব্যাংকিং সেবার কিছু প্রোডাক্ট অনেক উন্নয়নশীল দেশের ব্যাংকিং খাত অনুসরণ করলেও আমাদের দেশের ব্যাংকিং খাত এসবের ধারেকাছেও নেই। আমাদের দেশের ব্যাংক মূলত সঞ্চয় সংগ্রহ এবং ঋণদানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ। সম্প্রতি অনেক ব্যাংক সঞ্চয় সংগ্রহের কাজটি ঠিক রাখলেও ঋণদান কার্যক্রমে আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছে। ঋণ প্রদানের বিকল্প হিসেবে অনেক ব্যাংকই এখন ট্রেজারি বন্ডে বিনিয়োগ করছে। কিছু ব্যাংক এই ট্রেজারি বন্ডে বিনিয়োগ করে তাদের বার্ষিক মুনাফার লক্ষ্য অর্জন করতে পারছে। ট্রেজারি বন্ডে ব্যাংকের ব্যাপক বিনিয়োগকে উৎসাহিত করেছে এই বন্ডের উচ্চ সুদের হার এবং সর্বনিম্ন বা শূন্য খেলাপি ঝুঁকি।

কিছুদিন আগেও আমাদের দেশে ট্রেজারি বন্ডে গড় সুদের হার ছিল ১২ শতাংশ বা তার বেশি। সম্প্রতি এই সুদের হার কিছুটা হ্রাস পেলেও এখনো ১০ শতাংশের কাছাকাছি বলেই জেনেছি। ট্রেজারি বন্ডে সুদের হার এত বেশি হবে কেন। ট্রেজারি বন্ডের সুদের হার ১০ শতাংশ মূলত বাণিজ্যিক ঋণের ১৫ শতাংশ সুদের সমান বা তার বেশি। কেননা ট্রেজারি বন্ড হচ্ছে সার্বভৌম বিনিয়োগ খাত, যেখানে খেলাপি বা ডিফল্ট ঝুঁকি নেই বললেই চলে। ফলে সুদের হার নির্ধারণে ঝুঁকির মূল্য বা রিস্ক প্রিমিয়াম থাকে না। 


বাণিজ্যিক ঋণের সুদের হার নির্ণয় করা হয় কস্ট অব ফান্ডের সঙ্গে পরিচালনা খরচ, মুনাফার অংশ এবং রিস্ক প্রিমিয়াম যোগ করে। বাণিজ্যিক ঋণে সাধারণত ৫-৬ শতাংশ রিস্ক প্রিমিয়াম হওয়ার কথা। অথচ ট্রেজারি বন্ডের সুদের হারের ক্ষেত্রে রিস্ক প্রিমিয়াম শূন্য। এই হিসাব-নিকাশ আবার ট্রেজারি বন্ডের ক্ষেত্রে হুবহু খাটে না। সরকার তাঁর সুবিধামতো মুদ্রাবাজারের গতি-প্রকৃতি বিবেচনায় নিয়ে ট্রেজারি বন্ড বা সরকারি বন্ডের সুদের হার নির্ধারণ করে থাকে। সাধারণত সার্বভৌম বন্ডে সুদের হার ৪ থেকে ৬ শতাংশের মধ্যে হওয়ার কথা। অনেকেই বলার চেষ্টা করবেন যে এত কম সুদে কেউ ট্রেজারি বন্ডে বিনিয়োগ করতে আগ্রহ দেখাবে না। ধারণাটা পুরোপুরি ঠিক নয়। কম সুদেও মানুষ সার্বভৌম বন্ডে বিনিয়োগ করতে আগ্রহী হয়। মূলকথা হচ্ছে, সরকারের পক্ষে এত বেশি সুদ দিয়ে অর্থ সংগ্রহ করা মোটেই বাস্তবসম্মত হতে পারে না। কেননা এতে ভবিষ্যতে মারাত্মক ক্ষতির সম্মুখীন হতে পারে। এমনকি সরকার এমন এক পর্যায়ে চলে যেতে পারে, যখন ঋণ নিয়ে ঋণের সুদ পরিশোধ করতেই গলদঘর্ম হয়ে যেতে পারে। এককথায় সরকার ঋণের দুষ্টচক্রে আটকে যেতে পারে, যেখান থেকে খুব সহজে বের হওয়া সম্ভব হবে না।

সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ুন

প্রতিদিন ৩৫০০+ সংবাদ পড়ুন প্রিয়-তে

আরও